kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

শ্যুটিংয়ের উল্টো রথে ভারত-বাংলাদেশ

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শ্যুটিংয়ের উল্টো রথে ভারত-বাংলাদেশ

ভারত, ভারত, ভারত। শ্যুটিংয়ে কাল দিনের শেষ ইভেন্ট ৫০ মিটার থ্রি পজিশনের র‍্যাংকিং এটি। তার আগে হয়ে যাওয়া আব্দুল্লাহেল বাকীর ১০ মিটার এয়ার রাইফেলেও ভারত, ভারত, এরপর বাকী। আগের দুই দিনেও ছয় ইভেন্টের পাঁচটিই ভারতময়। এটা অপ্রত্যাশিত নয়। অবাক করা হলো গত চার বছরে শ্যুটিংয়ে ভারতের চোখ-ধাঁধানো উন্নতি। টানা তিনটি অলিম্পিকে পদক জেতার পর রিওতে পদকহীন থাকা ভারত কী এমন করল যে এই মুহূর্তে বিশ্বের এক নম্বর দল ধরা হচ্ছে তাদের। গত বছর চারটি বিশ্বকাপে কিভাবে চীনকে ব্যাপক ব্যবধানে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি সোনা তাদের? কিভাবে তাদের দ্বিতীয়, তৃতীয় স্তরের শ্যুটাররাও এসে দক্ষিণ এশিয়ায় এভাবে নিরঙ্কুশ আধিপত্য করে!

খুব গভীরে যাওয়ার আগেই আন্দাজ করা যায় গত এক বছর ধরে ভারতীয়দের যাঁরা সাফল্য এনে দিয়েছিলেন এবং এবারের দক্ষিণ এশীয় গেমসে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের দেখে। বেশির ভাগই নতুন মুখ। সেই গগন নারাং, হিনা সাধু, জিতু রায়দের মতো সিনিয়রদের তাঁরা ছেঁটে ফেলেছে। নতুন যাঁরা এসেছেন তাঁরাই গত দুই বছর ধরে টোকিও অলিম্পিকের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫টি কোটা এনে দিয়েছে ভারতকে।

নুতনদের সুযোগ দিয়ে তাঁদের এভাবে গড়ে তোলাটাও এমনি এমনি হয়নি। কাল সাতদোবাতোর শ্যুটিং রেঞ্জে মেয়েদের ৫০ মিটার এয়ার রাইফেলে নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্বের পর ভারতীয় কোচ মনোজ কুমার বলছিলেন, ‘এই পরিবর্তনের মূলে অভিনব বিন্দ্রা। রিও অলিম্পিকে আমাদের ব্যর্থতার পর বিন্দ্রাকে প্রধান করে যে কমিটি করা হয় তাঁরাই আমাদের ‘চালতা রাহে’ মনোভাবে প্রথম আঘাত করেন। আমাদের পুরো সিস্টেমই বদলে ফেলার সুপারিশ করেন ওরা। ওখানে অংশ নেওয়া শ্যুটারদের ব্যর্থতার কারণগুলো খুঁজে বের করেই আমাদের পলিসি ও প্র্যাকটিসে আমূল পরিবর্তন আনার কথা বলেন উনারা।’ ভারতীয় শুটিং অ্যাসোসিয়েশন ও সরকার সেই রিপোর্টকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছিল তার প্রমাণ মিলেছে তাদের পরবর্তী কার্যক্রমেই। রিও অলিম্পিকের পর অবসরের ঘোষণা দেওয়া বিন্দ্রাকে এরপর ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম’ স্কিমেরও প্রধান করেছে তারা। নতুন শ্যুটারদের সবচেয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে বেছে নিয়ে প্রতিজনের জন্য আলাদা করে বিদেশে প্রশিক্ষণ, ইকুইপমেন্ট সরবরাহ, কোচিং, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতাসহ যা যা প্রয়োজন সব কিছুরই পরিকল্পনা সাজিয়েছে ওই কমিটি। মনোজ কুমার বলছিলেন, ‘সরকার আমাদের টার্গেট শ্যুটারদের কোনো কিছুর কমতি রাখেনি। সঠিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনাতেই এসেছে সাফল্য। জুনিয়র শ্যুটারদের নিয়েই মূল প্রগ্রামটা সাজানো হয়েছে আমাদের। এখনো পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে আমরা সেরাটাই পেয়েছি।’

সাইফুল আলম রিংকিরা একটা সময় ভারতীয়দের বলে কয়ে হারাতে পারতেন। কয়েকটি ইভেন্টে অন্তত সেই রমরমা ছিল বাংলাদেশের নব্বইয়ের দশকে বা তার পরেও দু-এক বছর। সেই বাংলাদেশ এখন কিছুতেই ভারতীয়দের সঙ্গে তুলনায়ই যেতে পারে না। যাবে কী করে, ভারত যেখানে ১৫টি অলিম্পিক কোটা বগলদাবা করেছে, সেখানে বাংলাদেশের আব্দুল্লাহেল বাকী, শাকিল আহমেদদের কাছে এখনো সেটা দিবাস্বপ্নই! ভারতের কোটাধারীদেরও অনেকে টোকিওতে দলে সুযোগ পাবেন কি না, সেই শঙ্কায় থাকেন। কারণ জাতীয় শ্যুটারদের যাঁরা কোটা পাননি সামর্থ্যে তাঁরাও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। এসএ গেমসেই যে দলটি এসেছে সেখানে তো ওই ১৫ কোটাধারীর কেউই নেই। কিন্তু ইভেন্টের পর ইভেন্ট কোটা না পাওয়া শ্যুটাররাই দেখাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার মান থেকে কতটা উঁচুতে উঠে গেছেন তাঁরা। বেশির ভাগ ইভেন্টের ফাইনালের শুরুতেই বোঝা হয়ে যাচ্ছে ভারতীয়রাই জিততে যাচ্ছেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমনই ধারাবাহিক তারা। আর বাংলাদেশের শ্যুটারদের জন্য এখন এই দক্ষিণ এশীয় গেমসের সোনাই সোনার হরিণ। ২০১০ এসএ গেমসেও তাও তিনটি সোনা এসেছিল শ্যুটিংয়ে, গত বছর গুয়াহাটিতে একটি। এবার সোনাহীন হয়েই ফিরতে হয় কি না কে জানে। স্বর্ণপ্রসবা ১০ মিটার রাইফেলের সেই ধারা শুকিয়ে গেছে। মেয়েদের ইভেন্টে কোনো পদকই আসেনি। বাকী কাল ফাইনালে বেশ খানিকক্ষণ আশা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জে সন্তুষ্ট থেকেছেন। ৫০ মিটার এয়ার রাইফেলেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে মেলেনি কিছু। গেমসে কারাতে আর তায়কোয়ান্দো চারটি সোনা এনে দিল, সেখানে শ্যুটাররা এই সংখ্যাটাকে কোথায় আরো ওপরে নিয়ে যাবেন, তা না উল্টো একে একে সবাই ফিরছেন বিরস বদনে। রিংকি কাল বলছিলেন, ‘শ্যুটিং নিয়ে এখন লজ্জাতেই পড়তে হচ্ছে আমাদের। ভারতের মতো এখন আমাদেরও নতুন পরিকল্পনা না নিয়ে এগোলে হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা