kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

দুই দশকে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট

একাধিক চমক, মাশরাফির সঙ্গী হাসিবুল

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



একাধিক চমক, মাশরাফির সঙ্গী হাসিবুল

১০ নভেম্বর দুই দশকে পা রেখেছে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট। এ উপলক্ষেই পেছন ফিরে ইতিহাসের সেরা একাদশ বাছাই করার চেষ্টা। কালের কণ্ঠ’র অনুরোধে সাড়া দিয়ে ১০ সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার নিজেদের সেরা একাদশ গড়েও দিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে ছাপা হচ্ছে তা। মাসুদ পারভেজের করা এই ধারাবাহিকের শেষ দিনে থাকছে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার নিয়ে বিশেষ এক আয়োজনও। আজ থাকছে সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলামের সেরা একাদশ

শুধু একটিই নয়, তাঁর গড়া বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশে একাধিক চমক। এই অর্থে যে কালের কণ্ঠ’র অনুরোধে দল গড়তে বসা সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকের বিবেচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত বিপুল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বাদ পড়া কেউ কেউ ঠিক ঠাঁই করে নিয়েছেন আমিনুল ইসলামের একাদশে। এমনকি আছেন এমন একজনও যিনি কিনা কারো বিবেচনাতেই উচ্চারিত কোনো নাম নন। এই যেমন নতুন বলে মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গী হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন হাসিবুল হোসেনকে।

স্বল্পস্থায়ী টেস্ট ক্যারিয়ার এই ফাস্ট বোলারের। ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টসহ খেলেছেন মোটে পাঁচটি ম্যাচ। যদিও সেরা একাদশ দেওয়ার আগেই এই সাবেক অধিনায়ক বলে রেখেছিলেন তাঁর প্রধানতম বিবেচনার কথাও, ‘অনেকের টেস্ট ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ হয়নি। না হওয়ার পেছনে নানা কারণ ছিল। বাংলাদেশ টেস্ট খেলতে শুরু করার সময় অনেকের ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ পর্যায়। তাই আমি পুরোপুরি ব্যক্তিগত দক্ষতার জায়গা থেকে এই একাদশটি তৈরি করেছি।’

যেটি অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে। এই ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেও বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান নিজের যুক্তিতে অটল, ‘হাসিবুল হয়তো বেশি টেস্ট খেলেনি। কিন্তু টেস্টের জন্য আদর্শ খেলোয়াড় ছিল। ওর অনেকগুলো গুণের একটি সে খুব আগ্রাসী বোলার ছিল। গতি আর সুইংয়ের সঙ্গে ওর বাউন্সারও ছিল বিপজ্জনক। আমার ভাবনায় এসেছিল আরো অনেকেই। কিন্তু সব কিছু মিলিয়ে মনে হয়েছে মাশরাফির আদর্শ সঙ্গী হাসিবুলই।’

অনেকের টেস্ট ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ হয়নি। না হওয়ার পেছনে নানা কারণ ছিল। বাংলাদেশ টেস্ট খেলতে শুরু করার সময় অনেকের ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ পর্যায়। তাই আমি পুরোপুরি ব্যক্তিগত দক্ষতার জায়গা থেকে এই একাদশটি তৈরি করেছি।

অনেকেই বাধ্য হয়ে নয়তো আন্তর্জাতিক সাফল্যের সঙ্গে ক্যারিয়ার শুরুর সময়কার কার্যকারিতার জন্য মুস্তাফিজুর রহমানকে একাদশে রেখেছেন। আমিনুল এখানেও ব্যতিক্রম, ‘মুস্তাফিজকে বিবেচনা করিনি কয়েকটি কারণে। এক নম্বর হচ্ছে ওর যে স্টক বল, সেটি টেস্টের জন্য কখনোই কার্যকরী নয়। ওর বলের ধারাবাহিক গতি এবং উইকেটের যে অ্যাঙ্গেলে সে বল করে, আমার কাছে কখনোই মুস্তাফিজকে টেস্টের জন্য আদর্শ বোলার বলে মনে হয়নি।’

এই একাদশ দেশের মাটিতে খেলবে বলে এখানকার উইকেটের চরিত্র বিবেচনায় আমিনুল দুজনের বেশি পেসার একাদশে রাখেননি। বরং স্পিনেই জোর বাড়িয়ে রেখেছেন তিনজনকে। এঁদের মধ্যে একজন অফ স্পিনারও আছেন। তবে বেশির ভাগ সাবেক ক্রিকেটারের একাদশে জায়গা পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ নন, এ ক্ষেত্রে আমিনুলের বেছে নেওয়া চমক জাগানিয়া নামটি সোহাগ গাজীর, ‘আমি সোহাগকে নিচ্ছি। একমাত্র খেলোয়াড় পৃথিবীতে যে কিনা একই টেস্টে সেঞ্চুরি এবং হ্যাটট্রিক করেছে। একজন অফ স্পিনারের যা যা থাকা দরকার, তার সবই ওর আছে। সেই সঙ্গে টেস্টে ওর ব্যাটিংও কাজে লাগবে। নয় নম্বরে এ রকম একজন ব্যাটসম্যান থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ওপেনিংয়েও আমিনুল রেখেছেন এমন একটি নাম, যিনি অন্য অনেকের বিবেচনায় থাকলেও জায়গা পাননি। তামিম ইকবালের সঙ্গী হিসেবে তাঁর বাছাই করা নামটি জাভেদ ওমরের, ‘দুই নম্বর ওপেনার বেছে নেওয়াটা বেশ কঠিন ছিল। আমার ভাবনায় বেশ কয়েকজনই এসেছিল। যারা নাকি তামিমের সঙ্গী হতে পারত। ইমরুল হতে পারত কিংবা মেহরাব হোসেনও। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে অনেক লড়াই করে ৪০টি টেস্ট খেলা জাভেদ ওমরেরই থাকা উচিত। টেকনিক্যালি সে অত সুন্দর দেখতে না হলেও পারফরম করেছে বাংলাদেশের হয়ে। সেই সঙ্গে উইকেটে টিকে থাকার মানসিকতাও ছিল।’ 

ব্যাটিং অর্ডারে এর পরের জায়গাটি নিয়ে অন্য সবার মতো দোটানায় থাকতে হয়েছে আমিনুলকেও। কারণ এখানে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর কারো একাদশে জায়গা হয়েছে একজনেরই। কেউবা আবার রেখেছেন দুজনকেই। বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ অধিনায়ক এখানে অনুসরণ করেছেন প্রথমটিই, ‘এই জায়গায় অনেকেই রান করেছে। তবে ধারাবাহিকতার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নামটিই আমি রাখছি। সে হচ্ছে মমিনুল হক।’

তাঁর আটটি টেস্ট সেঞ্চুরির সবগুলোই দেশে। আবার আমিনুলের একাদশও দেশেই খেলবে। সব মিলিয়ে মমিনুল এগিয়ে গেলেও হাবিবুল বাশারকে রাখতে না পারারও আফসোস আছে আমিনুলের। নিজের যুক্তি দিয়ে সেই আক্ষেপ কিছুটা কমিয়েও নিয়েছেন, ‘হাবিবুল বাশারও ছিল ভাবনায়। কিন্তু তিন নম্বরের জন্য যে টেকনিক এবং ধৈর্য দরকার হয়, তা বিবেচনা করে মমিনুলকে নিয়েছি। একেবারে যথোপযুক্ত টেকনিক। বল নির্বাচন, টেম্পারামেন্ট থেকে শুরু করে সার্বিক ধারাবাহিকতায় মমিনুলই এগিয়ে। একটা ইনিংসকে ২০ থেকে ১২০ পর্যন্ত টেনে নিতে পারে সে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের নড়বড়ে সময়েও হইচই ফেলে দেওয়া পারফরম করা মোহাম্মদ আশরাফুল চার নম্বরে আমিনুলের একমাত্র পছন্দ, ‘এই পজিশনের জন্য আদর্শ খেলোয়াড়। ক্যারিয়ারে যদিও সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি। তবু আমার কাছে প্রাধান্য পেয়েছে সেই সময়, যে সময়ে সে ক্রিকেট খেলেছে এবং বাংলাদেশের জন্য অবদান রেখেছে। ওই সময়টায় যেসব প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিভিন্ন ধরনের উইকেটে খেলেছে ও রান করেছে, এ জন্য ওকে এই জায়গাটায় রাখলাম। এই জায়গায় আর কাউকে বিবেচনা করিনি।’

পাঁচ নম্বরে রাখা নামটি নিয়েও খুব বেশি ভাবার অবকাশ ছিল না এই সাবেক অধিনায়কের, ‘পাঁচ নম্বরে আমি চোখ বন্ধ করে মুশফিককে রাখব।’ ছয়ে মাহমুদ উল্লাহর জায়গা করে নেওয়ার কারণ, ‘অনেকগুলো গুণের মধ্যে একটি হলো ও পারফরম করতে পারে পরিস্থিতি এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী।’ সাত আর আটে সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ রফিককে নিয়ে নির্ভারও হতে পারছেন তিনি, ‘আমি সাকিবের ওপর অনেক নির্ভর করি। এর পরও আমি রফিককে নেব। এই দুজন পৃথিবীর যেকোনো উইকেটেই একই তালে বোলিং করে থাকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই জায়গাটায় আমরা খুবই শক্তিশালী।’

দুজনের কেউই যদিও খুব বড় টার্নার নন। সেটিকে খুব প্রয়োজনীয়ও মনে করেন না আমিনুল, ‘ব্যাটের প্রস্থ সাড়ে চার ইঞ্চি। দুই হাত টার্ন করিয়ে লাভ নেই তো। টার্ন করাতে হবে আড়াই ইঞ্চি। কারণ সবাই ব্যাটের মাঝখান দিয়ে খেলতে চায়। মাঝখান দিয়ে খেললে এবং ব্যাটের এজ নিতে গেলে আড়াই ইঞ্চি টার্ন করালেই হয়। ওদের দুজনের বোলিংয়েই ব্যাপারটি আছে।’

বিশেষজ্ঞ উইকেটরক্ষক না খেলিয়ে আমিনুল কাজটি চালাতে চান মুশফিককে দিয়েই। ব্যাখ্যা করেছেন এর কারণও, ‘ও অনেক দিন অধিনায়ক ছিল। উইকেটের পেছনে থেকে সে অধিনায়কের দৃষ্টিকোণ থেকেই ম্যাচ পর্যবেক্ষণও করবে। এবং আমার অধিনায়ক মাশরাফিকে সহযোগিতাও করতে পারবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা