kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

দিনের আলোয় রাতের প্রস্তুতি!

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



দিনের আলোয় রাতের প্রস্তুতি!

সকাল ১০টায় অনুশীলন শুরু, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা নাগাদ শেষ। বাংলাদেশের টেস্ট দলের প্রথম ইডেন পদস্পর্শের এই হচ্ছে সময়সূচি, যেটা আদতে ঠিকানা চেনা ছাড়া খুব একটা কাজে আসবে না! দিন-রাতের গোলাপি বলের টেস্টে খেলাই শুরু হবে দুপুর ১টা থেকে, সেখানে দুপুরবেলায়ই সব গুটিয়ে নিয়ে হোটেলে ফিরে যাওয়া। সকাল ১০টার ফকফকে আলোয়, শুকনো ঘাসে বলটাকে যেভাবে দেখা যাবে, তার সঙ্গে গোধূলিবেলায় শিশিরে ভেজা বলের অনেক তফাত।

গোলাপি বলের সঙ্গে অবশ্য এত দিনে সামান্য সখ্য গড়ে উঠার কথা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। ইন্দোর টেস্ট তিন দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ার পর, বাকি দুটি দিন গোলাপি বলে অনুশীলন করেছেন মমিনুল-মাহমুদ উল্লাহরা। ঐতিহ্যে ভরা ইডেনে সকালবেলায় এসে গা গরম আর ব্যাটে বল ঠুকে আত্মবিশ্বাসটাই বাড়িয়ে নেওয়া গেছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা স্পিন বোলিং পরামর্শক ড্যানিয়েল ভেট্টোরিও বললেন, যে সময়ে অনুশীলনটা হয়েছে তাতে খুব একটা উপকার নেই, ‘দিনের এই সময়টায়, গোলাপি বলে খেলাটা সাধারণ বলে খেলার মতোই, বিশেষ করে এই ঝকঝকে আলোয়। আমার মনে হয় সত্যিকারের চ্যালেঞ্জটা হবে যখন খেলাটা হবে ফ্লাডলাইটে। এখন দিন ছোট, সূর্য তাড়াতাড়ি ডুবে যায়। আমার মনে হয় সেই সময়টাতেই গোলাপি বল তার আসল বৈশিষ্ট্য মেলে ধরবে। বিশেষ করে গোধূলিবেলায়, সন্ধ্যালগ্নে। এটাই ম্যাচের সেই সময়টা যখন কৌশলগত কিছু কাজে লাগাতে হবে। উইকেট খুব ভালো হবে এবং গোলাপি বলে দিনের শেষ সেশনে খেলাটা রোমাঞ্চকর হবে।’

আজ ভালোভাবে ফ্লাডলাইটের নিচে অনুশীলনের সুযোগ মিলবে বাংলাদেশ দলের। ভেট্টোরি তাকিয়ে আছেন সেই দিকেই, ‘যখন অন্ধকার হয়ে আসে, সেই সময়ে মাত্র একবার অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি আমরা। কাল (আজ) আমরা প্রথমবারের মতো কৃত্রিম আলোয় পুরো একটি সেশন অনুশীলন করব। এতক্ষণ যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। এই সময়টাতে গোলাপি বলে ভালোভাবেই খেলা যায়।’

বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং পরামর্শক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি বললেন, ‘দিনের এই সময়টায়, গোলাপি বলে খেলাটা সাধারণ বলে খেলার মতোই, বিশেষ করে এই ঝকঝকে আলোয়। আমার মনে হয় সত্যিকারের চ্যালেঞ্জটা হবে যখন খেলাটা হবে ফ্লাডলাইটে। এখন দিন ছোট, সূর্য তাড়াতাড়ি ডুবে যায়। আমার মনে হয় সেই সময়টাতেই গোলাপি বল তার আসল বৈশিষ্ট্য মেলে ধরবে। বিশেষ করে গোধূলিবেলায়, সন্ধ্যালগ্নে। এটাই ম্যাচের সেই সময়টা যখন কৌশলগত কিছু কাজে লাগাতে হবে। উইকেট খুব ভালো হবে এবং গোলাপি বলে দিনের শেষ সেশনে খেলাটা রোমাঞ্চকর হবে।’

টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে থেকেই গোলাপি বলের সুইং আর সিম মুভমেন্ট নিয়ে আলোচনার শুরু। সাবেক বাঁহাতি পেসার ভেট্টোরি মনে করেন, পেসারদের সঙ্গে স্পিনাররাও কার্যকর হয়ে উঠতে পারেন গোলাপি বলে, ‘আমি মনে করি স্পিন বোলাররাও বড় একটা ভূমিকা রাখতে পারে দিন-রাতের টেস্টে। বিশেষ করে দিনের শুরুর দুটি সেশনে স্পিনাররা খুব কাজে আসতে পারে। আগের টেস্টে দুই দলই দুজন করে স্পিনার খেলিয়েছে। দুটি দলের জন্যই তারা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখার্জি ও স্থানীয়দের মত, ইডেনের দীর্ঘদিনের কিউরেটর প্রবীর মুখার্জির মৃত্যুর পর এবং সৌরভ গাঙ্গুলি সিএবি প্রধান হওয়ার পর মাঠের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থাসহ অনেক কিছুর পরিবর্তন আনায় ইডেনের এখনকার উইকেট পেসারদের দিকেই হাত বাড়িয়ে রাখবে। ভেট্টোরির ভাবনাও তা-ই বলছে, ‘গত বছর দুই আগে এখানে নতুন করে যে উইকেট বসানো হয়েছে, তাতে আগের চেয়ে বেশি বাউন্স আছে। দেখলাম ওরা (মাঠকর্মী) উইকেটে পানি দিচ্ছে আর ঢেকে রাখছে। আমি নিশ্চিত তারা উইকেটটাকে শুকনো বানিয়ে রাখতে চাইবে না। কারণ কৃত্রিম আলোয় গোলাপি বল হাতে একজন পেসার এখানে অনেক কিছুই করতে পারে।’

ইন্দোরের সূর্যের আলোতেই মোহাম্মদ সামি, উমেশ যাদব আর ইশান্ত শর্মারা তাসের ঘরের মতো ধসিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং। এবারে তাতে যোগ হচ্ছে গোলাপি এসজি বলের সুইংয়ের সঙ্গে রাতের আলো আর শিশিরের প্রভাব। তাতে করে পেসাররা আরো ধারালো হয়ে উঠবে বলেই মনে করেন ভেট্টোরি, তাই সুযোগ দেখছেন বাংলাদেশের পেসারদের ভালো করারও, ‘আমাদের চার পেসার খুব রোমাঞ্চিত। বাংলাদেশের পেসারদের জন্য রোমাঞ্চিত হওয়ার মতো উপলক্ষ কমই আসে। আমি খুব আশাবাদী। প্রচুর লোকে খেলা দেখতে আসবে। প্রথমবারের মতো গোলাপি বলে খেলার আনন্দটা নেওয়া উচিত।’

চেনা ইডেনে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হয়ে আসা ঋদ্ধিমান সাহা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন দিন-রাতের টেস্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সেটা হচ্ছে দেহঘড়ি! সকালবেলা টেস্ট খেলতে উঠে অভ্যস্ত শরীরকে দুপুর থেকে রাত অবধি খেলতে ছোটানো, খাবারের বিরতির সময়গুলোর এদিক-ওদিক, সব কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে না বলেই মনে করেন ভারতের উইকেটরক্ষক, ‘অন্য টেস্ট ম্যাচের চেয়ে আলাদা। তবে আমাদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে না। দলে এমনও খেলোয়াড় আছে যারা সন্ধ্যা ৬টা-৭টার সময়ই রাতের খাবার খেয়ে নেয়। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দিন-রাতের ম্যাচ, আইপিএলের ম্যাচ তো সবাই খেলেছে। তাই অসুবিধা হবে না।’ অসুবিধা যেটা হবে, সেটায় অবশ্য ইন্দোরে দিনের আলোতেও সমস্যা হয়েছে! ঋদ্ধিমান বলছেন, স্লিপ ফিল্ডারদের সমস্যা হবে বল দেখতে, ‘কিপিং করাটা কঠিন, স্লিপে ফিল্ডারদের জন্য আরো কঠিন। বল অনেক দ্রুত ছোটে। গোধূলির সময় বল দেখাটা কঠিন হবে।’

ঘুরে ফিরে প্রায় সবার কথাতেই উঠে আসছে গোধূলিবেলায় বল দেখতে না পাওয়ার অসুবিধার কথা। সকাল ১০টায় অনুশীলন করে যে অসুবিধা দূর করার কোনো উপায় নেই! ইন্দোরে টেস্ট ম্যাচের আগে ছিল না অনুশীলন, কলকাতায় দিন-রাতের টেস্টের আগের অনুশীলন হলো সকালে। প্রস্তুতির ঘাটতি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে হোলকার স্টেডিয়ামে। সাধের গোলাপি বলের টেস্টেও যদি অমন ব্যাটিংই দেখা যায় বাংলাদেশ দলে, তাহলে বলের রং বদলেও ফেরানো যাবে না টেস্টের রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা