kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে মোহামেডান

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : হঠাৎ মোহামেডান ক্লাবে আলোর রোশনাই! সদর গেট পুরোপুরি খোলা, অবারিত মোহামেডান। লনে বসে আড্ডায় ব্যস্ত সংগঠক-খেলোয়াড়-সমর্থকরা। শুভানুধ্যায়ীদের আগমনে রীতিমতো গমগম করছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ফুটবলের দলবদল উপলক্ষে সাদা-কালোর নতুন সাজ আর সেই চেনা মুখদের আগমনে ক্লাবে ফিরেছে পুরনো চেহারা। তারা খুব আনন্দ-উল্লাস করেই আজ দলবদল করতে যাবেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে।

‘ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি’র ধাক্কা কাটিয়ে ক্লাবটির হঠাৎ এই রংবদলে যে কারো ধাঁধা লাগতে পারে। মোহামেডানের সাবেক তারকা ও ম্যানেজার ইমতিয়াজ সুলতান জনির মন্তব্য, ‘সরকারের এই শুদ্ধি অভিযানে আমাদের ক্লাবের লাভই হয়েছে। এখন সবাই আসতে শুরু করেছে ক্লাবে, খোঁজখবরও নিচ্ছে।’ আগে ক্লাবে আসতে নিষেধ না থাকলেও তেমন কেউ আসতেন না। বন্ধ থাকত সদর গেট। কারণ ভেতরে বসত ক্যাসিনোর রমরমা আসর, তাই গেটে কোষ্ঠি-ঠিকুজি দেখিয়েই ঢুকতে হতো। সেই ক্যাসিনো বন্ধ এবং তার অন্যতম হোতা ক্লাবের অ্যাডমিন ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় মোহামেডান ক্লাব। ক্লাবটির হকি সংগঠক হিসেবে পরিচিত সাজেদ এ আদেল আড্ডার ফাঁকে বলেছেন, ‘এখন একটা দুর্দান্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে মোহামেডান ক্লাবে। সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠকরা আসছেন, গল্প-গুজব করছেন। সাময়িকভাবে আর্থিক সংকট থাকতে পারে, তবে সবার ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে মোহামেডান আবার আগের মতো হয়ে উঠবে। এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব তার পুরনো সংগঠক, সমর্থক এবং খেলোয়াড়দের হবে।’

মোহামেডানের সাবেক তারকা ও ম্যানেজার ইমতিয়াজ সুলতান জনির মন্তব্য, ‘সরকারের এই শুদ্ধি অভিযানে আমাদের ক্লাবের লাভই হয়েছে। এখন সবাই আসতে শুরু করেছে ক্লাবে, খোঁজখবরও নিচ্ছে।’

তবে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল ফুটবলের দল গঠন নিয়ে। ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড় এবং সংগঠকদের উদ্যোগে সেই সংকট কাটিয়ে মোহামেডান তৈরি হয়েছে নতুন দল নিয়ে। এই উদ্যোক্তাদের অন্যতম সাবেক তারকা বাদল রায় মনে করেন, ‘অর্থ কোনো সংকট নয়। এ দেশে মোহামেডানের শুভাকাঙ্ক্ষী অনেক, যারা দুর্দিনে ক্লাবের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তৈরি। আমরা গতকাল (পরশু) মোহামেডান অন্তপ্রাণ কিছু সংগঠকদের সঙ্গে বসেছিলাম। তাদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। আশা করি, নির্বাচনের মাধ্যমে ভালো লোকদের একটা কমিটি হবে এবং তারাই পুরনো ঐতিহ্য ফেরানোর কাজ করবে।’ এই দুঃসময়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওবায়দুল করিম বিশেষভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাতেই মোটামুটি একটি দল দাঁড়িয়ে গেছে। টানা আট বছর প্রেসিডেন্ট পদে থাকলেও প্রথম দুই বছর পর সম্পর্কের উষ্ণতা আর সেভাবে থাকেনি। ‘দুই বছরে সাত কোটি টাকা দিয়েছেন ক্লাবে, কিন্তু হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা না দেখে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন’, বলেছেন বাদল রায়।

পুরনো হতাশা ঝেড়ে সবাই নতুন উদ্যমে শরিক হচ্ছে সাদা-কালোর পতাকাতলে। তাদের আশা, দুই মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে এবং বিজয়ীদের হাতে ক্লাবের ঐতিহ্য পতাকা উড়বে পতপত করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা