kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

স্পিন কোয়ার্টেটের দেশে পেস প্যাক!

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্পিন কোয়ার্টেটের দেশে পেস প্যাক!

ইন্দোর থেকে প্রতিনিধি : ইন্দোরের হোলকার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের সব ক্রিকেট কিংবদন্তিই হাজির আছেন কোনো না কোনোভাবে। দুটি প্যাভিলিয়ন সিকে নাইডু ও মুশতাক আলীর নামে, দুটি ড্রেসিংরুম রাহুল দ্রাবিড় ও মনসুর আলী খান পতৌদির নামে। গ্যালারিতে আছেন সুনীল গাভাস্কার, শচীন টেন্ডুলকার, কপিল দেবরাও। তাঁদের সঙ্গে ঠিক মেলানো যায় না নরেন্দ্র হিরওয়ানি, রাজেশ চৌহানদের। তাঁদের নামেও যে হোলকার স্টেডিয়ামে আছে প্রবেশদ্বার! তারকাখ্যাতি বা ক্রিকেটীয় সামর্থ্যে হিরওয়ানি কিংবা চৌহান গাভাস্কার-কপিলদের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও স্টেডিয়ামের নানা স্থাপনার সঙ্গে তাঁদের নামটা জুড়ে দেওয়ার কারণ, হিরওয়ানি মধ্য প্রদেশের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছেন বহু বছর। সেই হিরোয়ানির শহরেই কাল যে দৃশ্য মঞ্চস্থ হলো, তা দেখা যায় পার্থ, ব্রিসবেনে! দুই দিক থেকে নতুন বলে আগুন ঝরাচ্ছেন দুই পেসার, কাস্তের মতো বাঁকা স্লিপ কর্ডন ব্যাটসম্যানের পেছনে অপেক্ষায়। ম্যাচ শুরুর আগে বলেছিলেন বিরাট কোহলি, কাল একই দাবি রবিচন্দ্রন অশ্বিনেরও; ভারতের এই পেস বোলিং লাইন আপ এখন বিশ্বসেরাদের কাতারে। অথচ এক দশক আগেও ভারতের বোলিং লাইন আপ মানেই ছিল স্পিনারদের ছড়াছড়ি।

পরিবর্তনটা এসেছে প্রজন্ম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে। দেশে বাঘ আর বাইরে বিড়াল দুর্নাম ঘোচাতে ভারতীয় ক্রিকেট কর্তারা জোর দিয়েছেন পেস বোলিং আক্রমণকে জোরালো করতে। যাতে বিদেশের মাটিতে গিয়ে খাবি খেতে না হয়। অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে জসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সামি, ঈশান্ত শর্মাদের পেস বোলিংয়ের জোরেই সিরিজ জিতে দেশে ফেরে বিরাট কোহলির ভারত। দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পেস খেলতে দক্ষ দলকেও তারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পেস বোলিংয়ের জোরেই।

তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোহলি দ্ব্যর্থহীনভাবেই নিজেদের পেস বোলিং আক্রমণকে ঘোষণা করেন বিশ্বের সেরা হিসেবে, ‘আমার কাছে জানতে চাইলে আমি বলব, সেরা তিনের মধ্যে নয় আমরা আসলে সেরাই। এই বোলারদের প্রশংসাটা প্রাপ্য। আমি যখন অধিনায়ক হই, তখন এই জিনিসটাই দেখতে চেয়েছিলাম। ওদের নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই। আর ওদের সবচেয়ে ভালো দিকটা হচ্ছে ওরা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। যতবার তারা মাঠে নামছে, আগের চেয়ে আরো উইকেটের জন্য ক্ষুধার্ত হয়ে নামছে। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’

আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার সূচনাটা সৌরভ গাঙ্গুলির হাত ধরে। সেটাকে পূর্ণতা দিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। আর বিরাট কোহলির নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আর দেশে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হোয়াইটওয়াশ করে নতুন এক পেস বোলিং আক্রমণ সমৃদ্ধ ভারতীয় দলকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন কোহলি। কাল সকালে ইশান্ত, উমেশ যাদবদের বলে বারবার পরাস্ত হচ্ছিলেন বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরা। ম্যাচের প্রথম ১৮টি বল, অর্থাৎ তিনটি ওভার একটা বলও ব্যাটে লাগাতে পারেননি সাদমান ইসলাম ও ইমরুল কায়েস। তিনজন স্লিপ ফিল্ডার ও একজন গালিতে দাঁড়িয়ে। পেসারদের বল পাচ্ছে দারুণ ‘ক্যারি’। স্লিপে ক্যাচ এসেছে, পড়েছেও। হয়তো ফাস্ট বোলিংয়ের অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ ‘স্লিপ ক্যাচিং’টা এখনো পুরোপুরি রপ্ত হয়নি ভারতীয়দের। কোহলি নিজেই ফেলেছেন মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ, দুইবার ক্যাচ ফেলেছেন আজিঙ্কা রাহানেও। ভুল শুধরে কোহলি নিয়েছেন লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচও।

ষাট ও সত্তরের দশকে; এরাপল্লী প্রসন্ন, শ্রীনিবাস ভেঙ্কটরাঘবন, ভগবৎ চন্দ্রশেখর ও বিষেণ সিং বেদি মিলে গড়ে তুলেছিলেন ভারতের বিখ্যাত স্পিন চতুষ্টয়। চারজনে সম্মিলিতভাবে খেলেছিলেন ২৩১ টেস্ট ম্যাচ, তুলেছিলেন ৮৫৩ উইকেট। উপমহাদেশের ধুলোময় উইকেটে তাঁরা ছিলেন ভয়ংকর। সেই ভারতীয় দল এখন দেশের মাটিতে খেলতে নামছে তিন পেসার নিয়ে, সেটাও তাদের সেরা বোলার চোটগ্রস্ত জসপ্রিত বুমরাহকে ছাড়াই। আর সবচেয়ে মজার বিষয়, তাদের শ্রেষ্ঠত্বের সনদটা এলো এক স্পিনারের মুখ থেকেই, ‘পেসারদের কথা তো অনেক বলা হচ্ছে। কখনো মনে হবে, যতগুলো স্পেল তারা বল করছে ততবারই মনে হচ্ছে তারা হয় কিছু করবে বা কিছু ঘটাবে। আমার মনে হয় সামি, ঈশান্ত ও উমেশ মিলে দারুণ একটা পেস প্যাক, এদের সঙ্গে যদি বুমরাহকে যোগ করা হয় তাহলে সেটা বিশ্বের সবচেয়ে সেরা বোলিং আক্রমণ না হলেও অন্যতম ভয়ংকর বোলিং আক্রমণ তো অবশ্যই। ওরা আমার দেখা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সেরা বোলিং আক্রমণ।’

এ রকম একটা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে অপ্রস্তুত হয়ে মাঠে নামার পর টস জিতে সেধে ব্যাটিং নিলে, ভুগতে তো হবেই!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা