kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

এএফসি কাপ রাঙানোর লক্ষ্য বসুন্ধরা কিংসের

বসুন্ধরা কিংসের প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসানও বলছেন এই আন্তর্জাতিক অঙ্গন রাঙানোর কথা, ‘ঘরোয়া ফুটবলে গতবার আমাদের বড় পরীক্ষা হয়ে গেছে। লিগসহ দুটি শিরোপা জিতেছি। ঘরোয়া ফুটবলের পাশাপাশি এই মৌসুমে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এএফসি কাপ, সেখানে ভালো করার জন্যই আমরা শক্তিশালী দল গড়েছি। আগের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে দলে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছি।’

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এএফসি কাপ রাঙানোর লক্ষ্য বসুন্ধরা কিংসের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মৌসুম শুরুর ধাক্কাটা বেশ গায়ে মেখেছে তারা। আবার আগের মতো দাঁতে দাঁত চেপে তৈরি হচ্ছে বড় লক্ষ্যে পৌঁছাতে। ঘরোয়া ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরা বসুন্ধরা কিংস এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফুটবলের সুরভি ছড়াতে চায়।

অভিষেক মৌসুমে লিগ শিরোপাজয়ী কিংস প্রথমবারের মতো খেলবে এএফসি কাপে। এই টুর্নামেন্ট রাঙিয়ে ঘরোয়া ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী ইতিমধ্যে উঠে গেছে নতুন উচ্চতায়। সেটা না ছুঁতে পারলে যেন কিংসেরও এতসব আয়োজন মাটি হয়ে যাবে। বসুন্ধরা কিংসের প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসানও বলছেন এই আন্তর্জাতিক অঙ্গন রাঙানোর কথা, ‘ঘরোয়া ফুটবলে গতবার আমাদের বড় পরীক্ষা হয়ে গেছে। লিগসহ দুটি শিরোপা জিতেছি। ঘরোয়া ফুটবলের পাশাপাশি এই মৌসুমে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এএফসি কাপ, সেখানে ভালো করার জন্যই আমরা শক্তিশালী দল গড়েছি। আগের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে দলে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছি।’ আক্রমণের বৈচিত্র্যের সঙ্গে রক্ষণের নতুন প্রাচীরে নব সাজ নিয়েছে বসুন্ধরা কিংস।

আগের সাজে ছিল শুধু গোলের সুরভি, এ দিয়েই তারা ঘরোয়া ফুটবল মাতিয়ে জিতেছে লিগ ও স্বাধীনতা কাপ শিরোপা। কিন্তু দুর্বল রক্ষণে যে গোলের সুরভি হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারে, এই তেতো অভিজ্ঞতা হয়েছে তাদের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে। ছিটকে যায় সেমিফাইনাল থেকে। আসলে এখনকার ছক-কষা ফুটবলে শুধু আক্রমণের বৈচিত্র্য দিয়ে বৈতরণী পার হওয়া যায় না। ডিফেন্স আলগা হলে মাঝে মাঝে আক্রমণের সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠে হারের যন্ত্রণা। ফুটবলের এই কঠিন সত্যটা বুঝে কিংস গড়েছে নতুন প্রাচীর ইয়াসিন, তপু ও বিশ্বনাথকে নিয়ে এসে। এই তিনজনের সঙ্গে তাদের পুরনো লেফট ব্যাক সুশান্ত কিংবা নুরুল নাঈম ফয়সাল যোগ হবেন। সঙ্গে তাজিকিস্তানের নতুন ডিফেন্ডার নাজারভকে নিয়েছে দলে। সুতরাং ‘ওয়াল’ তৈরির সব আয়োজন সারা। এরপর দলে আর তেমন খামতি দেখছেন না কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন, ‘নতুন ডিফেন্স-লাইন তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে দলের শক্তিও বেড়েছে। আশা করি নতুন মৌসুমে আমরা আরো ভালো ফুটবল খেলব এবং মৌসুমের সব ট্রফি জয়ের চেষ্টা করব।’

অভিষেক মৌসুমে ফেডারেশন কাপ বাদে বাকি দুটি ট্রফি জিতে ঢাকা মাঠের নতুন পরাশক্তি হয়ে আবির্ভাব হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের। এবার চাই তাদের তিনটি ট্রফিই। তাই ওপরের দিকেও হয়েছে ভালো সংস্কার। মাঝমাঠে এসেছেন নিকোলাস দেলমোন্তে। রক্ষণকে বাড়তি ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের খেলা তৈরি এবং তাঁর পায়ের থ্রু-বল দেখে দারুণ খুশি টিম ম্যানেজমেন্ট। আগের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্কোস ভিনিসিয়াসকে বাদ দিয়ে লেবানিজ জালাল কোদোকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন ফরোয়ার্ড লাইন। আছেন পুরনো দুই বিদেশি কোস্টারিকান দানিয়েল কলিনদ্রেস ও কিরগিজ বখতিয়ার। পাঁচ বিদেশির মধ্যে মাঠে থাকতে পারবে চারজন। কিংসের কৌশল হলো, তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিদেশি ডিফেন্ডারকে বাইরে রেখে একাদশ গড়বে। আর প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলে একাদশে থাকবে ডিফেন্ডার নাজারভ, কমে যাবে মধ্যমাঠের এক বিদেশি।

বিদেশির পাশাপাশি তারা নিয়েছে নতুন সেনসেশন রকিবুল ইসলামকে। এই মিডফিল্ডার গত মৌসুমে দারুণ খেলেছেন আরামবাগের জার্সি গায়ে। কিংসে আসার পর থেকে মতিন মিয়ার পায়েও ফুটেছে গোলের ফুল। সুতরাং গোলের জায়গায় কোনো গণ্ডগোল দেখছেন না অস্কার ব্রুজোন, ‘কিংসের প্রেসিং ফুটবলে গোল নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না আশা করি। গোল বের করার মতো অনেক খেলোয়াড় আছে দলে। আগের মতো আধিপত্য বিস্তার করে খেলে ম্যাচ জিততে চাই।’ এই দলে দাপটে খেলার সব রসদ আছে। কিন্তু সবাইকে একসঙ্গে ট্রেনিংয়ে পাচ্ছেন না কোচ। জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্য ১১ জন প্রায়ই থাকেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। গত ১৮ নভেম্বর থেকে কোচ একসঙ্গে ট্রেনিংয়ে পেয়েছেন সবাইকে। এ মাসের শেষের দিকে তাঁদের ছেড়ে দিতে হবে এসএ গেমসের জন্য। তাই দলের কম্বিনেশন তৈরি নিয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে কিংসের কোচিং স্টাফরা। এটাকেই একমাত্র সমস্যা মানছেন দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর যোবায়ের নিপু, ‘সবাইকে ২০ দিন একসঙ্গে পেলেই আমাদের কম্বিনেশন তৈরি হয়ে যেত। এটাই আমরা করতে পারছি না। এখন দেশিরা থাকলেও বখতিয়ার ও জালাল নিজেদের জাতীয় দলের খেলা শেষ করে এখনো ফেরেননি। এখন ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলার প্রস্তুতি চলছে। তবে আমাদের যেসব খেলোয়াড় আছে, তাতে আমরা যেকোনো ফরমেশনে খেলতে পারব।’

ফরমেশন নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা থাকার কথা নয়। তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ট্রেনিং ঠিকঠাক হলে এই মৌসুমেরও কিং হয়ে উঠবে তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা