kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

আবাহনীকে দিয়ে শেষ দলবদল

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবাহনীকে দিয়ে শেষ দলবদল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আবাহনীর কোনো শোরগোল তোলা ব্যাপার নেই। বড় কোনা নামও যোগ হয়নি। তবে নতুন তিন বিদেশিকে নিয়ে একটি ‘ব্যালান্সড’ দল তৈরি করেছে আসন্ন ফুটবল মৌসুমের জন্য। এই দল নিয়েই তারা নামবে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে।

চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস কিংবা মোহামেডানের মতো হুল্লোড় তুলে ফেডারেশনে যায়নি আবাহনী। ৩০ জনের একটি তালিকা পাঠিয়ে নীরবেই সেরেছে দলবদল। দলের সামগ্রিক চেহারা আগের মতোই। আগের মৌসুমে ইনজুরিতে কাটানো দুই ফুটবলার ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদ গেছেন বসুন্ধরা কিংসে আর ইমতিয়াজ সুলতান জিতু গেছেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবে। দলে নতুন যোগ হয়েছে কিংসের ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ রাসেলের মিডফিল্ডার সোহেল রানা। দেশি ফুটবলারদের মধ্যে এই অদলবদল ছাড়া নেই তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু।

পাঁচ বিদেশি কোটায় অবশ্য বড় পরিবর্তন আছে। নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবা ‘ঘরের ছেলে’ হয়েই আছেন আকাশি-নীলে। গত লিগে ২০ গোল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও বিগ ম্যাচে এই নাইজেরিয়ানের নিষ্প্রভ উপস্থিতি সবার চোখে পড়ে। যদিও আবাহনী ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু এটাকে আমলে নিচ্ছেন না, ‘এখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতি সানডের চেনা, সে এখনো ভালো ফুটবল খেলে। গত মৌসুমেও তার প্রমাণ দিয়েছে। আমরা মনে করি, নিজের সেরাটা দিলে এবারও গোল নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’ এই নাইজেরিয়ানের পুরনো সঙ্গী হাইতির বেলফোর্টও আছেন। পুরনো দুজনের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন তিন বিদেশি—মধ্যমাঠে কিরগিজ মিডফিল্ডার এডগার বার্নহার্ড এবং দুই ডিফেন্ডার ব্রাজিলের মাইলসন ও মিসরীয় আলাদ্দীন ঈসা।

আবাহনীর কোনো শোরগোল তোলা ব্যাপার নেই। বড় কোনা নামও যোগ হয়নি। তবে নতুন তিন বিদেশিকে নিয়ে একটি ‘ব্যালান্সড’ দল তৈরি করেছে আসন্ন ফুটবল মৌসুমের জন্য। এই দল নিয়েই তারা নামবে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে।

এডগার কিরগিজস্তান জাতীয় দলে খেলেন রাইট উইংয়ে। গত মৌসুমে মালয়েশিয়ার শীর্ষ লিগে কেদা এফএ-র হয়ে খেলেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। ডিফেন্ডার মাইলসনকে নিয়েছে চেন্নাইয়ান এফসি থেকে আর ডিফেন্ডার ঈসা গত মৌসুমে এএফসি কাপের দুটি ম্যাচ খেলেছেন আবাহনীর জার্সিতে। গতবার রক্ষণভাগ নিয়ে ভোগার কারণেই এবার পাঁচ বিদেশির মধ্যে দুজন ডিফেন্ডার নিয়েছে গত মৌসুমের ফেডারেশন কাপ জয়ীরা। দলটির ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু বিশেষভাবে সারাতে চান বেমক্কা গোল হজমের বদভ্যাস, ‘গতবার অনেকগুলো গোল করলেও আমরা গোল খেয়েছি অনেক বেশি। কারণ আমাদের রক্ষণে সমস্যা ছিল। দুজন বিদেশি নিয়ে সেই রক্ষণভাগ মেরামত করার চেষ্টা করেছি আমরা।’ লিগের রানার্স-আপ দলের ম্যানেজারের বিশ্বাস, ‘এই দল গতবারের চেয়ে শক্তিশালী এবং ব্যালান্সড। আবাহনী যথারীতি শিরোপার জন্যই খেলবে।’

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র মোটামুটি মানের একটি দল গড়েছে। দলটির কোচ আব্দুল কাইয়ুম সেন্টু মনে করেন, ‘দল খারাপ হয়নি, গতবারের মতোই তার শক্তি। তবে আমাদের উন্নতি করার সুযোগ আছে।’ রহমতগঞ্জের কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানীর এবার উচ্চাশা, ‘গতবার সিনিয়রদের তেমনভাবে সার্ভিস পাইনি। এবার আশা করছি, সে রকম হবে না এবং আগের চেয়ে অনেক ভালো করবে আমাদের দল। মুক্তিযোদ্ধার কামারা ইউনুসা এবং চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে গাম্বিয়ান মোমদু বাহকে নিয়েছি, সঙ্গে তাজিক জাতীয় দলের আকপভ আসররভকে নিয়েছি।’ আগেরবারের পাঁচ নম্বর দল আরামবাগ শেষ মুহূর্তে একটি দল গড়ে প্রিমিয়ারে টিকে থাকার মিশন নিয়েছে। শুদ্ধি অভিযানের কারণে আরামবাগ তাদের প্রার্থিত দল গড়তে পারেনি। গতবারের কোচ মারুফুল হকও তাই পুরনো দল ছেড়ে নিয়েছেন চট্টগ্রাম আবাহনীকে অষ্টম স্থান থেকে ওপরে তুলে আনার চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া শেষ দিনে ব্রাদার্স ও উত্তর বারিধারাসহ মোট ছয় দলের খেলোয়াড়দের রেজিস্ট্রেশন ফরম জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা