kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

গোলাপি বল নিয়ে যত আলাপ

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গোলাপি বল নিয়ে যত আলাপ

দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, গোলাপি বল নিয়ে চর্চাটা ততই বেড়ে যাচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে, ইডেনে খেলা হবে দিন-রাতের টেস্ট। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে গোলাপি বল। কারণ ভারতে টেস্ট ক্রিকেটটা খেলা হয় এসজি বলে, আর অতীতে ভারত কখনো দিন-রাতের টেস্ট আয়োজন না করায় গোলাপি রঙের এসজি বলটা কেমন আচরণ করবে, তা নিয়ে আছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বাংলাদেশ দলেও গোলাপি বল নিয়ে ভাবনা আছে বটে, তবে লাল বলেই যাদের পারফরম্যান্সের লালবাতি জ্বলে উঠেছে ইন্দোরে, তখন বাংলাদেশের অধিনায়ক মমিনুল হক বলেই দিয়েছেন, ‘এখানে লাল বলেই যে সুইং দেখেছি, গোলাপি বল এর চেয়ে আর কত বেশি সুইং করবে!’

ভারতীয় টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে জানিয়েছেন বেঙ্গালুরুতে গোলাপি বলে অনুশীলনের অভিজ্ঞতার কথা। এই ব্যাটসম্যানের কাছে মনে হয়েছে, বলে সুইং বেশি থাকে, ল্যাটারাল মুভমেন্টও বেশি থাকে, ‘আমরা গোলাপি বলে দুটো অনুশীলন সেশন পেয়েছিলাম এনসিএতে। একটা দিনের আলোয়, অন্যটা কৃত্রিম আলোয়। আমি সেবারই প্রথমবারের মতো গোলাপি বলে খেলেছি। আসলেই একদম অন্য রকম অভিজ্ঞতা।’ রাহানে মনে করেন, গোলাপি বলে খেলার জন্য বাড়তি সাবধানতা দরকার, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল সুইং আর সিমটা বোঝা, আমরা চেয়েছি যতটা সম্ভব শরীরের কাছাকাছি বলগুলো খেলতে আর একটু দেরিতে খেলতে। রাহুল দ্রাবিড় সেখানে ছিলেন, তাঁর পরামর্শও পেয়েছি।’ রাহানেরা যখন রাহুল দ্রাবিড়ের মতো দ্রোণাচার্যের কাছে দীক্ষা নিয়ে গোলাপি বলের নীল ছোবল সামলানোর পাঠ নিয়েছেন, সেখানে বাংলাদেশ দল চলছে ব্যাটিং পরামর্শক ছাড়াই! প্রথম টেস্টে ব্যাটিং পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করা নেইল ম্যাকেঞ্জি চলে গেছেন নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায়। বিসিবির সঙ্গে নতুন চুক্তি অনুযায়ী তাঁর বেতন ‘কর্মদিবস’ হিসেবে, পরিবারকে সময় দিতে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ইন্দোর থেকে কলকাতা না গিয়ে দেশে ফিরে গেছেন সাবেক এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান।

ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি ইন্দোরের একমাত্র ইনিংসে বোল্ড হয়েছেন রানের খাতা খোলার আগেই। গোলাপি বলে তাঁর ভাগ্যে কী আছে, সেটা গঙ্গাপারের শহরেই দেখা যাবে; তার আগে শোনা যাক কোহলির গোলাপি বলে অনুশীলনের অভিজ্ঞতার কথা, ‘বেশ রোমাঞ্চকর একটা অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। আমার মনে হয় টেস্ট ক্রিকেটে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনতে এটা নতুন একটা পদক্ষেপ। প্রথমবার গোলাপি বলে খেলে মনে হয়েছে এই বলে সুইংটা বেশি হয়। কারণ হিসেবে আমার কাছে যেটা মনে হয়, বলের ওপর বাড়তি একটা পালিশের স্তর আছে, যেটা উঠতে সময় লাগে বলেই সুইংটা বেশিক্ষণ হয়। উইকেটে যদি বোলারদের জন্য কিছু থাকে, তাহলে এই বলে বোলাররাই ম্যাচে ছড়ি ঘোরাবে। গোলাপি বল পুরনো হলে, রং চটে গেলে আর শিশিরে ভিজে গেলে কী হবে সেটা আমার জানা নেই। তবে উইকেট যদি প্রাণবন্ত হয় তাহলে গোলাপি বলে খেলাটা মারাত্মক কঠিন হবে।’

ভারতে টেস্ট ক্রিকেটটা খেলা হয় এসজি বলে, আর অতীতে ভারত কখনো দিন-রাতের টেস্ট আয়োজন না করায় গোলাপি রঙের এসজি বলটা কেমন আচরণ করবে, তা নিয়ে আছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

ভারতীয় অধিনায়ক এবং সহ-অধিনায়ক, দুজনেই ব্যাটসম্যান। এবারে শোনা যাক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দিন-রাতের টেস্ট নিয়ে ভাবনা, ‘গোলাপি বলে টেস্ট খেলতে রাজি হওয়াটা শুভলক্ষণ। টেস্ট দল হিসেবে আমাদের প্রচলিত সব রকম ক্রিকেটই খেলা উচিত। দিন-রাতের টেস্ট হলে অফিসগামী লোকেও খেলাটা উপভোগ করতে পারবে। গোলাপি বলে খেলাটা অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ, বলে পালিশটা বেশি থাকে। আর সময়টা নিয়ে আমার যেটা বলার, তা হচ্ছে সকাল ৯টায় খেলা নয়, মানে ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠতে হবে না! ম্যাচটা মনে হয় দুপুর ১টায় শুরু হবে। আমি কখনো গোলাপি বলে খেলিনি, এমনকি দুলীপ ট্রফির যে ম্যাচে কমলা বলে খেলা হয়েছে সেটাতেও খেলিনি। আমার কাছে গোলাপি-কমলা সবই সমান! আমরা রোমাঞ্চিত আবার একটু চিন্তিতও।’ ভারতের বোলিং কোচ ভরত অরুণ নিজেদের বোলিং আক্রমণকে বিশ্বসেরা বলেই বিশ্বাস করেন, তাঁর মনেও খানিকটা দ্বিধা গোলাপি বলে টেস্ট খেলার আগে, ‘আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আমাদের বোলাররা অভিজ্ঞ, যত এগিয়ে যাব তত এই নিয়ে জানা-বোঝা বাড়বে।’

দুলীপ ট্রফির ২০১৬-১৭ মৌসুমের খেলায়, ভারত ‘লাল’ ও ভারত ‘নীল’ দলের হয়ে দিন-রাতের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছে মায়াঙ্ক আগরওয়াল, চেতেশ্বর পূজারা ও রবীন্দ্র জাদেজার। সিএবি সুপার লিগের ফাইনালে ঋদ্ধিমান সাহা ও মোহাম্মদ সামিও গোলাপি বলে খেলেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে যে একটি মাত্র প্রথম শ্রেণির ম্যাচ গোলাপি বলে হয়েছে, সেটাও ২০১৩ সালে বিসিএলের ফাইনাল। সাম্প্রতিক সময়ে কারোরই খুব একটা গোলাপি বলে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। অধিনায়ক মমিনুল মনে করেন, দিন-রাতের টেস্টে সুবিধা অসুধিবা যা-ই হোক, সেটা হবে দুই দলের জন্যই সমান, ‘আমাদের জন্য একটা নতুন সুযোগ। প্রথমবারের মতো গোলাপি বলে খেলব। গোলাপি বলে অনুশীলন করা উচিত সবার।’ বল নিয়ে নিজস্ব পর্যবেক্ষণও জানালেন মমিনুল, ‘কৃত্রিম আলোয় যতটা অনুশীলন করতে পারা যায় সেটা ভালো হবে। আমরা এখানে এত বেশি সুইং খেলেছি যে এর চেয়ে বেশি সুইং হবে বলে মনে হয় না! সুইং খেলার প্রস্তুতি হয়ে গেছে। মনে হয় একটু চ্যালেঞ্জ থাকবে, চ্যালেঞ্জটা ভালোভাবে নেওয়া উচিত।’

টেস্ট র‌্যাংকিং, আইসিসি টেস্ট চ্যামিপয়নশিপ; দুই জায়গাতেই ভারত আর বাংলাদেশ দুই প্রতিবেশী দেশ যেন পরস্পর থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল ভারত, বাংলাদেশ নয়ে; টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও শীর্ষে ভারত, তাদের পয়েন্ট ৩০০ আর বাংলাদেশের শূন্য। এই গোলাপি বলের টেস্ট দুটো দলকে গঙ্গা-পদ্মার মতো একটা মোহনায় মিলিয়ে দিল, গোলাপি বলে দুই দলেরই যে শুরু হচ্ছে একসঙ্গেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা