kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

দারুণ কিছুর আশায় বাংলাদেশ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দারুণ কিছুর আশায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভারত ম্যাচের আগে ‘ম্যাচ জিততে নামব’ বলে বড় হুঙ্কার দিয়েছিলেন জামাল ভূঁইয়া। ওমানের বিপক্ষে নামার আগে সেরকম কিছু বলছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। বরং বেশ সমীহ করে প্রতিপক্ষকে ঠেকানোর কথা বলেছেন। এই ঠেকানোর খেলাটা অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার কাজটা বেশ ভালো শিখে ফেলেছেন জামাল-ইয়াসিনরা। এটা শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে করাটাই চ্যালেঞ্জিং। তা করতে পারলেই কিছু একটা মিলবে নিশ্চিত।

তাঁদের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে ঢাকায় কাতারের সঙ্গে ম্যাচটি। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ২-০ গোলে হারলেও অনেক ইতিবাচক দিক ছিল। দুটো ক্লিয়ার-কাট সুযোগ তৈরি করেছিল গোলের। আজ সেই গোলের কথা মুখে আনছেন না কেউ। উল্টো শুরুতে গোল খেয়ে চাপে না পড়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কোচিং স্টাফরা। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ম্যাচটি হয়েছিল ঢাকায় ভেজা মাঠে। আর এই ম্যাচটি হবে ওমানে নিজেদের চেনা মাঠে। তাই বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে-ও সামনে দেখছেন এক কঠিন লড়াই, ‘কাতার ম্যাচের সঙ্গে মেলালে হবে না। ওমানের ম্যাচে তারা ফেভারিট, ওদের বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে, যারা ম্যাচ বের করে নিতে পারে। এই ম্যাচে আমাদের সামর্থ্যেরও বেশি দিতে হবে। দু-একজন ভালো খেললে হবে না, পুরো দলকে একই উচ্চতায় পৌঁছাতে হবে। নইলে এমন দলের সঙ্গে পারা কঠিন।’ এই ওমানের সঙ্গে আগে কখনো বাংলাদেশ খেলেনি। এটা হবে তাদের একদম নতুন অভিজ্ঞতা। একটা সুবিধা অবশ্য দেখছেন বাংলাদেশের সহকারী কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার, ‘একটা ভালো দিক হলো, এই দল হারার আগে হারে না। বড় দলের সঙ্গে খেলতে খেলতে তাদের ভয়-ডর কমে গেছে। কিভাবে বড় দলের বিপক্ষে খেলতে হয়, সেটা তারা বুঝে গেছে। তাই ওমানের মাটিতে আরেকটি লড়াকু ম্যাচ আশা করছি আমি।’

আশার পালে হাওয়া দিচ্ছে মাসকাট ক্লাবের বিপক্ষে খেলা প্র্যাকটিস ম্যাচটি। গত ৭ নভেম্বর এই ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে জেতে। তবে সেই ম্যাচে ছিল না ওমান জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড়। বাংলাদেশ কোচ যতই এই জয়কে আমলে নিতে চান না, খেলোয়াড়দের মুখে বারবার ঘুরে ফিরে আসছে সেই স্মৃতি। গোলরক্ষক আশরাফুল রানা এই ম্যাচটাকে দলের উজ্জীবনী হিসেবে দেখছেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড় না থাকলেও মাসকাট ক্লাব খারাপ দল নয়। তাদের বিপক্ষে জয় পাওয়ায় সবার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। এটা অবশ্যই ওমান ম্যাচে ভীষণ কাজে লাগবে। অন্তত ভয়ে থাকবে না কেউ।’ ‘ই’ গ্রুপের দুই সেরা কাতার ও ওমান ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতোই প্রতিপক্ষ। কাতার চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও ওমান তিন খেলায় ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। কাতার স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপে খেলবে, তাই ওমান মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপে নাম লেখাতে। কাতারের কাছে একমাত্র ম্যাচ হেরেও তারা স্বপ্ন দেখছে। তাদের কোচ বিখ্যাত ডাচ খেলোয়াড় এবং কোচ রোনাল্ড কোম্যানের ভাই আরউইন কোম্যানও ধরে ফেলেছেন বাংলাদেশের খেলার স্টাইল, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে এই ম্যাচের জন্য আমরা তৈরি। বক্সে খেলা নিয়ে আমাদের বেশ কিছু সেশন হয়েছে। কিভাবে জায়গা বের করতে হবে, ডেলিভারি দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এ রকম দলের বিপক্ষে কিভাবে খেলতে হয়, আমরা জানি।’

বাংলাদেশ যে তাদের আটকানোর ছক কষছে সেটা তারা জানে। আর সেই রক্ষণ ভাঙার কৌশলের চর্চা করেই ওমান আজ মাঠে নামছে। এটা মোটেও সুখবর নয় ডিফেন্ডার ইয়াসিন, রিয়াদ, ইয়াসির ও বিশ্বনাথদের জন্য। প্র্যাকটিস ম্যাচে জিতলেও তারা দুটি পেনাল্টি উপহার দিয়েছিল প্রতিপক্ষকে। অর্থাৎ রক্ষণভাগে এখনো ভুল হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ কোচ দাবি করছেন, ‘আমি যতটুকু ফুটবল বুঝি, ওই দুটি কোনোভাবে পেনাল্টি হয় না। এর পরও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে বক্সে যেন মারাত্মক কোনো ফাউল করা না হয়। রক্ষণ সংগঠন ভালো করার ওপরই ম্যাচের নিয়তি নির্ভর করছে।’ খেলাটা হবে বাংলাদেশের রক্ষণের সঙ্গে ওমান ফরোয়ার্ডদের। ওমানের মাঠে এই লড়াইয়ে লাল-সবুজকে অনুপ্রাণিত করতে হাজির থাকবে কয়েক হাজার বাঙালি দর্শক। এ রকম কিছু হলে তা খেলোয়াড়দের জন্য হবে বাড়তি অনুপ্রেরণা। সব মিলিয়ে যদি ইতিবাচক কিছু হয়ে যায়! সেটা হয়তো অলীক, কিন্তু প্রত্যাশায় দোষ দেখেন না জেমি, ‘বাংলাদেশ প্রতি ম্যাচে উন্নতি করছে। সেটা এই ম্যাচে বজায় থাকলে এবং পয়েন্ট নিয়ে শেষ করতে পারলে ফুটবলে বিশাল ব্যাপার হয়ে যাবে।’ রাত ৯টায় সেই বিশালত্বের খোঁজে নামছে লাল-সবুজের দল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা