kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার

ইতিহাসের সেরা সাকিব, এরপর মাশরাফি-তামিম

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সেরা দল বাছার পরিকল্পনা দিয়েই শুরু হয়েছিল। তখন মনে হলো, এর সঙ্গে ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার কে, এই প্রশ্নটা রাখলে কেমন হয়! যাঁদের কাছে টেস্ট দল চাওয়া হয়েছিল তাঁদের কাছেও থাকল একই প্রশ্ন। সেরা তিন ক্রিকেটার কারা? আমরা সবাই-ই কমবেশি জানি যে সাকিব আল হাসানই বাংলাদেশ ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার। মাশরাফি-তামিম-মুশফিকরা ঘুরেফিরে থাকবেন এরপর। ফলও হয়েছে সেরকমই কিন্তু সেটা খুব সহজ পথে নয়। বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেট নায়কদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যাচ্ছে নানাজন ভাবেন নানা রকম কিন্তু মিলিয়ে যে ফল সেটা আবার সাধারণ বিশ্বাসকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। মাসুদ পারভেজের করা ১২ পর্বের ধারাবাহিকের শেষ দিনে আজ থাকল ইতিহাসের সেরাদের নিয়ে সেই আয়োজনই

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ইতিহাসের সেরা সাকিব, এরপর মাশরাফি-তামিম

এই সময়ের ক্রিকেটারদের মধ্য থেকেই সর্বকালের সেরা তিনজন বেছে নিলেও আরেকজনকে রাখতে না পারার দুঃখে বারবারই কাতর হচ্ছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন, ‘এখনকার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনুশীলন করতে পারলে বাঘ মামা যে বল কোথায় মারতেন, কেউ জানে না!’

এই ‘বাঘ মামা’ হচ্ছেন বাংলাদেশের হয়ে মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলা গত শতাব্দীর আশির দশকের ক্রিকেটার রফিকুল আলম। ২০১১-র বিশ্বকাপের সময় প্রধান নির্বাচক সাবেক এই মারকুটে ব্যাটসম্যান প্রবাসেও থিতু হয়েছেন বহুদিন হয়। তবে ৩৩ বছর আগে তাঁর খেলা একটি ইনিংস এখনো চিরসবুজ আতহার আলী খানের চোখে, ‘ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের ওমর কোরেশী একাদশের বিপক্ষে ৮৬ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন বাঘ মামা। বাপ রে বাপ! ডেঞ্জারাস ইনিংস!’ অন্য নাম নিয়ে মূলত পাকিস্তানের জাতীয় দলই সেবার খেলতে এসেছিল। যে দলে ইমরান, জাকের খান ও মহসিন কামালদের সঙ্গে ছিলেন তরুণ ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আকরামও।

সেই সময়ের মানদণ্ডে বীরোচিত ব্যাটিং করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উত্তপ্ত কড়াইয়ে তেমন পরীক্ষিত হননি বলে গাজী আশরাফ-আতহারের মতো গুণমুগ্ধরা শেষ পর্যন্ত সর্বকালের সেরা তালিকায় ঠাঁই দিতে পারেননি রফিকুলকে।

তাঁরই সমসাময়িক জাহাঙ্গীর শাহ বাদশাও কালের কণ্ঠ’র অনুরোধে ইতিহাসের সেরা টেস্ট একাদশ এবং সর্বকালের সেরা তিন বেছে দেওয়া সাবেক ক্রিকেটারদের অনেককে ‘নস্টালজিক’ করে দিয়েছেন। ৫টি ওয়ানডে খেলা এই অলরাউন্ডারকে নিয়ে যেমন ফারুক আহমেদ বলছিলেন, ‘এটি বলে দিতে পারি যে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যত সিম বোলার তৈরি হয়েছে, তাদের মধ্যে বাদশা ভাই সেরা।’ তা হলেও এই শতাব্দীর দুই দশকে আন্তর্জাতিক সাফল্যে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালরা এত এগিয়ে গেছেন যে বাদশাকে জায়গা দিতে পারেননি দুই মেয়াদের প্রধান নির্বাচক ফারুক। 

যা দিতে পেরেছেন বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট থেকে ধারাভাষ্যে ক্যারিয়ার শুরু করা আতহার, ‘তিন নম্বরে আমার বাদশা ভাইকে রাখতেই হচ্ছে।’ সবার আগে সাকিবকে রাখা আতহারের তালিকার দুই নম্বরে আছেন ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের আইসিসি ট্রফি জয়ী দলের অধিনায়ক আকরাম খানও। অবদান ও প্রভাবের দিক থেকে সেই আসরে হল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা আকরামের অপরাজিত ৬৮ রানের ইনিংসটিকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের আজকের অবস্থানের ভিত্তি বলে মনে করেন সাবেক এই ওপেনার, ‘আকরাম ওই ইনিংসটি না খেললে হয়তোবা আমরা ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপও খেলতাম না। হয়তোবা আসতে পারতাম না আজকের অবস্থানেও। কাজেই পুরো দেশের ক্রিকেটকে প্রভাবিত করতে পারার বিষয়টি বিবেচনা করলে আকরামকে বাদ দেওয়া যাবে না।’

বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান বাদ দিতে পারেননি আকরামের প্রায় সমসাময়িক মিনহাজুল আবেদীনকেও। টেস্ট খেলেননি বলে যাঁকে সেরা একাদশে রাখতে না পারার দুঃখে পুড়েছেন অনেকেই। তবে সর্বকালের সেরার বিবেচনা যেহেতু প্রায় ৫০ বছরের বাংলাদেশ ক্রিকেটের, তখন মিনহাজুলকে রাখার সুযোগ হেলায় হারাননি তিনি। বিশ্বকাপে ম্যাচ সেরা হওয়া প্রথম বাংলাদেশিকে তৃতীয় স্থানে রাখা নাঈমুর দিয়েছেন এ ব্যাখ্যাও, ‘বাংলাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার পেছনেও আকরাম, বুলবুল (আমিনুল) ও নান্নু (মিনহাজুল) ভাইদের অবদান আছে। এখানে আমি ২০ বছর চিন্তা করিনি। চিন্তা করেছি ৫০ বছর। সেই চিন্তায় ওনারা এসেই যান। আমি রাখলাম একজনকে।’

দেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করে অমরত্ব পেয়ে যাওয়া আমিনুল ইসলাম নিজের তালিকার দুই নম্বরে রেখেছেন গত শতাব্দীর ’৭০-র দশকের রকিবুল হাসানকেও, ‘ব্যাটে জয় বাংলা স্টিকার লাগিয়ে খেলতে নামা এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশের ক্রিকেটকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ওনার অবদান অস্বীকার করা যায় না।’ রকিবুল অবশ্য নিজের তালিকায় সবার ওপরে রেখেছেন নিজেকেই, ‘নিজের ঢোল নিজে বাজিয়েছি বলে লোকে কী বলবে আমি জানি না। তবে আমি নিজেকে এভাবেই প্রকাশ করি। এবং আমি সে জন্য গর্ববোধও করি।’ সেই সঙ্গে নিজেকে এক নম্বরে রাখার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এভাবে, ‘এমসিসির বিপক্ষে আমি সিরিজ সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলাম। আমিই প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার যে কিনা বিশ্ব একাদশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও প্রচুর রান করতাম। আবার স্বাধীনতার পর দেশে ক্রিকেট হবে কি হবে না, সেই টালমাটাল সময়েও আমি অবদান রেখেছি।’ রকিবুলের তালিকার দুই ও তিন নম্বরে আছেন সাকিব-মোহাম্মদ আশরাফুল, ‘ওরা পৃথিবীকে নাড়া দিয়েছে।’

সাবেক ১০ ক্রিকেটারের সাতজনের তালিকার এক নম্বরে সাকিব, দুইজনের সেরা মাশরাফি। কালের কণ্ঠ’র পয়েন্ট পদ্ধতিতে ইতিহাসের প্রথম দুই সেরা ক্রিকেটারও তাঁরা দুজনই। তৃতীয় সেরা তামিম।

যেভাবে সেরা নির্ধারণ করা হলো

১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে আমরা বলেছিলাম তাঁদের বিবেচনায় বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সেরা ক্রিকেটার বাছাই করে দিতে। যে যাঁর মতো করে তা দিয়েছেনও। সবার তালিকা একসঙ্গে করে আমরা সেরার ক্রম সাজাতে একটি পয়েন্ট পদ্ধতিও অনুসরণ করেছি। একেকজনের তালিকার প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সেরার জন্য আমরা যথাক্রমে ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট বরাদ্দ করি। সবার তালিকা হাতে এসে যাওয়ার পর শুরু হয় পয়েন্ট গণনা। তাতে সাতজনের তালিকার শীর্ষে থাকা সাকিব আল হাসান ২৪ পয়েন্ট নিয়ে হয়েছেন ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার। দ্বিতীয় সেরা মাশরাফির পয়েন্ট ১৩। তৃতীয় হওয়া তামিম ইকবালের ৬ পয়েন্ট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা