kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

গোলাপি বলের সুবিধা-অসুবিধা

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোলাপি বলের সুবিধা-অসুবিধা

কলকাতা থেকে প্রতিনিধি : এবারই প্রথম গোলাপি রঙের এসজি বলে খেলা হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেট। এর আগের ১১টি দিন-রাতের টেস্টে খেলা হয়েছিল কোকাবুরা ব্র্যান্ডের গোলাপি বলে। খেলতে নামার আগে, গোলাপি বলে অনুশীলন করার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের অধিনায়ক মমিনুল হক জানিয়েছেন তাঁর ধারণা। মমিনুল মনে করছেন, গোলাপি বলে ব্যাট হাতে সফল হতে দরকার বাড়তি মনোযোগ।

এসজির প্রধান বল পরিদর্শক ওয়াসিউল্লাহ খান ব্যাখ্যা করেছেন কোথায় দুটি বলের মূল পার্থক্য, ‘লাল বল আর গোলাপি বলের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে ওপরের চামড়ার স্তরে, ভেতরে দুটি বলই সমান। দুটি বলের সেলাইতে কোনো তফাত নেই, তফাত শুধু সুতার রং। লাল বল সেলাই করা হয় সাদা সুতা দিয়ে আর গোলাপি বল সেলাই করা হয় কালো সুতো দিয়ে।’ তাঁর কাছ থেকে আরো জানা গেছে, দুটি বলের ওপরের স্তর দুই রকম, ‘লাল বলে আমরা মোমপলিশ ব্যবহার করি। গোলাপি বলে মোমপলিশটা ব্যবহার করা হয় না, কারণ তাহলে বল কালো হয়ে যাবে। মোমপলিশের বদলে লাগানো হয় একধরনের রাসায়নিকের প্রলেপ, যেটা বলটাকে পানি শুষতে দেয় না আর ৪০ ওভার অবধি ভালো রাখে।’ আরো একটু পার্থক্য আছে সিমে। লাল বলের সিমটা কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি, গোলাপি বলটার সিম কৃত্রিম তন্তু আর লিনেনের মিশ্রণে তৈরি। সিমে ব্যবহৃত লিনেন শিশিরের আর্দ্রতা শুষে নিয়ে বলটাকে ধরতে সুবিধা দেয়।

বল পরীক্ষকরা বলছেন, গোলাপি বল খেলার প্রথম ১০-১৫ ওভার খুব সুইং করবে। কারণ যে রংটা চামড়ার ওপর মাখানো হয়েছে, সেটা সহজে উঠে যাবে না তাই বলটা বেশি সময় ধরে নতুনের মতো থাকবে। এই পলিশের কারণে বলটা উইকেটে পড়ে দ্রুত ছুটবে। তাঁদের ধারণা, এই উইকেটে যে ব্যাটসম্যানরা বল শেষ পর্যন্ত দেখে খেলবেন তাঁরাই ভালো করবেন আর বোলারদের পারফরম্যান্স ১০-১৫ শতাংশ ভালো হতে পারে। গোলাপি বলের সঙ্গে ইডেনের নতুন উইকেট। হাতছানি দিচ্ছে সুইং বোলারদের সুবিধার।

মমিনুল হক কাল সংবাদ সম্মেলনে জানালেন নিজের অভিজ্ঞতার কথা, ‘আমার কাছে মনে হয় গোলাপি বলে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে ফ্লাডলাইটের আলোয়। কারণ বলে যে উজ্জ্বলতা থাকে, সেটা লাইটের কারণে অনেক সময় ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। ব্যাটিংয়ে যদি মনোযোগ না থাকে তাহলে অনেক বেশি কঠিন হবে। প্রতিটি বল দেখেশুনে খেলতে হবে। তাহলে হয়তো ভালো করা সম্ভব হবে। গোলাপি বলটা একটু জোরে আসে, হয়তো বলের উজ্জ্বল অংশের কাছেই আসে। আমার কাছে তা-ই মনে হয়।’ মমিনুলের ভাবনাচিন্তা স্পষ্ট। বলের রং যা-ই হোক, খেলতে তো হবে ক্রিকেটই! তাই মানসিক প্রস্তুতিটাই আসল হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমার ভেতর গোলাপি বল নিয়ে খুব বেশি রোমাঞ্চ কাজ করছে না। কারণ দিনশেষে তো ক্রিকেটই খেলতে হবে। হয়তো রোমাঞ্চটা চলে এসেছে গোলাপি কিভাবে খেলা হবে, কিভাবে খেলব এসব নিয়ে। তবে আমাদের মূল রোমাঞ্চ কিন্তু খেলা নিয়েই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা