kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

মাশরাফির দেরিতে দল পাওয়ায় বিস্মিত তামিম

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাশরাফির দেরিতে দল পাওয়ায় বিস্মিত তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘এটা আমার কাছে লজ্জাজনকই মনে হয়েছে যে মাশরাফি ভাইয়ের মতো ক্রিকেটার দল পেয়েছেন একেবারে শেষ দিকে। আর এটা নিয়ে আমাকে কথা বলতে হচ্ছে’, ব্যাংকক থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ভেসে আসা তামিম ইকবালের সেই লজ্জায় মিশে ক্ষোভ, অভিমানও হতে পারে। ‘কাল রাতে (পরশু) ভাবছিলাম, উনারই এই অবস্থা, আমার বেলায় না জানি কী হয়’, প্রচণ্ড হতাশা প্রথম ডাকেই ঢাকা প্লাটুনে নাম উঠা তামিমের।

মাশরাফি বিন মর্তুজা তো হতাশ সেই কবে থেকেই। ২০১৯ বিশ্বকাপ ভালো যায়নি। সেই একটি আসরের ব্যর্থতায় তাঁকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে দেশীয় ক্রিকেট পরিমণ্ডল থেকে। কেউ মনেও রাখেনি ঠিক বিশ্বকাপের আগে প্রথম কোনো ওয়ানডে টুর্নামেন্ট জয়ের ট্রফিটা তুলে ধরেছিলেন মাশরাফিই। যে সতীর্থরা ‘মাশরাফি ভাই’ বলতে অজ্ঞান, নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামার বিষয়টি জানানোরও দরকার মনে করেনি সরকারিভাবে তাঁদের ওয়ানডে অধিনায়ককে। তীব্র অভিমানাহত মাশরাফি তাই বিশ্বকাপের পর থেকেই অন্তরালে। মিডিয়া এড়িয়ে চলেন, ক্রিকেটও। কদিন আগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে গেছেন একটি শর্তে, ‘ক্রিকেট নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না।’

কিন্তু প্রায় দুই দশকের ক্রিকেটজীবন থেকে কি আর অত সহজে মুক্তি মেলে! বিশ্বকাপের পর পুরোপুরি নড়াইলমুখী হয়ে পড়া মাশরাফি যথেচ্ছ অনাচার করেছেন খাদ্যাভ্যাসে। প্রায় ১০ কেজির মতো ওজন বাড়িয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু দুই সপ্তাহের চেষ্টায় সেই মেদ কমিয়ে এ সপ্তাহে নামছেন নেটে। বিপিএল খেলতে হবে যে! জানেন এ টুর্নামেন্ট তাঁর সসম্মানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর দাবি তোলার মঞ্চও। কিন্তু এক-দুই করে বঙ্গবন্ধু বিপিএল প্লেয়ার্স ড্রাফটের সাত রাউন্ড শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কোনো দল ডাকেনি মাশরাফি বিন মর্তুজাকে।

মাশরাফি ভাই বাংলাদেশ দল এবং বিশেষ করে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য যা যা করেছেন, তাতে উনার দল পেতে কষ্ট হবে শোনাটা ক্রিকেটার হিসেবে আমি নিতে পারিনি।

বিস্ময়কর হলো, গত আসরে দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট মাশরাফির চেয়ে এগিয়ে ছিলেন শুধু সাকিব আল হাসানই (২৩)। বিপিএলের সব আসর মিলিয়েও বোলারদের রোল অব অনার অপরিবর্তিত— সাকিব এবং এরপর মাশরাফি। তবে অভিজ্ঞতা আর নেতৃত্বগুণে চারটি বিপিএল জয়ী অধিনায়ককে সবার চেয়ে উঁচুতেই রাখেন তামিম, ‘মাশরাফি ভাই বাংলাদেশ দল এবং বিশেষ করে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য যা যা করেছেন, তাতে উনার দল পেতে কষ্ট হবে শোনাটা ক্রিকেটার হিসেবে আমি নিতে পারিনি।’ পারেননি বলেই ব্যাংকক থেকে ফোনের পর ফোন করেছেন ঢাকার ডিরেক্টর আর কোচকে। ‘আমি ধন্যবাদ জানাই ঢাকা প্লাটুনের ডিরেক্টর পাপ্পাকে, মাশরাফি ভাইকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা আছে উনার। কোচ সালাউদ্দিন ভাই এবং পৃষ্ঠপোষক যমুনা ব্যাংককে ধন্যবাদ যে তারা মাশরাফিকে নিয়েছেন।’

২০১২ সালে, বিপিএলের প্রথম আসরে অনেকটা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। কোনো দল নেয়নি শুরুতে। একেবারে শেষ দিকে তাঁকে দলে নেয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। বরাবর বৈরী পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নিতে অভ্যস্ত মাশরাফির অধীনে টানা দুইবার ট্রফি জিতেছিল ঢাকা। এবারও কি তবে..., শুনে তামিম হাসেন, ‘দেখি ২০১২ সালের মতো কিছু হয় কি না। হলে তো সবচেয়ে ভালো হয়। খুব করে চাচ্ছি এবার যেন শিরোপা জিততে পারি। শিরোপা সববারই জিততে চাই। এবার আরো বেশি চাচ্ছি মাশরাফি ভাইয়ের জন্য।’

কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট তো আর কাউকে নিছক ‘ট্রিবিউট’ দেওয়ার বিলাসিতা নয়। মাশরাফির অন্তর্ভুক্তিতে সেভাবে দেখছেনও না তামিম, ‘আমার তো মনে হয় ঢাকা প্লাটুনই লাভবান হয়েছে উনার মতো একজন ক্রিকেটারকে পেয়ে।’ বলেই সেই পুরনো বিস্ময় বাঁহাতি তারকা ওপেনারের কণ্ঠে, ‘অবাক কাণ্ড দেখেন, যে লোকটা গত বিপিএলেও শীর্ষ উইকেটটেকারদের একজন, তাঁকে আজ দল পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে! আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, আমার দেখা সফলতম ক্রিকেটার তিনি। বিশেষ করে বিপিএলে। চারটি ট্রফি জিতেছেন। এবং প্রতিবার উনার নিজের পারফরম্যান্সও ভালো ছিল।’

তবু বয়স তো একটা ফ্যাক্টর, বিশ্বকাপের পর ক্রিকেট থেকে অন্তর্ধানে চলে যাওয়া মাশরাফি কি আগের মতোই মহামূল্য আছেন? সে অবিশ্বাসীদের দলে নেই তামিম, ‘এটা ঠিক যে পারফরম্যান্স বিবেচনায় উনি আগের জায়গায় নেই। কিন্তু গতবারের পর তো মাত্র একটাই বছর গেছে। আপনার কেন মনে হলো এই এক বছরেই মাশরাফি ভাই ফুরিয়ে গেছেন? কারো ভুলে যাওয়ার কথা নয় যে একবার স্পিন বোলিং করে আবাহনীকে ঢাকা লিগ জিতিয়েছিলেন উনি।’ সেই বিশ্বাস থেকেই ঢাকা প্লাটুনকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেন তিনি, ‘আমি বিশ্বাস করি সামর্থ্য আর অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি দলে থাকার যোগ্য। আমরা একজন যোগ্য ক্রিকেটারকেই নিয়েছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা