kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

দুই বছর স্থগিত

পাঁচ বছর নিষিদ্ধ শাহাদাত

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাঁচ বছর নিষিদ্ধ শাহাদাত

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জাতীয় দলে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন চার বছরেরও আগে। এখন বয়স পেরিয়েছে ৩৩ বছর। তবু আবার লাল-সবুজের জার্সিতে ফেরার স্বপ্ন দেখছিলেন শাহাদাত হোসেন। কিন্তু জাতীয় দল দূরের কথা, ক্রিকেটেই আর কখনো ফিরতে পারবেন কি না এই পেসার, তাতেও সন্দেহ। জাতীয় লিগের খেলায় সতীর্থকে মারধরের অভিযোগে যে কাল পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে শাহাদাতকে!

পাঁচ বছরের মধ্যে শেষ দুই বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ তিন বছর পর মাঠে ফেরার সুযোগ থাকবে। কিন্তু ৩৬ পেরোনো পেসারের তখন আর দেওয়ার থাকবে কী!

ঘটনা জাতীয় লিগে ঢাকা-খুলনার শেষ রাউন্ডে। ঔজ্জ্বল্য ঠিক করার জন্য বল ঘষা নিয়ে সতীর্থ আরাফাত সানি জুনিয়রের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় শাহাদাতের। পরে মেজাজ হারিয়ে সতীর্থকে চড়, লাথি পর্যন্ত মারেন তিনি। এর আগে বাসার শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে যাঁকে জেল পর্যন্ত ঘুরে আসতে হয়েছে। এবারের ঘটনায় ম্যাচ রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচের শেষ দুই দিনের জন্য বহিষ্কার করেন এই পেসারকে। আর কাল টেকনিক্যাল কমিটি দিল দীর্ঘ মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা। সঙ্গে তিন লাখ টাকা জরিমানা।

‘এটি শুধু দুঃখজনক না, লজ্জাজনক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একজন ক্রিকেটার আরেক ক্রিকেটারের গায়ে হাত তুলবে, চড় মারবে, লাথি মারবে, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রাজীবের ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড এমনিতে ভালো না। আর এমন তো না যে বয়স কম। হঠাৎ ভুল করে ফেলেছে। আমরা শাস্তি দেওয়ার সময় এসব কিছু বিবেচনায় নিয়েছি’—টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান মিনহাজুল আবেদীনের ব্যাখ্যা। এ শাস্তিকে অন্যদের জন্য বার্তা হিসেবেও দেখছেন তিনি, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো খুব বেশি খেলোয়াড় খেলে না। তুলনায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের খেলোয়াড় সংখ্যা অনেক বেশি। সেখানেও উদাহরণ তৈরির ব্যাপার রয়েছে। এ ঘটনায় পুরো ক্রিকেটবিশ্বেই আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা এই শাস্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্য ক্রিকেটারদের একটি বার্তা দিতে চেয়েছি। অপরাধ করলে যে পার পাওয়া যাবে না, সেটি বুঝিয়েছি।’

পাঁচ বছরের মধ্যে শেষ দুই বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ তিন বছর পর মাঠে ফেরার সুযোগ থাকবে। কিন্তু ৩৬ পেরোনো পেসারের তখন আর দেওয়ার থাকবে কী!

শাহাদাতকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে ম্যাচ অফিশিয়ালদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে। সেখানেই উল্লেখ করা রয়েছে, এই পেসার আচরণবিধি ভঙে চতুর্থ পর্যায়ের অপরাধ করেছেন। ম্যাচ অফিশিয়ালদের রিপোর্টে সেভাবে না থাকলেও ঘটনায় ঢাকার মোহাম্মদ শহীদের জোরালো ইন্ধনের যোগসূত্রও খুঁজে পেয়েছে টেকনিক্যাল কমিটি। টেকনিক্যাল কমিটি আরো আলোচনার পর ওই পেসারের বিপক্ষেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন মিনহাজুল।

শাস্তির বিপক্ষে আপিল করার সুযোগ রয়েছে শাহাদাতের। তা তিনি করবেন বলেও জানান, ‘আমাকে বলা হয়েছে ২৬ তারিখে বোর্ডে গিয়ে টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে দেখা করতে। অবশ্যই আমি শাস্তি কমানোর আবেদন করব। ক্রিকেটই আমার জীবন। আমার জীবিকা। খেলতে না পারলে আমার জীবন তাই শেষ হয়ে যাবে।’ নিজের ভুল মেনে নিলেও সতীর্থকে চড়-লাথি মারেননি বলে দাবি তাঁর, ‘অবশ্যই আমি ভুল করেছি। মাঠে নিজ দলের খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিয়েছি। কিন্তু চড় কিংবা লাথি মারিনি।’ তাহলে ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে তা এলো কিভাবে? নিজের পক্ষে শাহাদাতের সাফাই, ‘খুলনা স্টেডিয়ামে তো আপনি গেছেন। সেখানে এক দিকের দোতলায় ম্যাচ রেফারি বসেন। অন্য প্রান্তের মিড অফে ঘটেছে ঘটনাটি। অত দূর থেকে সেটি স্পষ্ট দেখা যাওয়ার কথা না। আমি তো বলছি, আরাফাতের গায়ে হাত তোলা ঠিক হয়নি। কিন্তু চড় কিংবা লাথি মেরেছি কি না, ওকেই জিজ্ঞেস করুন। ভিডিও ফুটেজ দেখাক পারলে।’

আপিলের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে শাহাদাতের ক্রিকেট ক্যারিয়ার যে শেষ হয়ে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা