kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

আবারও মেসি

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবারও মেসি

ভারতীয় উপমহাদেশ অঞ্চলে লা লিগার বাজারজাতকরণে যাঁকে নিযুক্ত করা হয়েছে, সেই হোসে আন্তনিও চাচাজা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ-বার্সেলোনা ম্যাচটি দেখে নিঃসন্দেহে মহা খুশি হয়েছেন! এই অঞ্চলে লা লিগার খেলা দেখা যায় ফেসবুক লাইভে। রাত ২টায় যাঁরা খেলা দেখতে স্মার্ট টিভি বা মোবাইল চালু করেছেন, তাঁদের প্রায় ঘণ্টায় দুই মোবাইল ডাটা খরচ করতে হয়েছে! একপেশে ম্যাচ দেখে আগেই ফল আন্দাজ করে বেঘোরে ঘুমিয়ে যাওয়ার উপায় নেই যে!

আগে গোল হজম করে শেষ সময়ে সমতা ফেরানো অথবা শেষ সময়ের গোলে জয়লাভ, অ্যাতলেতিকোর বিপক্ষে বার্সেলোনার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর রিপোর্টকার্ড এ রকমই। রবিবার রাতেও সেটা খুব একটা পাল্টায়নি। প্রথমার্ধটা কাতালান রক্ষণকে চেপে ধরেছিল অ্যাতলেতিকো। তাদেরই পাঁচ বছরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান এবার দল পালটে বিপক্ষের হয়ে ওয়ান্ডায় এসেও সুবিধা করতে পারছিলেন না। বরং তিনকাঠির ভেতর মার্ক আন্দের টের-স্টেগান রীতিমতো অতিমানবীয় হয়ে উঠেছিলেন রবিবার রাতে। আলভারো মোরাতার পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জের হেড ঠেকিয়ে দিয়েছেন এই জার্মান গোলরক্ষক, মারিও হেরমোসো লাগিয়েছেন পোস্টে। সুযোগ নষ্ট করেছেন আনহেল কোরেয়াও। বার্সেলোনা প্রথম গোলের সুযোগ তৈরির আগে অ্যাতলেতিকোর গোলমুখী শটের সংখ্যা ৭! প্রথমার্ধটা যে কী করে গোলশূন্যভাবে শেষ হলো, সেটাই বিস্ময়ের। রাকিতিচ প্রথম সুযোগটা পাওয়ার আগে একাধিক গোলের সুযোগ হাতছাড়া করা অ্যাতলেতিকো নিজেদের অপচয়ের মাসুলটা দিয়েছে ৩ পয়েন্ট খুইয়ে।

এই দলের সব শেষ দুটি ম্যাচেই ধারাভাষ্যকাররা বলেছেন, শেষ পর্যন্ত ফলটা বার্সেলোনার পক্ষে গেছে, কারণ মেসি তাদের হয়ে খেলেন। মেসির জাদুতেই হয়েছে মীমাংসা। এখানেও তাই। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে মেসির একটা জাদুকরী মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল অ্যাতলেতিকোর সব প্রচেষ্টা। যেরকমটা হয়, মাঝমাঠের একটু ওপরে বক্সের বাঁ-দিক থেকে বল নিয়ে ঢুকছেন মেসি। সুয়ারেসকে আলতো একটা পাস দিয়ে নিজে খানিকটা সামনে গিয়ে আবার ফেরত পেলেন বল। এরপর ঐশ্বরিক বাঁ পায়ের কীর্তি। ইয়ান ওবলাক পুরোটা শরীর মেলে দিয়েও আটকাতে পারলেন না।

ম্যাচসেরা যদিও টের-স্টেগান, দুই কোচও আসলে অভিভূত মেসিজাদুতে। ভালভের্দে বলছিলেন মেসির বল পায়ে দৌড়ের কথা, ‘মেসি যখন দৌড়ায় তখন সে অদম্য, কারণ তার একটা রাডার আছে। সবাই দৌড়ানোর পর সিদ্ধান্ত নেয় আর সে দৌড়ের মাধ্যমে শেষ করে। সেই সেরা খেলোয়াড় যে সেরা প্রতিপক্ষকে পাল্টা দেয়, মেসির যা কৌশল আর দক্ষতা সে অপ্রতিরোধ্য।’ অন্যদিকে ডিয়েগো সিমিওনে জানালেন, এ রকম মুহূর্তে আসলে করার কিছুই নেই, ‘এ রকম একটি গোলের পর আসলে প্রশংসাই করা যায়। যখন প্রতিআক্রমণটা শুরু হলো, ওর পায়ে বল যাওয়ার পরই বিপদ আঁচ করতে পারছিলাম। ওরা দারুণ একটা গোল করেছে, মেসি ও সুয়ারেস চমত্কার পজিশনে ছিল।’ জিতে বার্সেলোনা উঠে গেল লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে, গোলগড়ে পেছনে ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদকে। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ নেমে গেছে ছয়ে। স্কাই স্পোর্টস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা