kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ইডেনে বিকোবে বাংলাদেশের জার্সি!

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইডেনে বিকোবে বাংলাদেশের জার্সি!

ইন্দোর থেকে প্রতিনিধি : তৃতীয় দিনের মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে ইন্দোর টেস্টে বাংলাদেশের ভাগ্য। টানা ব্যর্থতার খবরের বৃত্ত থেকে বের হওয়ার চেষ্টায় মধ্যাহ্ন বিরতিতে বেরিয়েছি হোলকার স্টেডিয়ামের গোলকধাঁধার বাইরে। উদ্দেশ্য কোনো খুচরো খবর, কোনো পাগলাটে ভক্ত কিংবা অন্য কোনো খবরের অনুসন্ধান। মাঠের পাশের রাস্তা ধরে হাঁটছি, হঠাৎ কানে এলো বাংলা শব্দ। মধ্য প্রদেশের এই হিন্দিভাষী অঞ্চলে, অটোরিকশা আর স্কুটারের হর্নের ভেতর দিয়েও কানের ভেতর ঠিকই ‘খিচুড়ি’ শব্দটা নাড়া দিয়ে গেল।

হেঁটে এগিয়েই চলে এসেছিলাম, বাংলা শব্দের উৎস খুঁজতে পেছনে গেলাম। দেখি তিন জার্সি বিক্রেতা দাঁড়িয়ে, তাঁরাই নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন বাংলায়। কোথা থেকে আসা হচ্ছে, এই প্রশ্ন করতেই শুরু হয়ে গেল দুই বাংলাভাষীর আলাপ! পরিচয় হলো চঞ্চল কুন্ডু ও ষড়জিৎ রায়ের সঙ্গে। তাঁরাই মাঠের বাইরে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের নাম লেখা জার্সি, টুপি ও জাতীয় পতাকা বিক্রি করছেন। যে টেস্টের নিয়তি ঠিক হয়ে গেছে আগেই, সেটা দেখতে খুব একটা আগ্রহী লোক না থাকায় খদ্দেরও নেই। তবু চঞ্চলের চঞ্চলতা! কারণ ধরতে হবে লখনউয়ের ট্রেন, সেখান থেকে দেরাদুন। ওখানে আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি সিরিজ হবে, মাঠের বাইরে রাসেল-রশিদদের জার্সি বিক্রি করে সেখান থেকে ইডেন টেস্টের আগে কলকাতায় ফিরবেন জার্সি বিক্রেতারা। দলনেতা চঞ্চলই বললেন, ‘আমরা কলকাতা থেকে প্রায় ৬০০ লোক এখানে (ইন্দোরে) এসেছি। ট্রেনে করে এসেছি, হোটেলে থাকছি, নিজেরাই রান্না করে খাই।’ একেকটি জার্সি দেড় শ টাকায় বিক্রি করেন চঞ্চলরা। বাড়ির বাইরে এসে হোটেলে থেকে এই টাকায় বিক্রি করে ব্যবসায় পোষায়? চঞ্চল আড়াল না করেই বললেন, ‘কেন নয়! আমাদের নিজেদের পোডাকসান (প্রডাকশন)। আমাদের পরিবারের লোকেরাই এই জার্সি বানাবার কাজে জড়িত।’ বাংলাদেশের ভারত সফরের প্রতিটি ম্যাচেই তাঁরা ছিলেন মাঠের বাইরে। দিল্লি, রাজকোট, নাগপুর হয়ে ইন্দোরেও চলে এসেছেন; জানালেন ব্যবসা মন্দ হয়নি, ‘টি-টোয়েন্টির সময় ব্যবসা বেশ ভালো হয়েছে, তবে টেস্ট ম্যাচে খুব একটা বিক্রিবাট্টা হচ্ছে না।’ ইন্দোর থেকে আগেভাগেই তাই পাততাড়ি গোটাচ্ছেন, ‘আমাদের জলদি এখান থেকে লখনউ চলে যেতে হবে। এই ম্যাচ আর বেশিক্ষণ চলবে না, আর আমাদেরকেও ট্রেন ধরতে হবে।’ ষড়জিৎ-চঞ্চলদের হাতে ভারতের জার্সি, বাংলাদেশের কেন নেই জানতে চাইলে বললেন, ‘ইডেনে রাখব। শুনেছি ৩০ হাজার মানুষ আসছে বাংলাদেশ থেকে। তখন জমিয়ে ব্যবসা হবে।’ সাকিব আল হাসান না থাকায় ব্যবসা একটু মন্দা যাবে বলেই মনে হচ্ছে ষড়জিতের, ‘সাকিবকে কলকাতায় সবাই চেনে। ও থাকলে ওর নামের জার্সিগুলো ভালো বিক্রি হতো।’

এভাবেই ঘুরে ফিরে ১৪ বছর ধরে ভারতবর্ষের নানা প্রান্তে জার্সির ফেরিওয়ালা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন চঞ্চল-ষড়জিতদের মতো জার্সির ফেরিওয়ালারা। মাঠের বাইরেই তাঁদের অবস্থান, সেখানেই বিক্রি করছেন তারকাদের নাম লেখা জার্সি। কিন্তু কখনো ভেতরে ঢোকার সুযোগ হয় না আর খেলা শেষ হতে না হতেই পাড়ি জমাতে হয় এক শহর থেকে আরেক শহরে। ক্রিকেট কারো কাছে আবেগ, কারো বা নেশা। কিন্তু তাঁদের কাছে বাঁচার অবলম্বন, নিজের পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার একমাত্র জীবিকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা