kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

দাবি পূরণের লড়াইয়ে নেই ক্রিকেটাররা

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ২১ অক্টোবরের মধ্যাহ্ন থেকে ২৩ অক্টোবরের শেষ প্রহর। ক্রিকেটারদের দেশ কাঁপানো ধর্মঘট। ১৩ দফার মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিংহভাগ দাবি মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে যার শেষ। ৫৬ ঘণ্টার ধর্মঘটের শেষে তো পেরিয়ে গেছে প্রায় ছয় সপ্তাহ। পূরণ হয়েছে কতগুলো দাবি? বাকিগুলোর তদারকিতে ক্রিকেটারদের তাগিদই বা কতটা?

‘আন্দোলনের নেতা’ সাকিব আল হাসানের ভিন্ন কারণে নিষেধাজ্ঞার পর দাবিগুলোও তো পড়ে গেছে আড়ালে!

তাই বলে এমন নয় যে, ১৩ দফার মধ্যে কোনো দাবি পূরণ করেনি বিসিবি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বেড়েছে। ক্রিকেটারদের দাবি ছিল এক লাখ টাকা। ততটা না হলেও জাতীয় লিগের প্রথম স্তরের ম্যাচ ফি ৩৫ হাজার থেকে বেড়ে ৬০ হাজার, দ্বিতীয় স্তরে ২৫ হাজার থেকে বেড়ে ৫০ হাজার হয়েছে। ভ্রমণ ভাতা ২৫০০ থেকে বেড়ে ৩৫০০ কিংবা বিমানের টিকিট দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। আর দৈনিক ভাতা ১৫০০ থেকে বেড়ে ২৫০০ টাকা। ঢাকা লিগে আগের পদ্ধতিতে দলবদল, এবারের বিশেষ বিপিএল শেষে টুর্নামেন্টের আগের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ফরম্যাটে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান। আবার ক্রিকেটারদের লভ্যাংশ দেওয়া কিংবা সব ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট খেলার অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে যে আপত্তি আছে, জানিয়েছেন তা-ও।

তবু তো অনেক দাবি অমীমাংসিত থেকে গেছে। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়ানো, বেতন বাড়ানো, ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট যোগ করা, ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার, নারী ক্রিকেটারদের আয়ে সমতা, কোচ-আম্পায়ার-গ্রাউন্ডসম্যানদের আয় বাড়ানো নিয়ে অগ্রগতি হয়নি খুব একটা। দাবি মেনে নেওয়ার পর বোর্ডের সঙ্গে তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কথা হয়নি ক্রিকেটারদের।

সেদিন প্রথম দাবি উপস্থাপন করা নাঈম ইসলাম যেমন কাল বলছিলেন, ‘আমি তো অন্যদের কথা বলতে পারব না। তবে আমার সঙ্গে এ নিয়ে বোর্ডের আর পরে কোনো কথা হয়নি। তবে বোর্ড যখন দাবিগুলো মেনে নিয়েছে, একে একে নিশ্চয়ই তা পূরণ করবে। সে কাজ তারা শুরুও করেছে।’ একই সুর প্রথম দিনের শেষ দাবি উত্থাপন করা ফরহাদ রেজার, ‘আমি নিজের ক্রিকেট নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলাম। বোর্ডের সঙ্গে এসব নিয়ে তাই কথা হয়নি। তবে গাছ লাগালে পরদিনই তো তাতে ফল ধরবে না; কিছুটা সময় দিতে হবে। বিসিবি সে সময়টাই হয়তো নিচ্ছে।’

ক্রিকেটারদের প্রথম দাবিই ছিল কোয়াব ভেঙে দেওয়া। অন্য দাবিগুলো নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে খেলোয়াড়রা আর আলোচনায় না বসলেও এ নিয়ে সংগঠনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তবে সেটির কোনো উপসংহার টানা যায়নি বলে জানিয়েছেন কোয়াবের সেক্রেটারি দেবব্রত পাল, ‘আমরাই ক্রিকেটারদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। সাকিব, অমি (জহুরুল ইসলাম)-সহ অনেকে এসেছিলেন। ওদের জানিয়েছি, পদত্যাগ করতে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু সংগঠনের সব কিছু তো গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হবে। সে সম্পর্কে ওদের কোনো ধারণা আছে বলে আমাদের মনে হয়নি।’ পুরো আন্দোলন সাকিবকেন্দ্রিক হওয়ায় ওই অলরাউন্ডারের নিষেধাজ্ঞায় সতীর্থরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি দেবব্রতর, ‘মিটিংয়ের পর ওরা বলল, দুই দিন পর আমাদের জানাবে। এরপর তো এক মাস হয়ে গেল। আমি নিজে কয়েকবার ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। একবার বলছে সাকিব ভারতে, আবার বলছে সাকিব আমেরিকায়, ও ফিরলে সিদ্ধান্ত জানাবে। ব্যাপারটা এমন হয়ে গেছে, আমরা দায়িত্ব ছাড়তে চাইলেও ওরা দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। আর প্রথম দাবিই যেহেতু কোয়াব ভেঙে দেওয়া, সে কারণে বাকি দাবিগুলো নিয়ে তো আমরা বিসিবির সঙ্গে কথাও বলতে পারছি না।’

আন্দোলন মিটে যাওয়ার পর ক্রিকেটাররা এ নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। কোয়াবও বলেনি। তবু দাবিগুলো মেনে নেওয়ার পথে বোর্ড এগোচ্ছে বলে জানালেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ‘আমরা ক্রিকেটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তাই ধাপে ধাপে তা পূরণ করছি। সব তো একবারে হবে না, এগোচ্ছি তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। জাতীয় লিগ চলমান ছিল বলে ওখানকার পারিশ্রমিকের ব্যাপারটা সমাধান করেছি। অবকাঠামো তো এক দিনে উন্নয়ন হবে না। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মাঠগুলোর জিমের ব্যাপারে কাজ শুরু করেছি। কেন্দ্রীয় চুক্তির ব্যাপারটি যখন আসবে, তখন নিশ্চয়ই বিবেচনা করব।’ দাবি পূরণের পর্যায়ে ক্রিকেটাররা চাইলে নিজেদের মত দিতে পারবেন বলে জানান তিনি, ‘ধরুন, কোনো এক জায়গায় তাঁদের আপত্তি আছে। সেটি তো অবশ্যই জানাতে পারেন। তখন আমরা সে অনুযায়ী নিশ্চয়ই বিবেচনা করব।’

কিন্তু সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ার পর বোর্ডের সঙ্গে সে আলোচনা করবেন কোন ক্রিকেটার!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা