kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

চতুর্থ দিনের খেলা বদলে গেল অনুশীলনে!

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চতুর্থ দিনের খেলা বদলে গেল অনুশীলনে!

ইন্দোর থেকে প্রতিনিধি : গলায় অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড ঝোলানো দেখেই বোধ হয় ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে থাকা অটোরিকশার চালকের প্রশ্ন, ‘টেস্ট ম্যাচ তো শেষ হয়ে গেছে, না! ভারত জিতে গেছে না!’ ইন্দোরে গত কিছুদিনের চলাফেরায় যানজট একদমই পাইনি। সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ, সামনে দিয়ে বাংলাদেশের টিমবাস যাচ্ছে। খেলোয়াড়রা মাঠে যাচ্ছেন, ফিতে গলায় ঝুলিয়ে লোকজনও মাঠের দিকে যাচ্ছে দেখে অটোরিকশার চালক বোধ হয় এফএম রেডিওর খবরকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না! তবে আসল কথাটা হচ্ছে টেস্ট তিন দিনেই শেষ। যে সময়টায় চতুর্থ দিনের খেলা মাঠে গড়ানোর কথা, তখন নেটে বাংলাদেশের প্রস্তুতি দেখে মনে হতে পারে পরের দিন থেকে বুঝি ম্যাচ শুরু!

পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনার মতোই তিন দিনে টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পর বাকি দুটি দিন ইন্দোরেই থেকে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। এখানেই মধ্য প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ব্যবস্থা করে দিয়েছে অনুশীলনের। কাল প্রথমবারের মতো গোলাপি বলে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। ঐচ্ছিক অনুশীলন হলেও এসেছিলেন সবাই। ভারতীয় দলের বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও আজিঙ্কা রাহানে ছুটিতে চলে গেছেন। ১৯ তারিখে তাঁরা দলের সঙ্গে যোগ দেবেন কলকাতায়। কাল ঐচ্ছিক অনুশীলনে এসেছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, জাদেজাসহ আরো কয়েকজন।

ইন্দোরে হতাশার ভেতর একমাত্র আশার আলো ছিলেন আবু জায়েদ রাহি। কাল তিনিই জানালেন গোলাপি বলের টেস্ট নিয়ে প্রস্তুতির কথা, ‘সুইংটাই আমার অস্ত্র। কোচ ল্যাঙ্গেভেল্টও বলেছেন, ভারতের বোলারদের দিকে দেখো, কেউই কিন্তু খুব জোরে বল করে না। ঠিক লাইন-লেন্থে বল করে। আমিও লাইনটা ঠিক রেখে বোলিং করতে চাই।’ সাবেক বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গে আপাতত এটাই ল্যাঙ্গেভেল্টের তফাত দেখছেন রাহি। ইন্দোর টেস্টে ভারতের পেসার মোহাম্মদ সামির কাছ থেকেও অনেক পরামর্শ নিয়েছেন রাহি, ‘সামি ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কারণ তাঁর সঙ্গে আমার সিমিংটা মেলে। দুজনেই সিমিং বোলার। এমনকি উচ্চতাও মিলিয়ে দেখেছি, তাঁর আর আমার উচ্চতাও প্রায় সমান। মনে হয়েছে তাঁর মতো বোলিং করতে পারব।’

ইন্দোরে হতাশার ভেতর একমাত্র আশার আলো ছিলেন আবু জায়েদ রাহি। কাল তিনিই জানালেন গোলাপি বলের টেস্ট নিয়ে প্রস্তুতির কথা, ‘সুইংটাই আমার অস্ত্র। কোচ ল্যাঙ্গেভেল্টও বলেছেন, ভারতের বোলারদের দিকে দেখো, কেউই কিন্তু খুব জোরে বল করে না। ঠিক লাইন-লেন্থে বল করে। আমিও লাইনটা ঠিক রেখে বোলিং করতে চাই।’

বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে অল্পতেই বিদায় করে দিয়েছিলেন রাহি। সিলেটের এই পেসার বলছেন, তাঁর স্বপ্নই ছিল বিরাটের উইকেট নেওয়া, ‘ওরা বিশ্বের এক ও দুই নম্বর ব্যাটসম্যান। বিরাট কোহলি টেস্টের এক নম্বর ব্যাটসম্যান। ওর উইকেটটা পাওয়া ছিল আমার স্বপ্ন। অবশ্যই কোহলি আমার জীবনের স্বপ্নের উইকেট।’ ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট পেয়েছিলেন রবিউল ইসলাম। এরপর এখন পর্যন্ত আর কোনো বাংলাদেশি পেসারই বিদেশের মাটিতে ৫ উইকেট পাননি। যেটা পেতে পারতেন ইন্দোরে ১০৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে খুব কাছে গিয়েছিলেন রাহি, সতীর্থ ইমরুল কায়েস মায়াঙ্ক আগরওয়ালের ক্যাচটা না ছাড়লে হয়তো গোটা ম্যাচের গল্পটাই বদলে যেত। তবু অতৃপ্তি নেই রাহির, ‘এই সবই খেলার অংশ। ইমরুল ছেড়েছেন, অন্যদিকে সাইফ পূজারার আউটটায় দারুণ একটা ক্যাচ ধরেছে। এসব নিয়ে ভাবি না, মিস হয়ে গেলে তো আর কিছু করার নেই। সেটা নিয়ে বসে থাকার তো কোনো মানে নেই, আমি আশা করব আমার সতীর্থরা আরেকটি ক্যাচ এলে সেটি যেন নেওয়ার চেষ্টা করেন।’ গোলাপি বলে মনোযোগী অনুশীলনে কাল বিকেলে মাঠে বাংলাদেশ দল। ইমরুল কায়েসকে নেটে থ্রো-ডাউন দিচ্ছেন মারিও ভিল্লাভারায়েন ও রায়ান কুক। অন্যদিকে চলছে বোলিং অনুশীলন। সব দেখে শুধু একটা কথাই মনে হলো, স্বাভাবিক লাল বলের টেস্ট নিয়ে যদি এত মনোযোগ দিয়ে আরো আগে থেকে অনুশীলন করে প্রস্তুত হয়ে দেশ থেকে আসা যেত, তাহলে বোধ হয় টেস্টের চতুর্থ দিনের বিকেলে খেলা বাদ দিয়ে হয়তো অনুশীলন করতে হতো না!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা