kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

সেই জেমিই স্বপ্ন দেখাচ্ছেন

সনৎ বাবলা   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেই জেমিই স্বপ্ন দেখাচ্ছেন

শুরুর সেই ছোট কোচ জেমি ডে’তেই মজে গেছে বাংলাদেশের ফুটবল। শেষ ম্যাচে ভারতের দামি ক্রোয়াট কোচ ইগর স্তিমাচের সঙ্গে সমানে টেক্কা দেওয়ার পর এই ব্রিটিশ কোচ হয়ে গেছেন লাল-সবুজের নির্ভরতার প্রতীক।

কিন্তু শুরুর অবস্থা ছিল বিরূপ। ২০১৮ সালের ১৭ মে বাফুফের জাতীয় দল কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদ নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা করেন জেমি ডে’র নাম। এরপর তাঁর কুষ্ঠি-ঠিকুজি বের করে দেখা গেল প্রফাইলে আহামরি কিছু নয়। নিচু সারির কোচ, ইংলিশ লিগ সিস্টেমের পঞ্চম বিভাগের একটি দলে কাজ করেছেন। তার আগে যেসব জায়গায় কাজ করেছেন সেগুলো বলার মতো ছিল না। তাই বাফুফের একটি নাখোশ অংশের মতো সংবাদমাধ্যমেও আশাব্যঞ্জক কিছু দেখা যায়নি। সামগ্রিক ছবিটা ছিল—বাংলাদেশ খুব বড় দল, সেখানে এত নিচু সারির কোচ মানায় না!

আরেকটি বিষয় ছিল, তার আগে এই দলে উয়েফা প্রো-লাইসেন্সধারী দেশি-বিদেশিরা কাজ করে গেছেন। তাঁরাই পারেননি আর সেই তুলনায় জেমি ডে তো নস্যি! তাঁর অত ভারী কোচিং লাইসেন্সও নেই। এক বছর আগে এসেছিলেন ‘এ’ লাইসেন্স নিয়ে, এবার কেবল নাম লিখিয়েছেন প্রো-লাইসেন্স কোর্সে। যেমন শঙ্কা ছিল, শুরুটাও হয়েছিল তেমন। গত বছর ২৯ আগস্ট নীলফামারীতে শ্রীলঙ্কার কাছে ১-০ গোলে বাংলাদেশের হারে জেমি ডে’র ‘দিন’ শুরু। পরের মাসে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটান ও পাকিস্তানকে হারিয়ে নতুন কোচের কিছু অর্জন হলেও নেপালের কাছে ২-০ গোলের হারে সব বিসর্জন হয়ে যায়। এরপর বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপেও অবস্থার খুব পরিবর্তন হয়নি। গত জুনে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে লাওসের বিপক্ষে প্লে-অফই হয়ে ওঠে তাঁর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবলেরও। অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতে এবং হোম ম্যাচ ড্র করে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় রাউন্ডে।

এটা বাফুফের জন্য বড় স্বস্তির খবর। সুবাদে ওই নাখোশ অংশের বিবেচনায়ও পাস করে যান জেমি। এরপর ছোট কোচের লেবেলটাও আস্তে আস্তে খসে যায় তাঁর গা থেকে। ফুটবল নিয়ে জাতীয় সংশয় কাটিয়ে এই ব্রিটিশ কোচ এখন জাতির প্রত্যাশার মগডালে বসে আছেন। ৪০ বছর বয়সী এই কোচ অবশ্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের, ‘সবই খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব। তারা দারুণ খেলছে বলেই হাওয়াটা বদলেছে। আমি তাদের ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করেছি। যখন ফুটবল দক্ষতার ঘাটতি তখন অন্য কী উপায়ে সেটা পূরণ করা যায়, সেই কৌশলটাই আমি বেছে নিয়েছি। তাতে খেলোয়াড়রা মানিয়ে নিয়েছে এবং ভালো সাড়া দিচ্ছে।’ জামাল-ইয়াসিনদের এই বদলে যাওয়া খেলাতেই কোচ পেয়ে গেছেন বাংলাদেশ অধ্যায়ে তাঁর সেরা ম্যাচ। কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র ম্যাচটিকেই সেরা মানছেন জেমি ডে।

এরপর আজ আবার কঠিন ওমানের মুখে বাংলাদেশ। এ নিয়ে বড় প্রত্যাশা নেই তাঁর। আসলে বাংলাদেশ কঠিন এক গ্রুপে খেলছে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব। সব প্রতিপক্ষই র‌্যাংকিংয়ে যোজন যোজন এগিয়ে। কোচও জানেন, এখান থেকে জয়ের স্বপ্ন দেখা যায় না। এমন অবস্থায় জেমির অনুপ্রেরণা, ‘আমি ছোট ক্লাব দল নিয়ে আগেও কাজ করেছি। এখানেও এই দলটাকে আরো উন্নতি করে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটা করছি। দলটাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে পারলেই আমি খুশি। বড় দলের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জটা তাই আমি উপভোগ করি।’

ছোট দলকে বড় করার চ্যালেঞ্জ নিতে আগ্রহটাই বড় কোচের প্রাথমিক মানদণ্ড। জেমি সে পরীক্ষায় উতরেও গেছেন। বাকিটুকু ভবিষ্যতের জন্যই তোলা থাক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা