kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিশ্বকাপের পরীক্ষা এবারের বিপিএলে

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বকাপের পরীক্ষা এবারের বিপিএলে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বেশ নিশ্চিন্তে ছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। ২০ ওভারের ইনিংসে ১৮৬ রান তোলার পর সেটিই স্বাভাবিক। আর প্রথম দুই ওভারের মধ্যে রংপুর রাইডার্সের দুই ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল ও রাইলি রুশোর উইকেট তুলে নেওয়ার পর তো আরো বেশি করে। অথচ কী আশ্চর্য, অমন ম্যাচ কিনা মুঠো ফসকে বেরিয়ে যায় ঢাকার!

রংপুরের দুই বিদেশি আউট। বিপর্যয়ে হাল ধরেন অন্য দুই বিদেশি। অ্যালেক্স হেলসের ৫৩ বলে অপরাজিত ৮৫ এবং এবি ডি ভিলিয়ার্সের ৫০ বলে অপরাজিত ১০০ রানে হেসেখেলে জেতে তারা। ব্যাটিং অর্ডারের ১, ২, ৩, ৪ নম্বরে চার বিদেশি রেখে বিপিএলের গত আসরে সাফল্যের ওই ফর্মুলা পেয়ে যায় রংপুর রাইডার্স।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দলগুলো সেভাবে পরিকল্পনা সাজাতেই পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তাতে কিছু করার নেই। কিন্তু এবারের আয়োজন তো অভিনব। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছে বিক্রি না করে দলগুলোর মালিকানা নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে বিসিবি। আর তাদের কাছে জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান।

‘আমি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দোষ দিই না। তারা সাফল্যের জন্য নিজেদের মতো দল সাজাবে, সেটিই স্বাভাবিক। তাতে অনেক সময়ই দেখা গেছে, ব্যাটিং-বোলিংয়ে বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা। বিদেশিদের ঘিরেই দলের পরিকল্পনা করা। এবারের বিপিএলে তা হবে না। আমাদের কাছে সবার ওপরে থাকবে দেশের স্বার্থ’—বলেছেন বোর্ড সভাপতি। কিভাবে তা করা হবে, সেটিও জানান তিনি, ‘যে ওপেনার, সে ওপেনিংই করবে। বিদেশিদের জায়গা দেওয়ার জন্য ব্যাটিং অর্ডারের নিচে নেমে যাবে না। ঠিক তেমনি বোলিংয়ে আমাদের দেশের বোলাররা যেখানে বোলিংয়ে দক্ষ, সেখানেই করবে। জাতীয় দলে নতুন বলে বোলিং করবে অথচ বিদেশিদের কারণে বিপিএলে শুরুতে বোলিংয়ের সুযোগ পাবে না— এবার তা হবে না।’

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের এবারের বিশেষ আয়োজনে তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের প্রমাণের মঞ্চ। আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে ক্রিকেটারদের পরখ করা হবে বলে জানিয়েছেন নাজমুল, ‘আমাদের টি-টোয়েন্টি দলে কয়েকটি জায়গায় দুর্বলতা আছে। নতুন ক্রিকেটারদের তাই সুযোগ আছে ভালো খেলে নিজেদের দাবি জানিয়ে রাখার। আবার বিশেষ কিছু ক্রিকেটারকে দেখার সুযোগও রয়েছে এবার। যেমন নতুন লেগ স্পিনার আমরা চাই। বিপ্লব (আমিনুল ইসলাম) ভালো করছে, আবার আফ্রিদি (মিনহাজুল আবেদীন) ছেলেটিকে তো জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্ট সেভাবে দেখেইনি। বিপিএলে ওর মতো আরো অনেকের দিকে চোখ থাকবে।’

বিপিএলের ডামাডোল বেজে উঠছে একটু একটু করে। ৮ ডিসেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ১১ তারিখ থেকে শুরু মাঠের লড়াই। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট—তিন শহরে মাতবে বিপিএল। আয়োজনে বিসিবির আন্তরিকতার কমতি না থাকলেও স্টেডিয়ামের উইকেট কেমন হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকছে। আর তা অতীত অভিজ্ঞতার আলোকেই। বিসিবি সভাপতি নাজমুল অবশ্য আশ্বস্তই করেছেন, ‘ঢাকার উইকেট পুরোপুরি স্পোর্টিং করা কঠিন। তবে সে চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভালো উইকেট হবে। টি-টোয়েন্টি খেলা দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন।’

বিপিএলে এবার সবগুলো দলই বিসিবির মালিকানাধীন। প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ তাই কী মাত্রায় থাকবে, এ নিয়ে ভাবনা থাকা স্বাভাবিক। তবে ক্রিকেটাররা একেবারে ভাবনাহীন। টাকা-পয়সা নিয়ে অন্তত আর ভাবতে হবে না। কয়েক বছর ধরেই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে রাখছে বিসিবি। তাতে বিপিএলের শুরুর দিকের আসরগুলোর মতো অর্থ না পাওয়া নিয়ে হাপিত্যেশ কমে এসেছে। আর এবার যেহেতু পুরোটাই বিসিবির আয়োজন, সে কারণে বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তা ক্রিকেটারদের থাকার কথা নয়।

আর সব আয়োজন সার্থক হবে মাঠের ক্রিকেট ভালো হলে। দর্শকরা বিনোদনের খোরাক পেলে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সামনে যেহেতু নিজেদের প্রমাণের উপলক্ষ, সে কারণে মরিয়া চেষ্টা নিশ্চয়ই করবেন। পরিকল্পনায় বিদেশিদের আগে দেশের ক্রিকেটাররা থাকায় তাঁদের সাফল্যের সম্ভাবনাও বেশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা