kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

পৃষ্ঠপোষকদের দাবায় আহ্বান বেনজীর আহমেদের

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পৃষ্ঠপোষকদের দাবায় আহ্বান বেনজীর আহমেদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নতুন দায়িত্ব পেয়ে যেন তিনি বিশেষভাবে ভাবতে শুরু করেছেন দাবা নিয়ে। নতুন প্রজন্মকে কিভাবে এই খেলার দিকে মনোযোগী করা যায়, কিভাবে খেলাটিকে জনপ্রিয় করা যায়—এসব নিয়ে চিন্তা করছেন দক্ষিণ এশিয় দাবা কাউন্সিলের নবনির্বাচিত সভাপতি বেনজীর আহমেদ। এই ভাবনাগুলো মাথায় নিয়েই র‌্যাবের মহাপরিচালক গতকাল এক সংবাদ সম্মেলন করেন। র‌্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দাবা উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি দাবা ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বে আছেন ২০১৪ সাল থেকে। দাবার খুব বিশৃঙ্খল অবস্থায় তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সেই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এখন ফেডারেশনের অবস্থা অনেক ভালো। লিগ, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপসহ কিছু টুর্নামেন্ট নিয়মিত হচ্ছে। তবে দাবার উন্নতির জন্য এগুলো যথেষ্ট নয়। সেটা যেমন ফিদে বলেছে তেমনি দেশের গ্র্যান্ড মাস্টাররা মনে করেন, বছরে বেশ কয়েকটি উন্মুক্ত দাবা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা দরকার। দরকার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের এই খেলায় আগ্রহী করে তোলা। বেনজীর আহমেদ দেখেন এই খেলার অন্য উপযোগিতার কথা, ‘স্কুলে দাবার গুরুত্ব অনেক বেশি, খেলাটা একজন শিক্ষার্থীকে স্কুল বয়সেই সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়। দায়িত্ব নিতে শেখায়। ভুল-শুদ্ধ সে নিজেই বুঝতে পারবে। এতে সামগ্রিক সমাজের উন্নতি হবে।’

তাই খেলাটিকে আরো জনপ্রিয় করে তুলতে চাইছেন ফেডারেশন সভাপতি। এটা খুব কঠিন নয়। কারণ ক্রিকেট-ফুটবলের মতো দামি খেলা নয় দাবা। একটু মনোযোগী হলেই দাবা খেলা যায়। সভাপতির বিশ্লেষণে ‘ক্রিকেট সাফল্য দিয়েছে। ফুটবল জনপ্রিয় খেলা। এখন আমরা চাই দাবা খেলাটিকে আরো জনপ্রিয় করে তুলতে।’ এটা করতে গেলে ফেডারেশনের তরফে বেশ কিছু উদ্যোগ দরকার। এ জন্য বেনজীর আহমেদ পৃষ্ঠপোষকদের দাবায় আহ্বান জানাচ্ছেন, ‘দেশে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন কাজ করে। টেলিকম কম্পানি কিংবা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে আমাদের হয়ে যায়। ছোট স্পন্সর পেলেও আমরা বড় সাফল্য নিয়ে আসতে পারব। সে রকম পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দুই বছরের মধ্যে আমরা নতুন গ্র্যান্ড মাস্টার পাব।’ সর্বশেষ এনামুল হোসেন রাজীব গ্র্যান্ড মাস্টার হওয়ার পর গত ১১ বছরে আর কোনো জিএম হয়নি বাংলাদেশে। মানে নতুনদের নর্ম করার মতো যথেষ্ট টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ নেই।

দাবা ফেডারেশন এত দিন সাধারণ দাবাড়ুদের নিয়ে কাজ করে আসছে। গত ২৯ নভেম্বর চার বছরের জন্য দক্ষিণ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বেনজীর আহমেদ কয়েদিদের জন্য দাবা খেলার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এতে ফিদেরও সায় আছে। ‘ফিদে জেল দাবা শুরু করছে। ফিদের বক্তব্য হচ্ছে এই খেলা কয়েদিদের মনোযোগ ও মানসিকতা উন্নত করে। এই খেলা কয়েদিকে পুনরায় অপরাধ করা থেকে বিরত থাকতে  সাহায্য করে। এ ব্যাপারে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কথা বলব, কিভাবে জেলে দাবা শুরু করা যায়’—বলেছেন দাবা ফেডারেশনের সভাপতি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা