kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

দুই দশকে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট

আছেন স্পিন খেলার ‘মাস্টারপিস’ আকরামও

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আছেন স্পিন খেলার ‘মাস্টারপিস’ আকরামও

১০ নভেম্বর দুই দশকে পা রেখেছে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট। এ উপলক্ষেই পেছন ফিরে ইতিহাসের সেরা একাদশ বাছাই করার চেষ্টা। কালের কণ্ঠ’র অনুরোধে সাড়া দিয়ে ১০ সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার নিজেদের সেরা একাদশ গড়েও দিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে ছাপা হচ্ছে তা।

মাসুদ পারভেজের করা এই ধারাবাহিকের শেষ দিনে থাকছে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার নিয়ে বিশেষ এক আয়োজনও। আজ থাকছে সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমানের সেরা একাদশ

 

দুজনের কারোরই টেস্ট ক্যারিয়ার খুব লম্বা নয়। আবার এমনও নয় যে এর মধ্যে তাঁরা উল্লেখযোগ্য কিছু করেছেন। একজনের আট টেস্টের ক্যারিয়ারে কোনো ফিফটিই নেই। এক ম্যাচ বেশি খেলা আরেকজনের অবশ্য একটি আছে। পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশে তাঁদের জায়গা পাওয়াটা অনুমোদন করে না। কিন্তু এই একাদশটি গড়েছেন যিনি, তিনি ওই দুজনের সামর্থ্য নিয়ে এমনই নিঃসংশয় যে অকালে ঝরে যেতে না হলে তাঁরাও পারফরম্যান্সের ফুল ফোটাতেন বলে মনে করেন। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমানের একাদশে তাই অবধারিত নাম দুটি আকরাম খান ও মেহরাব হোসেনের।

২০০৩-র মে মাসে দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টই তাঁদের দুজনের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। একই ম্যাচে তাঁরা খেলেছিলেন নিজ নিজ টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসও। ২০০১-র এপ্রিলে জিম্বাবুয়ে সফরের হারারে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১২১ বলে ৪৪ রান আকরামের ব্যাটে। একই ইনিংসে হাবিবুল বাশারের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১১৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ার পথে ২২৪ বলে ৭১ রান করেছিলেন মেহরাব। দুই টেস্টের সেই সিরিজ শুরুর আগেই অবশ্য আকরাম ও আমিনুল ইসলামের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের পৃথিবী কঠিন হয়ে যেতে শুরু করেছিল। বলা হয় যে তীব্র মানসিক চাপে ফেলা না হলে ডানা মেলতে পারত তাঁদের টেস্ট ক্যারিয়ারও।

তা না মেললেও নাঈমুর নিজের একাদশে রেখেছেন তাঁর আগের প্রজন্মের আকরামকে। নিজ প্রজন্মের মেহরাবকেও। কেন? সেই ব্যাখ্যাটিই আগে শুনে নিয়ে একাদশে ঢোকা যাক, ‘এখনকার সঙ্গে আমাদের সময়ের অনেক পার্থক্য ছিল। আমি বিবেচনায় নিয়েছি সেটিও। এই সময়ের ক্রিকেটাররা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়, একই রকম পেলে আমাদের প্রজন্ম কিংবা এর আগের ক্রিকেটাররা অনেক বেশি ভালো করত।’ গত সেপ্টেম্বরে দেশের মাটিতে আফগানিস্তান লজ্জার পর এবার ভারতে টেস্ট ভরাডুবির পর নাঈমুরের বক্তব্যকে উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই।

নিজের পর্যবেক্ষণে এই সাবেক অধিনায়ক দেখেছেন, বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ ভালো পারফরম করলেও তামিম ইকবালের ওপেনিং পার্টনার হওয়ার মতো ধারাবাহিক হতে পারেননি এই সময়ের কেউই। তাই ফিরে গেছেন পুরনো দিনে। সেখান থেকেও একাধিক নাম এসেছে তাঁর ভাবনায়। নানা বিবেচনায় সে তালিকা থেকেও ছিটকে পড়েছেন কেউ কেউ, ‘মাথায় তো আরো অনেকের নামই এসেছিল। যেমন বিদ্যুত (শাহরিয়ার হোসেন), ইমরুল কায়েস ও জাভেদ ওমর। শেষ বিবেচনায় রাখতে পারিনি এদের কাউকেই।’

যে বিবেচনায় মেহরাব এগিয়ে গেছেন, ‘মেহরাব দারুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ভালো খেলার চেষ্টা করেছে। সেই সঙ্গে টেকনিক এবং সামর্থ্য মিলিয়ে ওকেই আমার সেরা বলে মনে হয়েছে। তাই একাদশে রেখেছি।’ দেশের মাটিতে কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশে খেলা হবে ধরে নিয়েই এই একাদশ সাজিয়েছেন নাঈমুর। যাতে স্পিন খেলার সামর্থ্য দিয়েই ব্যাটিংয়ের মহা গুরুত্বপূর্ণ ছয় নম্বর জায়গাটির দখল নিয়েছেন ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের আইসিসি ট্রফি জয়ী দলের অধিনায়ক আকরাম।

নিজে স্পিনার ছিলেন বলেই হয়তো আকরামের সামর্থ্যের দিকটি চিহ্নিত করা আরো সহজ হয়েছে নাঈমুরের, ‘আমার দেখা স্পিনের বিপক্ষে মাস্টারপিস হলেন আকরাম ভাই।’ তাঁকে ছয়ে নামানোর টেকনিক্যাল ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রথম টেস্ট অধিনায়ক, ‘এই অঞ্চলে টেস্টে পাঁচ-ছয়ের দিকে স্পিনারদেরই বেশি খেলতে হয় ব্যাটসম্যানদের। স্পিনটা খুব ভালো সামলাতে জানেন বলেই আমি ছয়ে আকরাম ভাইকে এনেছি।’ তবে পেসের বিপক্ষে একটু জড়তা ছিল আকরামের। সময়ে তিনি সেটিও সামলে উঠতে জানতেন বলে মনে করেন নাঈমুর, ‘সেট হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় নতুন বল যদি আসে, সে ক্ষেত্রে আকরাম ভাই পেস বোলিংও খুব ভালো সামলাতেন। আমার দেখা মতে গ্রেট মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। এই জায়গাটি ওনারই প্রাপ্য।’

তিন নম্বরে হাবিবুল বাশার ও মমিনুল হকের মধ্যে প্রথমজনকেই বেছে নিয়েছেন খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতেও হাত পাকানো এই সংসদ সদস্য, ‘হাবিবুলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মমিনুলই ছিল। তবে আমি হাবিবুলকে এগিয়ে রেখেছি। কারণ তিন নম্বরে আমি একজন স্ট্রোক প্লেয়ারকেই পছন্দ করি। যারা শর্ট বল ভালো খেলে। টেস্টে এ রকম একজন ব্যাটসম্যান দরকারও পড়ে। তা ছাড়া হাবিবুলের রেকর্ডও খারাপ নয়। তার ওপর কোন সময়ে সে তিন হাজার রান করেছে, মাথায় রাখতে হবে সেটিও।’

টেস্ট একাদশে একজন বিশেষজ্ঞ উইকেটরক্ষকের প্রয়োজনীয়তার কথাও মাথায় রেখেছেন নাঈমুর। যে কারণে এই বাড়তি দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে নির্ভার মুশফিকুর রহিমকে তিনি খেলাতে চান চারে। উইকেটরক্ষক হিসেবে অনেক মর্যাদা দিয়েই খালেদ মাসুদকেও রেখেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই পরিচালক, ‘বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সেরা উইকেটরক্ষক। সঙ্গে লেট মিডল অর্ডারে ব্যাটিংটাও করতে পারত। মাঠে অধিনায়কের জন্য দারুণ সহায়ক। ভালো ম্যাচ রিডারও।’

পাঁচ নম্বরে যাঁকে ব্যাটিং করাবেন, সেই অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে আরেক বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিককে নিয়ে স্পিন-সজ্জা নাঈমুরের, ‘দল গড়ার সময় আমার বিবেচ্য হলো আপনাকে সেরাদের নিতে হবে। কে ডান হাতে বল করে বা কে বাঁ হাতে, সেটি ব্যাপার নয়। সেরা জনকেই নিতে হবে। রফিক-সাকিব খুব ভালো জুটি। একই সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের উইকেটে রান আটকানোর ব্যাপার থাকে। এই দুজনকে দিয়েই সেই চাপ তৈরি করে উইকেট তুলে নেওয়া সম্ভব।’

নিজে অফ স্পিনার হলেও এই দলে বিশেষজ্ঞ তেমন কাউকে না রাখার ঘাটতি পোষাতে চান মাহমুদ উল্লাহকে দিয়ে, ‘ওকে সাতে রাখার সুবিধা হলো ব্যাটিং গভীরতাও বাড়ল। আবার স্পিন বৈচিত্র্যের ঘাটতিও ওর অফ স্পিন দিয়ে পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকল।’ এই দলে মূল পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজা নাঈমুরের অধিনায়কও, ‘আমি সেই সময়ের মাশরাফির কথা বলছি, যার বলে গতিই শুধু নয়, সুইং ছিল। এখনকার অধিনায়ক আর ওই সময়ের খেলোয়াড় মাশরাফি, দুয়েমিলে অধিনায়কত্বের দৌড়ে সে-ই এগিয়ে থাকে।’

টেস্ট পারফরম্যান্স প্রশ্নাতীত না হলেও কিছুটা বৈচিত্র্যের জন্য দুই পেসারের একজন হয়ে গেছেন মুস্তাফিজুর রহমান, ‘যদি ফ্ল্যাট উইকেটে খেলি এবং বল গ্রিপ করলে ওর বোলিং কাজে লাগবে। টি-টোয়েন্টিতে গতি অনেক কমিয়ে দিয়েছে। তবে টেস্টে বিরতি নিয়ে নিয়ে পুরো গতিতে বোলিং করার সুযোগও আছে। তা ছাড়া প্রতিভা ও সামর্থ্য তো অবশ্যই আছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা