kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

মারজান হাসপাতালে, পারল না মেয়েরা

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মারজান হাসপাতালে, পারল না মেয়েরা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেমিফাইনাল চলছে। মাউনজেরা বর্ণার প্রথম ম্যাচ। ৬-৪ এগিয়ে থাকা অবস্থায় মাথায় আঘাত পেয়ে পড়ে গেলেন। যখন উঠলেন, টলছেন ভীষণভাবে। মেডিক্যাল টিম দৌড়ে এসে শুইয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে কিছুটা ধাতস্থ হলেন। তিন মিনিট শেষ হতে তখন খুব বেশি বাকি নেই। এই ব্যবধানে সময়টা পার করে দিতে পারলেই চলে। বর্ণা সেই অবস্থাতেই নিলেন আরো ২ পয়েন্ট। মেয়েদের দলগত কুমিতে-তে বাংলাদেশ জিতল প্রথম ম্যাচটি।

তিনজনের দলে পরের ম্যাচ আগের দিন সোনা জেতা মারজান আক্তারের। পড়লেন এক হেভিওয়েট লঙ্কানের বিপক্ষে। ১-০তে এগিয়ে থাকা অবস্থায় কানের কাছে এমন এক ঘুষি খেলেন, দাঁড়িয়ে থাকা আর সম্ভব হলো না তাঁর। বর্ণা ফের উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। মারজানের অবস্থা হলো জ্ঞান হারানোর মতো। তাঁকে সোজা করার চেষ্টা করেও পারলেন না প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। ফলে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হলো, নেওয়া হলো হাসপাতালে। ওদিকে ওই লঙ্কানকে জয়ী ঘোষণা করা হলো নক আউট করে দিতে পারায়। ম্যাচ হয়ে গেল ১-১। মারজানের কী হলো! সেই আশঙ্কা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আরেক সোনাজয়ী হুমায়রা আক্তারের কাঁধে তখন দায়িত্ব দলকে জেতানোর। হুমায়রা একরকম উড়িয়েই দিলেন লঙ্কান তৃতীয় প্রতিপক্ষকে। ৪-১-এ ম্যাচ জিতলেন, বাংলাদেশ জিতল ২-১ ব্যবধানে। উঠে গেল ফাইনালে। সেখানে অপেক্ষায় পাকিস্তান। যারা নেপালি মেয়েদের কাঁদিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। আগের দিন বাংলাদেশের তিন সোনার দুটিই আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে। কিন্তু আধঘণ্টা পর শুরু হতে যাওয়া ফাইনালে দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়টিই যে নেই। তিনি তখন হাসপাতালে। ‘শঙ্কার কিছু নেই’—এমন খবরও এসেছে। ফলে বদলি নামানো হলো নাঈমা আক্তারকে। ওদিকে লঙ্কান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জিতলেও যথেষ্টই আহত বর্ণা। ওই অবস্থাতেই নামলেন, পারলেন না। লড়াই করলেন কিন্তু হারলেন ৬-৪ ব্যবধানে। হুমায়রা দ্বিতীয় ম্যাচে নেমে আবার ৭-৩ ব্যবধানের জয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখলেন। কিন্তু তৃতীয় লড়াইয়ে সাবস্টিটিউট নাইমা কুলিয়ে উঠতে পারেননি একেবারে। বেশ বড় ব্যবধানেই হারলেন তিনি। বাংলাদেশেরও সোনার আশা শেষ হয়ে গেল তাতে। সেটা ধাক্কা খেয়েছিল মারজানের ইনজুরিতেই। তিন সোনা জয়ের পরের দিনটা শেষ পর্যন্ত কেটেছে একেবারে সোনাহীন হয়েই। যে পুরুষ কুমিতে আরেকটা সোনা ধরে চার সোনার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন জাপানি কোচ। হাসান খান মুনদের সেই পুরুষ দল হতাশ করল যথেষ্টই। সেমিফাইনালেরই তাঁরা হেরে গেছেন শ্রীলঙ্কার কাছে। আল আমিন জিতেছিলেন প্রথম ম্যাচে। কিন্তু মুনই হেরে গেলেন দ্বিতীয় ম্যাচে তাও বেশ বড় ব্যবধানে। রমজান আলী আবার তৃতীয় ম্যাচ জিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা জাগান। কিন্তু পরের ম্যাচেই আবার লোকমানকে হারিয়ে ব্যবধান ২-২ করে ফেলেন লঙ্কান কারাতেকা। ফলে শেষ খেলায় ম্যাচ নির্ধারণ। যে হাফিজুর গত পরশু থেকে পুরো সময় গ্যালারি মাতিয়ে রাখছিলেন বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে। শেষ লড়াইটায় তিনিই হেরে গেলেন। ৩-২-এ ম্যাচ হেরে পুরুষ দলের জুটল শুধু ব্রোঞ্জ।

কাল ছেলেদের দলীয় এই ইভেন্ট দিয়ে বাংলাদেশের জন্য স্বর্ণপ্রসবা কারাতে ডিসিপ্লিনেরই যবনিকা ঘটেছে। গেমসে তিন দিনে চারটি সোনার তিনটিই উপহার দিয়ে কারাতেকারা আজই দেশের বিমান ধরছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনাল শেষ করে বর্ণাও গিয়েছিলেন হাসপাতালে। ফিরেছেন বিমর্ষ মন নিয়ে। সোনা জিততে না পারার আক্ষেপ, শারীরিক বেদনা একসঙ্গে যেন কাবু করে ফেলেছিল তাঁকে, ‘লঙ্কানরা কারাতেতে কিছুই পায়নি। এই শেষ দিনে ওরা খুবই আক্রমণাত্মক ছিল। অনেকটা ইচ্ছা করেই ওরা আমাদের আঘাত করেছে, যদি ওভাবে কিছু মেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওরা তো কিছু পেলই না, আমাদেরও ক্ষতি করে গেল। ফাইনালে প্রিয়া (মারজানের ডাকনাম) থাকলে আমরা আরো আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারতাম।’  বর্ণা এর আগে একক কুমিতেও রুপা জিতেছেন, কাল সোনাজয়ীদের সঙ্গী হয়েও রুপা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো। কারাতেতে সব মিলিয়ে তিনটি সোনা, তিনটি রুপা ও ১০টি ব্রোঞ্জ প্রাপ্তি বাংলাদেশের। নেপালই এখানে আধিপত্য দেখিয়েছে ১০ সোনা জিতে, পাকিস্তান জিতেছে ছয়টি, তিন সোনা বাংলাদেশের। নেপাল এ পর্যন্ত যে ২৯ সোনা জিতেছে তারা ২৪টিই মার্শাল আর্টের ইভেন্টে। ১১ সোনা তাদের তায়কোয়ান্দোতে, উশুতে তিনটি। ১৯৯৯-এ শেষবার কাঠমাণ্ডুতে হওয়া গেমসে কারাতে আর তায়কোয়ান্দো মিলিয়েই জিতেছিল তারা ৩১ সোনার ২৮টি। এই ডিসিপ্লিনগুলো নিয়ে তাদের প্রস্তুতিও ছিল ব্যাপক, কারাতে দল অনুশীলন করেছে মালয়েশিয়াতে। চীন, মালয়েশিয়া দুই জায়গাতেই ছিল তায়কোয়ান্দো দল। সেখানে বাংলাদেশের চার সোনা অর্জন নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেই, এই খেলাগুলোর নিজস্ব কোনো জায়গাই নেই অনুশীলন বা প্রতিযোগিতার জন্য।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা