kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

গর্জনের প্রতিফলন নেই বর্ষণে!

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গর্জনের প্রতিফলন নেই বর্ষণে!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : যত গর্জে তত বর্ষে না! আগে যেমন হাওয়া গরম হয়েছিল তার কোনো আঁচ ছিল না ফুটবলের বার্ষিক সাধারণ সভায়। তেমন কোনো তর্ক-বিতর্ক ছাড়াই আগের তিন বছরের অর্থ বিবরণী অনুমোদন করিয়ে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

অথচ তাঁর বিরোধী পক্ষ এত দিন সোচ্চার ছিলেন এই অর্থ বিবরণী নিয়ে। নানা দুর্নীতি-অনিয়মের কথা বলে হাওয়া গরম করেছিলেন তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিনের দলবল। অবিশ্বাস্যভাবে কাল তাঁদের মুখে কুলুপ! গাজীপুরে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় চট্টগ্রাম আবাহনীর পরিচালক রুহুল আমিন কিছু অনিয়মের কথা বলার চেষ্টা করলেও তাঁর সঙ্গী-সাথিরা ছিলেন নীরব। বাফুফের যে দুই সহসভাপতি অর্থ বিবরণী নিয়ে আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁদের একজন মহিউদ্দিন আহমেদ মহি কাল গরহাজির ছিলেন সভায়। আরেকজন বাদল রায় কিছু বলার চেষ্টা করেও বলতে পারেননি, ‘বিধিসম্মত নয়’ বলে তাঁকে আটকে দেন সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী।

সুবাদে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই অনুমোদন হয়ে যায় বাফুফের গত তিন বছরের অর্থ বিবরণী। তবে বিরোধী শিবিরের নেতা তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিনের দাবি, ‘বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীর অনুরোধে এবং ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে কাউন্সিলররা তিন বছরের অডিট রিপোর্ট অনুমোদন করে দিয়েছে। আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি।’ সাধারণ সভা শেষে ফিন্যান্স কমিটির প্রধান সালাম মুর্শেদীও স্বীকার করেছেন বিবরণীতে ভুলের কথা, ‘রিপোর্টে কিছু ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। আগের অনেক টাকা গত তিন বছরে পরিশোধ করা হয়েছে বলে হিসাব-নিকাশে সমস্যা হয়েছে। সামনে এ রকম হবে না। প্রতিবছর বার্ষিক সাধারণ সভা হলে আর এই সমস্যা থাকে না।’ তিন বছরের অর্থ বিবরণী অনুমোদনের পাশাপাশি আগামী বছরের বাজেটও পাস করে দিয়েছেন কাউন্সিলররা। ৪২ কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত করেছে বাফুফে। 

এই সভায় ফুটবলের ভোটার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল বাফুফের। দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে আগে ছিল শীর্ষ ১০ ক্লাবের ভোট আর তৃতীয় বিভাগে ছিল ৮ ভোট। দুই বিভাগে মোট ১৬টি ভোট বাড়ানোর খসড়া তৈরি করলেও এই প্রস্তাবনা ওঠেনি কালকের সভায়। একাধিক কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটার বাড়ানোর কোনো প্রস্তাবনা তোলা হয়নি সাধারণ সভায়। সভা ঠিকঠাকভাবে শেষই হয়নি, সভাপতির বক্তব্যও হয়নি। সভাপতি একটু বাইরে গেছেন, তখন সবাই উঠে গেছেন। তবে নির্ঝঞ্ঝাট সভা দেখে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বেশ খুশি, ‘খুব শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের সাধারণ সভা হয়েছে, আগের সব কিছু অনুমোদন দিয়েছেন কাউন্সিররা। এটা একটা ফুটবল পরিবার, সবাই এভাবে পাশে থাকলে ফুটবল অবশ্যই সামনে এগিয়ে যাবে।’

সাধারণ সভা শেষে বলতে হবে, তিনিই এগিয়ে গেছেন। বিরোধী শিবিরের তৎপরতায় আগে যে রকম জল ঘোলা হয়েছিল সভায় সে রকম কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়নি সভাপতিকে। তাতে সালাউদ্দিন এগিয়ে থাকলেন প্রাক-নির্বাচনী সাধারণ সভায়। এটা যে ফুটবলের নির্বাচনমুখো হওয়ারই সভা ছিল!

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা