kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

টস জিতে ব্যাটিং কেন?

টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মমিনুলের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট চলছে, ব্যাটিং ভাগ্য যা-ই হোক মুদ্রাভাগ্যটা তাঁর দারুণ ভালো। ইন্দোরের পর কলকাতা, দুইবারই বিরাট কোহলিকে মুদ্রানিক্ষেপের খেলায় হারিয়ে দিয়েছেন মমিনুল। তবে টসে জিতে যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাতে যে হিতে বিপরীত হচ্ছে!

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টস জিতে ব্যাটিং কেন?

মমিনুল হক সম্ভবত ডাব্লিউ জি গ্রেসের গুণমুগ্ধ অনুসারী। ক্রিকেটের এই অমর বুড়োর একটি বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে, ‘টস জিতলে ব্যাট করো, দ্বিধা থাকলে...ব্যাট করো আর যদি অনেক ভাবনায় থাকো তাহলে কারো সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যাটিংটাই নাও।’ টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মমিনুলের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট চলছে, ব্যাটিং ভাগ্য যা-ই হোক মুদ্রাভাগ্যটা তাঁর দারুণ ভালো। ইন্দোরের পর কলকাতা, দুইবারই বিরাট কোহলিকে মুদ্রানিক্ষেপের খেলায় হারিয়ে দিয়েছেন মমিনুল। তবে টসে জিতে যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাতে যে হিতে বিপরীত হচ্ছে!

ইন্দোরের স্পোর্টিং উইকেটে টস জিতে ভারতের এই ফাস্ট বোলিংয়ের সামনে মমিনুল ঠেলে দিয়েছিলেন অপ্রস্তুত দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে। একদিকে বারবার জাতীয় দলে ঢোকা ও বাদ পড়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলা ইমরুল কায়েস, অন্যদিকে তরুণ সাদমান ইসলাম। উমেশ যাদব, ইশান্ত শর্মা আর মোহাম্মদ সামিদের নিয়ে গড়া ভারতের এই পেস বোলিং যেকোনো বড় দলের ব্যাটসম্যানদেরও পরীক্ষা নেবে। হয়েছেও তা-ই। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি কলকাতাতেও। গোলাপি বলে খেলা, তিন পেসার বাংলাদেশের একাদশে। এই অভিজ্ঞতা যেহেতু দুই দলের জন্যই নতুন, তখন সুযোগটা পেয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকেও একটু অপ্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া যেত। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের বিপক্ষে এইটুকু সুযোগও তো অনেক! কিন্তু মমিনুল বেছে নিলেন ব্যাটিং। এরপর তো ফিরে ফিরে এলো অ্যান্টিগার সেই দুঃস্বপ্ন! ৪৩ রানে অল আউট হওয়ার আশঙ্কা জাগিয়ে ৩৮ রানেই নেই ৫ উইকেট। ইমরুল কায়েস তিনটি ইনিংস খেলেছেন, একটিতেও দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। ইন্দোরের ৬, ৬ এর পর কাল আউট হয়েছেন ৪ রানে।

সবচেয়ে দুর্বল দেখিয়েছে মিডল অর্ডারকে। অধিনায়ক মমিনুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন ও মুশফিকুর রহিম; তিনজনই আউট হয়েছেন শূন্য রানে। অথচ বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড মমিনুল-মুশফিকই। মমিনুলের ৩৭ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা, ৮ শতরান আর মুশফিকের নেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন; সব কিছুর যোগফল হচ্ছে শূন্য। অথচ সুযোগ এসেছিল ইন্দোরের ভুল কলকাতায় শুধরে নেওয়ার। গোলাপি বলে খেলাটা দুই দলের জন্যই নতুন অভিজ্ঞতা হওয়ার কারণে টসে জিতে ভারতকে আগে ব্যাট করতে পাঠালে হয়তো আল-আমিন হোসেনের বল আরো ধারালো হতো। হয়তো আবু জায়েদের বলের ধার আরেকটু বাড়িয়ে দিত বলের ওপর গোলাপি রঙের পলিশ। চকচকে ভাবটা থেকে যেত আরো কিছুক্ষণ। কিন্তু টস জিতে ব্যাটিংয়ের মতো আত্মাহুতির সিদ্ধান্তই দাঁড়ি টেনে দিল সব সম্ভাবনায়।

গোলাপি বলে দিন-রাতের টেস্ট দেখতে ইডেনে হাজির হাজার পঞ্চাশেক মানুষ। আমন্ত্রিত অতিথির তালিকায় ভারতের বেশ কয়েকজন সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট দলের সদস্যরা। তাঁদের সামনে যে কুিসত ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনীটা বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা দেখালেন, তাতে ভবিষ্যতে টেস্ট ক্রিকেটে দুটি স্তর প্রচলনের প্রস্তাবনা এলে বাংলাদেশের পক্ষে সাফাই গাওয়ার লোক পাওয়া যাবে না।

টস জিতলে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটা নিশ্চয়ই মমিনুল হক একা নেন না। টসে নামার আগেই তো ঠিক করে রাখা থাকে। সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অধিনায়ক, কোচ, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারসহ একাধিক জনেরই থাকার কথা। সবাই মিলে এক হয়ে কি এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নাকি অন্য কোথাও থেকে এসব সিদ্ধান্ত আসছে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকতেই পারে। ইডেনে হাজির বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সামনে ব্যাটিং করার লোভটা সংবরণ করা কঠিনই, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে যখন থাকেন বোর্ড সভাপতি।

খেলা মাঠে গড়াবার আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছিল সন্ধ্যাবেলায় গোলাপি বল দেখতে পাওয়া আর না পাওয়া নিয়ে। বাংলাদেশ দল সেই চ্যালেঞ্জটাই টের পেল না! দুপুর ১টা থেকে শুরু হওয়া প্রথম সেশন শেষ হয়েছে ৩টায়, এর মধ্যেই তো ৭৩ রানে ৬ উইকেট নেই বাংলাদেশের। ইডেন টেস্ট শুরুর আগে মমিনুল বলেছিলেন, ইন্দোরের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে চান না কলকাতায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় ভুলের পুনরাবৃত্তিটা তো তিনি নিজেই করলেন। গোলাপি বলের প্রথম টেস্টে, টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা