kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

জুয়ার প্রস্তাব দিয়ে নিষিদ্ধ সাবেক কর্মকর্তা

সাইদুজ্জামান   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আধুনিক ক্রিকেট জগতের সবুজ ঘাসের নিচে থিকথিকে কাদা। ট্রাউজার গুটিয়ে যতই সতর্ক পায়চারি করুন না কেন, কাদা লেগে যাওয়ার ভয় সর্বদা। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মাঠ তো আরো বিপজ্জনক! জুয়াড়িরা শুধুই আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের গুপ্ত ঘাতক নন, ফ্র্যাঞ্চাইজির ঘরেই কখনো কখনো জুয়াড়ির আনাগোনা দেখা যায়। বিপিএলের প্রথম আসরে চট্টগ্রাম কিংসের সঙ্গে যুক্ত এক নামি সংগঠকের প্রবেশাধিকার যেমন এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএলে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। স্থানীয় দুই ক্রিকেটারকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী খেলার প্রস্তাব দেওয়ায় এ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন ওই সংগঠক।

তিনি এবার কোনো দলের সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত নেই। তবে চট্টগ্রামের সবচেয়ে নামি দুটি ক্রীড়া পরিবারের একটির সদস্য তিনি। সরাসরি যুক্ত না হলেও ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব তাঁর এবং জাতীয় ক্রিকেটে সেই পরিবারের এক সদস্য দারুণ প্রভাবশালীও। তো সেই অভিযুক্ত কর্মকর্তা এবারের বিপিএল ড্রাফটে দল না পাওয়া দুই ক্রিকেটারকে টোপ দিয়েছিলেন, ‘যদি আমার কথামতো খেলো, তাহলে টিম পাইয়ে দেব।’ কিন্তু সেই দুই ক্রিকেটার প্রস্তাবে সায় না দিয়ে তাত্ক্ষণিক জাতীয় দলের এক তারকা ক্রিকেটারকে বিষয়টি অবহিত করেন। সেই তিনি বিষয়টি বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের (আকসু) প্রধান কর্তা মেজর (অব) হুমায়ূন মোর্শেদকে জানান বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে গতকাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘এ জাতীয় যেকোনো ইস্যু নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার আইনগত অনুমোদন আমাদের নেই। ক্রিকেট জুয়ার ছোট কিংবা বড়—সব ইস্যুই অ্যান্টি করাপশন ইউনিটে চলে যায়। এর প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের নিয়মের মধ্য থেকে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’ চট্টগ্রামের ওই সংগঠকের দুই ক্রিকেটারকে ‘প্রস্তাব’ দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও আইনগত বিপত্তির কথাই বলেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী, ‘এগুলো খুব স্পর্শকাতর বিষয়। এ জাতীয় সব বিষয় নিয়ে আকসু কাজ করছে। তবে এটা বলতে পারি, এ ধরনের বিষয়ে বিসিবি ন্যূনতম ছাড় দেয়নি, দেবেও না।’

ক্রিকেট জুয়া প্রতিরোধের ব্যাপারে বিসিবির ট্র্যাকরেকর্ড অবশ্য সে রকম স্বস্তিই দেয়। প্রথম আসরের আগে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক এক ক্রিকেটারকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল বিসিবি। এরপর মোহাম্মদ আশরাফুলের ঘটনা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের দুই মালিককে শাস্তি প্রদান করে পরের প্রজন্মকে কঠোর বার্তাই দিয়েছে বিসিবি।

কিন্তু তাতেও থেমে নেই ক্রিকেট জুয়াড়িদের তৎপরতা। যার সর্বশেষ ‘শিকার’ সাকিব আল হাসান। আর জুয়ার কালো থাবার নিচে রয়েছে পুরো ক্রিকেটবিশ্বই, বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আসরগুলো। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) দুইবার ‘আঘাতপ্রাপ্ত’ হয়েছে। ক্যারিবিয়ার প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) সব শেষ আসর থেকে একটি ফ্রাঞ্চাইজির অংশীদারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় ওই মালিক নাকি তাঁর নিজের ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্রিকেটারকে স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

তাই আর হোটেলকক্ষে খেলোয়াড়কে ঢুকিয়ে দিয়েও নির্ভার থাকার উপায় নেই। নজরদারি জারি রাখতে হয় প্রতিনিয়ত। সে লক্ষ্যেই এবার আকসুর নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে প্রতিটি দলের জন্য একজন করে দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন নিজাম উদ্দিন, ‘এবার প্রতিটি দলের সঙ্গে একজন করে আকসুর কর্মকর্তা থাকবেন। আইসিসিও এবার বিশ্বকাপ থেকে সেটি করেছে। সত্যি বলতে কি, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টাই করছি।’

যা বলেননি তিনি, তা হলো, এর পরও চোরাপথে খেলোয়াড় কিংবা কোচিং স্টাফের কাছে কিভাবে যেন পৌঁছে যায় ক্রিকেট জুয়াড়ি। নতুন কোনো কৌশলে। আর জুয়াড়িদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সুনির্দিষ্ট কোনো আইনে তাদের বাঁধার সুযোগ নেই। এই যেমন, ক্রিকেটারদের অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্যালারিতে ঢোকা বারণ করেই নীরব থাকতে হচ্ছে বিসিবিকে। এমনকি নাম প্রকাশ করলে আইনি বিপত্তির মুখে পড়ার ভয়ও আছে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা