kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

সেই ভুটানে পা কাটল ফুটবলে

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেই ভুটানে পা কাটল ফুটবলে

জেমি ডে’র এই দলটাই এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়েছিল। কাতারকে হারিয়ে পা রেখেছিল ইতিহাসে, প্রথমবারের মতো নাম লিখিয়েছিল নক আউট রাউন্ডে। সেই জামাল ভূঁইয়া, সাদউদ্দিনরা কী করে কাল ভুটানের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেলেন দক্ষিণ এশীয় গেমসের প্রথম ম্যাচেই। সেই অলিম্পিক দল, যে দল নিয়ে জেমি ডে’র বাংলাদেশ অধ্যায়ের এক উজ্জ্বল সূচনা হয়েছিল। গতকালের আগ পর্যন্ত সাফ, বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ এবং বিশ্বকাপ বাছাইয়েও তাঁর অধীনে জাতীয় দল শুধু নতুন দিনেরই ছবি দেখাচ্ছিল। এবার অনূর্ধ্ব-২৩ দলের মোড়কে সেই জাতীয় দলই খেলতে এসে নেপালে কী করে এমন অঘটনের শিকার হলো, তার ব্যাখ্যা নেই।

সাতদোবাতোয় দীপু চামকা যখন জাতীয় পতাকা ওড়াচ্ছেন, দশরথে সেই সময়টাই বাংলাদেশ ফুটবল দল মাঠে নামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে। সহজ সুযোগও একাধিকবার নষ্ট করার খেসারতে ম্যাচ গোলশূন্য বিরতির সময়ও। সাদউদ্দিন একেবারে পোস্টের সামনে থেকে কেন ঠিকঠাক বলে মাথাটা ছোঁয়াতে পারেননি তিনিই জানেন। কিছুদিন আগেই ভারতে জামাল ভূঁইয়ার দুর্দান্ত এক ফ্রিকিকে অসাধারণ হেডে গোল করে নায়ক বনে যাওয়া এই ফরোয়ার্ড কাল নাবিব নেওয়াজের সঙ্গে ফ্লপের তালিকায়। ১০ নম্বর জার্সি পরে রবিউল হাসানও নিষ্প্রভ। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে চেপে ধরবে কি, পাশের দেশে খেলতে আসা ভুটানিরাই ততক্ষণে ম্যাচ গুছিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশ তখন লং বলে খেলবে না বিল্ডআপে আক্রমণে উঠবে—এই দ্বিধায় বারবার বল হারাচ্ছে। উল্টোদিকে ভুটানিরা দ্রুত পাস খেলে বক্সের আশপাশে জায়গা করে ফেলছে। সেখানে চেনচো গেলেত্স্টাইনের মতো নামকরা স্ট্রাইকার থাকায় ইয়াসিন, রিয়াদুলদের কাজটা সহজ ছিল না। ম্যাচ এক ঘণ্টা পেরোতে সতীর্থদের সঙ্গে পাস খেলে বক্সের ডান দিক থেকে যে গড়ানো শটটা তিনি নিয়েছিলেন, গোলরক্ষক আনিসুর রহমান তা আয়ত্তে নিতে পারলেও পরেরবার বিপরীত দিক থেকে সেই চেনচোর কাছেই তিনি পরাস্ত। বাঁ প্রান্তেও একই রকমভাবে পাস খেলে বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ও রিয়াদুলকে পেছনে ফেলে দেন মোহনবাগানে খেলা স্ট্রাইকার। এরপর পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা আনিসুরের নাগালের বাইরে দিয়ে দ্বিতীয় পোস্টে নিখুঁত প্লেসমেন্ট। ২০১৬ সালে এএফসি কাপ বাছাই প্লে-অফে ভুটানের কাছে যে ম্যাচটিতে ৩-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ, তাতেও গোল করেছিলেন এই চেনচো। এরপর অবশ্য জেমির অধীনে ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশ এই ভুটানিদের তিনবারের দেখায় তিনবারই হারের স্বাদ দিয়েছে। প্রথমটা সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। পরের দুটি জয় কিছুদিন আগেই ঢাকায় বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কাতার, ভারত ম্যাচের প্রস্তুতিতে।

ভুটান এবার বিশ্বকাপ বাছাইয়েই সুযোগ পায়নি। ম্যাচ জেতা চেনচো কাল বলছিলেন, ‘ওই দুটি ম্যাচ আমরা খেলেছিলাম এই দক্ষিণ এশীয় গেমসের প্রস্তুতি হিসেবে।’ সেখানে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আসলে শূন্য।

ঢাকায় কোনো ক্যাম্প হয়নি। বাংলাদেশ দল নেপালে পৌঁছার পর জেমি এসেছেন ইংল্যান্ড থেকে। গতকালের বাজে পারফরম্যান্সের কারণ খুঁজতে গিয়ে জেমিও তা এড়িয়ে যেতে পারেননি, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের আজ মনে হয়েছে উদ্যমহীন, এলোমেলো। অবশ্যই সঠিক প্রস্তুতির অভাব আছে তাতে। ভুটান ভালো খেলেছে স্বীকার করতেই হবে। জয় তাদেরই প্রাপ্য। এখন পরের তিনটি ম্যাচই আমাদের জিততে হবে ফাইনালে খেলার আশা ধরে রাখতে হলে। এই অবস্থা থেকে উন্নতির তাই বিকল্প নেই। এখন যতটা সম্ভব আমাদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত হতে হবে, কারণ কালই (আজ) আবার আমাদের মাঠে নামতে হচ্ছে।’ টুর্নামেন্টে এবার ভারত না থাকায় বাংলাদেশের সোনার সম্ভাবনা বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু গতকাল ভুটানিদের বিপক্ষে যে পারফরম্যান্স তাতে মালদ্বীপের বিপক্ষে আজ অগ্নিপরীক্ষাই জেমির দলের।

নেপালে এসে এক দিনও অবশ্য ম্যাচ ভেন্যু দশরথে অনুশীলন করতে পারেননি ফুটবলাররা। কাল মাঠের মাপজোখই যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না নাবিব, রবিউলরা। এই মাঠে নেপাল যে ভয়ংকর হয়ে উঠবে কোনো সন্দেহ নেই। ১৪০০ মিটার উচ্চতায় অনভ্যস্ত দলগুলোর পারফরম করাটা সহজ নয়। আগের দিন ভুটান কোচই বলেছিলেন তা, কালও বলেছেন এই ধরনের কন্ডিশনে অভ্যস্ততাও বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর খেলোয়াড়দের এগিয়ে রেখেছিল, ‘ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট আমাদের কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। এর পরই কিন্তু গুছিয়ে নিয়েছে আমার খেলোয়াড়রা। ৯০ মিনিট পর্যন্ত এরপর একই ছন্দে খেলে যেতে পেরেছি আমরা। ম্যাচে এটাই আমাদের পক্ষে গেছে।’ বড় কিছুর আশায় আসা বাংলাদেশের এখন এসব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া আর বিকল্প কিছু নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা