kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

দুই দশকে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট

আছেন দুই সময়ের সেরাদের সবাই

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আছেন দুই সময়ের সেরাদের সবাই

১০ নভেম্বর দুই দশকে পা রেখেছে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট। এ উপলক্ষেই পেছন ফিরে ইতিহাসের সেরা একাদশ বাছাই করার চেষ্টা। কালের কণ্ঠ’র অনুরোধে সাড়া দিয়ে ১০ সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার নিজেদের সেরা একাদশ গড়েও দিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে ছাপা হচ্ছে তা। মাসুদ পারভেজের করা এই ধারাবাহিকের শেষ দিনে থাকছে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার নিয়ে বিশেষ এক আয়োজনও। আজ থাকছে সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খানের সেরা একাদশ

এমনও তো হতে পারত যে আরো ১০ বছর আগেই টেস্ট খেলা শুরু করেছে বাংলাদেশ। কিংবা ২০০০ সালেই টেস্ট অভিষেকের সময় একজনের বয়স যদি হতো ২০-২২ বছর? স্রেফ একজনের কথা ভেবেই এ রকম কিছু মাথায় খেলে গেল আকরাম খানের। ১৯ বছর আগে ভারতের বিপক্ষে দেশের অভিষেক টেস্ট খেলা এই সাবেক অধিনায়কের ক্যারিয়ার এরপর দীর্ঘায়িত হয়েছে সামান্যই। তবে যাঁর কথা ভেবে অনন্ত আক্ষেপে ডুবে যান, সেই মোহাম্মদ রফিক অসামান্য এক টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়েই অবসরে যেতে পারতেন বলে মনে করেন তিনি।

কালের কণ্ঠ’র অনুরোধে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশ গড়তে বসে যে বা যাঁদের নাম সবার আগে টুকেছেন আকরাম, তার একটি ওই বাঁহাতি স্পিনারেরও। প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া রফিক টেস্ট খেলেছেন মাত্র ৩৩টি। বয়সও এর চেয়ে বেশি খেলা অনুমোদন করেনি। আকরামের আক্ষেপটি এখানেই, ‘বাংলাদেশ আরো আগেই টেস্ট খেলা শুরু করলে কিংবা অভিষেকের সময় ওর বয়স ২০-২২ বছর হলে নিশ্চিতভাবেই রফিক নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেত। বিশ্বমানের বোলার হিসেবেই ক্যারিয়ার শেষ করত ও।’

সেভাবে শেষ করতে না পারলেও তাঁর সামর্থ্য ও যোগ্যতা বিবেচনায় আকরাম নিজের সেরা একাদশে স্পিনারের সংখ্যাও বাড়াননি খুব। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে জায়গা দিয়েছেন শুধু রফিককেই। অনেকে অবশ্য বৈচিত্র্য বাড়াতে দুই বাঁহাতির সঙ্গে একজন অফ স্পিনারও রেখেছেন। কিন্তু ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের আইসিসি ট্রফি জয়ী দলের অধিনায়ক মাড়াননি সে পথ। তিনি বরং সাকিব আর রফিকের মধ্যেই বৈচিত্র্যের ব্যাপারটি সীমিত রাখতে চান, ‘অনেকের মনে হতে পারে যে কেন দুজন বাঁহাতি স্পিনার নিলাম। নিলাম কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে এদের মধ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই দুই প্রান্ত থেকে ওদের ভিন্নভাবে ব্যবহারের সুযোগ আছে। একজন রান আটকে চাপ দেবে আর আরেকজন উইকেটের জন্য যাবে। এভাবে ওদের মধ্যে ভূমিকার অদল-বদলে প্রতিপক্ষও খুব স্বস্তিতে থাকবে না।’

আমি এমন একটি একাদশ গড়তে চেয়েছি, সেটি যেন দেশের বাইরেও খেলতে পারে। শাহাদাতের কথাই ধরুন। সে লর্ডসেও ৫ উইকেট পেয়েছে। আবার দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও (২০০৮ সালে) কাঁপিয়েছে।

অস্বস্তি বাড়ানোর জন্য ভিন্ন ছকও কেটেছেন আকরাম। নিজ দলের দুই স্পিনারের বৈশিষ্ট্যের কথা মাথায় রেখেই বদলটি এনেছেন তিনি। এমনিতে দেশের মাটিতে খেলানোর জন্যই একাদশ গড়েছেন খেলোয়াড় থেকে প্রশাসক বনে যাওয়া এই সাবেক প্রধান নির্বাচক। তবে চিরাচরিত স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলার চিন্তা থেকেও বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। কারণ সাকিব ও রফিকের কেউই টার্নের জন্য খুব খ্যাত নন। লাইন আর লেন্থ ঠিক রেখে নানা রকম চাতুরীতেই তাঁদের সাফল্য লুকিয়ে থাকে বলে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে বিশেষত উপমহাদেশের প্রতিপক্ষের টার্ন করাতে সক্ষম স্পিনারদের উল্টো চড়ে বসতে দিতে চান না।

গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে আফগানিস্তান লজ্জার অভিজ্ঞতা থেকেই সম্ভবত তিনি ‘স্পোর্টিং’ উইকেটে খেলতে চান, যেখানে পেস বোলারদেরও কিছু করার থাকবে। আকরাম তাই পেস-সজ্জা বাড়িয়ে রেখেছেন তিনজনকে। যার পুরোভাগে তাঁর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সঙ্গী শাহাদাত হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান। শেষেরজনের অন্তর্ভুক্তির ব্যাখ্যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই পরিচালক বলছিলেন, ‘পেস আক্রমণে একজন বাঁহাতির দরকার আছে বলে মনে করেছি। কিন্তু আমাদের ইতিহাসে সেরকম আহামরি কেউ আসেনি বলেই সম্ভাব্য সেরা মুস্তাফিজকে রেখেছি।’

অর্থাৎ বাধ্য হয়েই নেওয়া একরকম। তবে আরেকজন পেসার শাহাদাতের দারুণ গুণমুগ্ধ আকরাম, ‘ও ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি। কিন্তু একজন আগ্রাসী ফাস্ট বোলারের সব গুণই ওর মধ্যে ছিল।’ সেই সঙ্গে নিজের একাদশ নিয়ে তিনি এ কথাও বলে রাখতে ভোলেননি, ‘আমি এমন একটি একাদশ গড়তে চেয়েছি, সেটি যেন দেশের বাইরেও খেলতে পারে। শাহাদাতের কথাই ধরুন। সে লর্ডসেও ৫ উইকেট পেয়েছে। আবার দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও (২০০৮ সালে) কাঁপিয়েছে।’

কিন্তু দেশের মাটিতে পেসারদের জন্য কিছু সহায়তা থাকলে প্রতিপক্ষের পেস আক্রমণও তো স্বাগতিকদের কাঁপাতে পারে। ভারতের বিপক্ষে ইন্দোর টেস্ট শুরুর বেশ আগেই এই একাদশটি দিয়েছেন আকরাম। কালকের ব্যাটিং ব্যর্থতার পর তাঁর মনোভাব বদলেছে কি না, কে জানে! তামিম ইকবালের ওপেনিং সঙ্গী হিসেবে তিনি ইমরুল কায়েসকে বেছে নিয়েছেন তো পেস বোলিং সামলানোর ক্ষমতার জন্যই, ‘আমি জাভেদ ওমর এবং শাহরিয়ার নাফীসের কথাও ভেবেছি। কিন্তু ইমরুলকে নিলাম কারণ অন্যদের থেকে ওর পেস বোলিং খেলার সামর্থ্য বেশি বলেই মনে হয়েছে আমার।’

বাস্তব কারণেই বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে ব্যাটিং অর্ডারে একটু পিছিয়ে দিতে হয়েছে বলে দুঃখও করেছেন আকরাম, ‘আমি কিপিং ওকে দিয়েই করাব। লম্বা সময় সেটি করতে হলে ক্লান্তিতে ব্যাটিংয়ে এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই ওকে সাতে রাখছি। কখনো কখনো সাকিবকে ওর জায়গায় পাঠিয়ে মুশফিককে ছয়েও উঠিয়ে আনা যেতে পারে।’ অবশ্য এই সময় এবং নিজের সময়ের দুই সেরা ব্যাটসম্যানকে ছাড়াও একাদশ গড়তে চাননি তিনি। সেই সঙ্গে তাঁর চোখে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘প্রথম বিশ্ব তারকা’র জায়গাও পাকা।

সেই তিনজনের উপস্থিতিও ব্যাটিং অর্ডারে মুশফিকের আরো পিছিয়ে যাওয়ার কারণ, ‘তা ছাড়া সেরা ব্যাটসম্যানদের সবাই যখন দলে, তখন কাউকে না কাউকে তো নিজের জায়গা থেকে সরাতে হবেই।’ এর মধ্যে ব্যাটিংয়ের তিন এবং চারে দ্বিতীয় কোনো নাম মাথায়ও আসেনি আকরামের, ‘মমিনুল হক এবং হাবিবুল বাশার। নিজ নিজ সময়ের সেরা পারফরমার এরা। এদের কাউকেই বাদ দেওয়া যায় না। দুজনেই তিনে খেলেছে। আমি মমিনুলকে ওই জায়গাটি দিয়ে হাবিবুলকে নামাব চারে। আমাদের সময়ে আমরা সবাই ব্যর্থ ছিলাম। হাবিবুল ছিল একমাত্র সফল।’

চারে খেলা তাঁর সময়ের আরেকজনকে পাঁচ নম্বরে নামানো যায় কিনা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত রাখতে পারেননি এ জন্য, ‘আমি বুলবুলের (আমিনুল ইসলাম) কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু রাখলাম আমাদের প্রথম বিশ্ব তারকা মোহাম্মদ আশরাফুলকে। সেটি নিজের দিনে বিশ্বের যেকোনো বোলিং আক্রমণকে ছারখার করে দিতে পারার ক্ষমতার জন্য।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা