kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

হারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চান ডমিঙ্গো

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চান ডমিঙ্গো

ইন্দোর থেকে প্রতিনিধি : দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাদেশিক দল ওয়ারিয়র্সের দায়িত্ব যখন রাসেল ডমিঙ্গো পেয়েছিলেন, তখন দলটি আটকে ছিল হারের বৃত্তে। ডমিঙ্গো কোচ হওয়ার পর কিছু পরিবর্তন আনলেন দলে, কিছু বয়স্ক ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে সুযোগ দিলেন তরুণদের। একপর্যায়ে তাঁর হাত ধরেই ঘরোয়া এক দিনের ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি আসরের শিরোপা জিতল ওয়ারিয়র্স। সেই একই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশেও কাজে লাগাতে চান দক্ষিণ আফ্রিকার এই কোচ। টেস্ট দলে আনতে চান কাঠামোগত পরিবর্তন, সেই সঙ্গে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দুই ধরনের ক্রিকেটের জন্য আলাদা দলও তৈরি করতে চান। ক্রমাগত ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে থাকা পুরনোদের বাদ দিয়ে সুযোগ দিতে চান নতুনদের।

‘কোনো সন্দেহ নেই, দলের কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে, তা না হলে ফল একই রকম হতে থাকবে’, ভারতের কাছে দুটি দিন সব বিভাগেই পরাস্ত হওয়া বাংলাদেশ দলের কোচ সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন এই কথাটাই। ‘আমার নির্বাচকদের সঙ্গে বসতে হবে, ভবিষ্যতের জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করতে হবে। আমাকে সেই সব খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে হবে, যারা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যার মানে হচ্ছে আমাদের কয়েকজন নতুন মুখকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, যারা শুরুর কিছুদিন খুব সংগ্রাম করবে। আমার মনে হয়, এখন যা হচ্ছে তাতে এর চেয়ে বেশি খারাপ কিছু হবে না। আমাদের কিছু খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স নিয়ে বিচার করতে হবে আর দলের জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো হয় সেই সিদ্ধান্তই নিতে হবে।’

তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় কয়জন ক্রিকেটার শুধু টেস্ট খেলতে রাজি হবেন, সেই প্রশ্নের জবাবে ডমিঙ্গো তাকিয়ে আছেন ওপর মহলের দিকে, ‘মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই এ রকম একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাওয়াটা আমার জন্য অস্বস্তিকর। কে খেলতে চায় কে চায় না সেটা আমার পক্ষে বলা কঠিন, ওদেরকেই জিজ্ঞেস করুন। আমি যেটা বলতে পারি, একদল খেলোয়াড় আছে যাদের দক্ষতাটা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে মানানসই আর আরেক দল আছে যারা টেস্টের সঙ্গে মানানসই। কেউ টেস্ট খেলতে মুখিয়ে থাকে, কেউ টি-টোয়েন্টির দিকে। আমি চাইছি টেস্ট খেলতে আগ্রহীদের আলাদা করতে আর টি-টোয়েন্টিতে আগ্রহীদের আলাদা করতে, এই নিয়েই বেশ একটা টানাপড়েন চলছে। তবে সব শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ আর এই টেস্ট শুরুর পর আমি একটি ধারণা পেয়েছি।’

আমার নির্বাচকদের সঙ্গে বসতে হবে, ভবিষ্যতের জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করতে হবে। আমাকে সেই সব খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে হবে, যারা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

টেস্ট অঙ্গনে পথচলার দীর্ঘ দুই দশকে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্যের হারটা যে বেশি নয়, সেটা জেনেই ডমিঙ্গো বললেন, ‘টেস্টে বাংলাদেশের রেকর্ড ভালো নয়। ১১৫টি টেস্ট খেলে তারা জিতেছে মাত্র ১৩ টেস্টে, এটা অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। সত্যিকারের টেস্ট দল হতে গেলে দলে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে, যেটা নিশ্চিত করবে দেশে এবং দেশের বাইরের পারফরম্যান্স। আমি বেশ ভালো ধারণা পেয়েছি দলের ঘাটতির জায়গাটা কোথায়, কোন জায়গাটায় পিছিয়ে পড়ছে। আশা করছি সেই জায়গাগুলোতে উন্নতি করতে পারব পরের টেস্টে।’

আবু জায়েদ রাহির বোলিংয়ের দারুণ প্রশংসা করেছেন কোচ, তবে এটাও বলেছেন একজন নয় একঝাঁক পেসার লাগবে ভালো দল হয়ে উঠতে, ‘সে সত্যিই খুব ভালো টেস্ট বোলার। ধারাবাহিকভাবে লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে বল করে গেছে। সে আমাদের টেস্টের প্রধান বোলার। তাকে অবশ্যই সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। তবে টেস্টে ভালো করতে গেলে অন্তত ছয়জন বোলার দরকার, যাদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলাতে হবে। যেটা ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ার মতো দল করছে। তাদের হাতে দেশে কিংবা বিদেশে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই বোলিং করার মতো পাঁচ থেকে ছয়জন বোলার আছে।’

কোহলি ছেড়েছেন ক্যাচ, আউট হয়েছেন শূন্য রানে। তবু ভেঙে পড়েনি ভারতীয় দল। ডমিঙ্গো এই জায়গাটাতেই বড় তফাত দেখছেন অন্যদের সঙ্গে, ‘আমাদের এখান থেকে শিখতে হবে, কিভাবে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা একে অন্যের অভাবটা পূরণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।’ উল্টোদিকে, নিজের দলের অধিনায়কের প্রথম পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করলেন এভাবে, ‘এই দলটি খুবই অনভিজ্ঞ একটি টেস্ট দল। সে খুবই ধীরস্থির, শান্ত প্রকৃতির ছেলে। প্রথম টেস্টে এ রকম চাপের মুখে তাকে বিচার করা কঠিন, সে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে উঠবে। সে শিখতে খুবই আগ্রহী।’

ম্যাচের ভাগ্য কোনদিকে যাচ্ছে, সেটা বুঝেই গেছেন ডমিঙ্গো। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নানা তাত্ত্বিক বিশ্লেষণেই আড়াল করতে চাচ্ছেন ব্যর্থতাটা। তবে এভাবে যে টেস্ট খেলা চালিয়ে যেতে পারে না একটা দল, সেটা যে দায়িত্বের দ্বিতীয় প্রহরেই বুঝে গেছেন ডমিঙ্গো সে জন্য তাঁর ধন্যবাদ পাওনা। এরপর কাঠামোগত পরিবর্তন কতটা করতে পারবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা