kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

প্রত্যাবর্তনেই ব্যবধান গড়লেন মেসি

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রত্যাবর্তনেই ব্যবধান গড়লেন মেসি

মরুর বুকে ঠিক রোমাঞ্চ ছড়াল না সুপার ক্লাসিকো। ছিল না চোখ-ধাঁধানো ড্রিবলিং কিংবা অবিশ্বাস্য মুভে লাতিন ফুটবলের শিল্পও। তবে সৌদি আরবের প্রীতি ম্যাচটিতে ব্রাজিলের বিপক্ষে ব্যবধান গড়ে দিলেন লিওনেল মেসি। তাঁর একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানের স্বস্তির জয় আর্জেন্টিনার। রোমাঞ্চ না হলেও নাটক ছিল ঠিকই। গ্যাব্রিয়েল জেসুস শুরুতেই মিস করলেন পেনাল্টি। এমনকি লিওনেল মেসির পেনাল্টিও আটকে দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন। ফিরতি বল তাঁর সামনে পড়ায় আর সুযোগ নষ্ট করেননি মেসি। তাতে স্মরণীয় হলো তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে তাঁর ফেরাটা।

মেসিকে ঘিরে উত্তেজনাও ছড়িয়েছিল কিছুটা। বিরতির আগে একটি ফাউলের জন্য মেসিকে হলুদ কার্ড প্রদর্শনের দাবি জানাচ্ছিলেন ব্রাজিলিয়ান কোচ তিতে। রেফারি সাড়া না দেওয়ায় মেসি ইশারায় ‘মুখ বন্ধ’ রাখতে বলেন তাঁকে। এ নিয়ে ম্যাচ শেষে তিতে জানালেন, ‘রেফারিকে হলুদ কার্ড দেখানোর কথা বললে মেসি মুখ বন্ধ রাখতে বলে আমাকে। আমিও ওকে পাল্টা বলি চুপ থাকতে। ঘটনা এটুকুই। এ ধরনের ম্যাচে কড়া রেফারি দরকার। ওটা হলুদ কার্ডই ছিল।’ এ ছাড়া গত পরশু অন্য প্রীতি ম্যাচে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ২-১ গোলে হাঙ্গেরিকে আর ইকুয়েডর ৩-০ গোলে হারিয়েছে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোকে।

রিয়াদে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ব্রাজিলের বলের দখল ৬৬ শতাংশ। তবে লক্ষ্যে শট মাত্র একটি। আর ৩৪ শতাংশ বলের দখল নিয়েও কার্যকরী আক্রমণে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। গোলপোস্টে নেওয়া তাদের ১৪টি শটের আটটি ছিল লক্ষ্যে। নবম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে ডি-বক্সে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ধোঁকা খেয়ে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক উল্টো দিকেই ঝাঁপ দিয়েছিলেন। কিন্তু জেসুসের শট বেরিয়ে যায় বিপরীত দিকের পোস্ট ঘেঁষে। এ নিয়ে সব শেষ নেওয়া ৯ পেনাল্টির পাঁচটিই মিস করলেন ম্যান সিটির এ ফরোয়ার্ড! কোপা আমেরিকায় পেরু, চ্যাম্পিয়নস লিগে আতালান্তার পর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এ নিয়ে টানা তিনটি পেনাল্টি মিস করলেন জেসুস।

কিছুক্ষণ পরই লিওনেল মেসিকে বক্সে আলেক্স সান্দ্রো ফাউল করায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। মেসির শট আলিসন ফেরালেও ভাগ্য ছিল আর্জেন্টিনার পাশে। না হলে আলগা বলটা কেন এসে পড়বে মেসিরই পায়ে। ফিরতি বল জালে জড়াতে ভুল করেননি এই কিংবদন্তি। তাঁর ১৩ মিনিটের গোলেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্ক্যালোনির দল। ব্যবধানটা আরো বাড়তেই পারত আর্জেন্টিনার পক্ষে। বিরতির ঠিক আগে মেসির দুর্বল শট ঠেকাতে বেগ পেতে হয়নি আলিসনকে। ৬৬ মিনিটে মেসির একটি ফ্রিকিক তিনি ফেরান কর্নারের বিনিময়ে। ৭৬ মিনিটে হের্মান পেসাইয়ার আগুনে শটও ঠেকান কোনো রকমে। এর চার মিনিট পর লাউতারো মার্তিনেস ডি-বক্সে সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়েও হতাশ করেন উড়িয়ে মেরে। ৭৬ মিনিটে বদলি হয়ে নেমে ব্যবধান গড়তে পারেননি চ্যাম্পিয়নস লিগে হ্যাটট্রিক করা ব্রাজিলিয়ান তরুণ রদ্রিগো। আর্জেন্টিনার সের্হিয়ো আগুয়েরো ও পাউলো দিবালার পুরো সময়টাই আবার কেটেছে বেঞ্চে। ক্লাবে দারুণ ছন্দে থাকলেও কোচ মাঠে নামাননি তাঁদের।

আর্জেন্টিনা কোপা ব্যর্থতার পর পাঁচ ম্যাচে হারেনি একটিতেও। সৌদি আরবে বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও ব্রাজিলকে হারানোর পর কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির উদ্‌যাপন ই বলছে, এই জয়ে কতটা খুশি তিনি। আর মেসি তো বলেই ফেলেছেন, ‘কোচ চাইলে সোমবারও খেলতে পারি উরুগুয়ের বিপক্ষে।’ ইএসপিএন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা