kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

দুই দশকে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট

হাবিবুল তো বটেই, আছেন মমিনুলও

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



হাবিবুল তো বটেই, আছেন মমিনুলও

১০ নভেম্বর দুই দশকে পা রেখেছে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট। এ উপলক্ষেই পেছন ফিরে ইতিহাসের সেরা একাদশ বাছাই করার চেষ্টা। কালের কণ্ঠ’র অনুরোধে সাড়া দিয়ে ১০ সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার নিজেদের সেরা একাদশ গড়েও দিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে ছাপা হচ্ছে তা। মাসুদ পারভেজের করা এই ধারাবাহিকের শেষ দিনে থাকছে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার নিয়ে বিশেষ এক আয়োজনও। আজ থাকছে সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদের সেরা একাদশ

দুজন দুই সময়ের ব্যাটসম্যান। একজন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঘোর দুঃসময়েও টেস্ট ক্রিকেটে অবাধে রান করে গেছেন। আরেকজনও এই সময়ে ব্যাট হাতে দারুণ উজ্জ্বল। এমনই ঔজ্জ্বল্য যে কারো কারো বিবেচনায় সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশে আগেরজনকে টপকে ঢুকেও গেছেন। ব্যাটিংয়ের তিন নম্বরে দুঃসময়ের পারফরমার হাবিবুল বাশারকে পেছনে ফেলে মমিনুল হক জায়গা করে নিয়েছেন অনেকের দলেই। কিন্তু সেরা একাদশ যখন সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদের, তখন এই দুজনের জায়গাই অবধারিত। হাবিবুল তো বটেই, তিনি মমিনুলকে বাইরে রেখেও নিজের একাদশকে ‘অসম্পূর্ণ’ করতে চাননি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সময় প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে ছিলেন ফারুক। তাঁর সময়েই হাবিবুলের নেতৃত্বে ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে হারানো বাংলাদেশ খেলেছিল সুপার এইট রাউন্ডে। ২০১৫-তে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সময়ও প্রধান নির্বাচক তিনি। ২০১৩-র এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় টেস্টে অভিষিক্ত মমিনুলও ছিলেন ফারুকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে। দুজনকেই খুব কাছ থেকে দেখা ফারুক কোনোভাবেই এঁদের কাউকে বাদ দেওয়ার যুক্তি খুঁজে পাননি। একজনের ব্যাটিং অর্ডারই যা একটু বদলে দিতে হয়েছে শুধু। মমিনুলকে তিনে রেখে চার নম্বর বরাদ্দ হাবিবুলের জন্য।

এ ক্ষেত্রে খুব স্পষ্ট অবস্থান ফারুকের, ‘তিন এবং চারে আমি সেরা দুজন ব্যাটসম্যানকেই নিয়েছি। তিনে খেলবে মমিনুল। আর চার নম্বরে দলের ব্যাটিংয়ে স্থিরতা দেওয়ার জন্য হাবিবুল ছাড়া আর কাউকে আমি খুঁজে পাইনি।’ যে কারণে পাঁচ নম্বরে খেলতে হবে মুশফিকুর রহিমকে। এটিরও ব্যাখ্যা দিয়ে রেখেছেন ফারুক, ‘এখানে প্রশ্ন আসতে পারে মাহমুদ উল্লাহকে একাদশে রেখে মুশফিককে আমি আরো আগে (চার নম্বরে) নামাতে পারতাম কি না। কিন্তু বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলা সেরা দুই ব্যাটসম্যানকে আমি বাদ দিতে পারব না।’

তিন এবং চারে আমি সেরা দুজন ব্যাটসম্যানকেই নিয়েছি। তিনে খেলবে মমিনুল। আর চার নম্বরে দলের ব্যাটিংয়ে স্থিরতা দেওয়ার জন্য হাবিবুল ছাড়া আর কাউকে আমি খুঁজে পাইনি।

পরিসংখ্যানেও হাবিবুলের কীর্তির বিশালতা আরো বেশি খুঁজে পাচ্ছেন দুই মেয়াদের প্রধান নির্বাচক, ‘পরিসংখ্যান দেখলে হাবিবুলকে আরো বাহবা দিতে হবে। তা ছাড়া আজকালকার খেলোয়াড়রা যেসব সুযোগ-সুবিধা পায়, ও পায়নি তার কিছুই। সীমিত সুবিধার সময়ে রান করাও অনেক কঠিন ছিল। কারণ ওকে মুখোমুখি হতে হয়েছে সেরা বোলারদেরও। ওর পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে ব্যাটসম্যান হিসেবে সে অনেক এগিয়ে।’ ৫০ টেস্টে ৩০.৮৭ গড়ে ৩ সেঞ্চুরি ও ২৪ ফিফটিতে ৩,০২৬ রান করা হাবিবুল খেলেননি কাদের? ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস, শোয়েব আখতার, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, জেসন গিলেস্পি, মুত্তিয়া মুরালিধরন, অনিল কুম্বলে থেকে শুরু করে শেন ওয়ার্ন, বাদ যাননি কেউই!

তাই বলে ৩৬ টেস্টে ৪১.৪৭ গড়ে ৮ সেঞ্চুরি ও ১৩ ফিফটিতে ২,৬১৩ রান করা মমিনুলকেও উপেক্ষা করতে পারেননি ফারুক। দুজনকে রাখতে গিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণে বাইরে থেকেছেন মাহমুদ উল্লাহ, ‘বাড়তি একজন ব্যাটসম্যান খেলাতে পারলে আমার একাদশটি আরো ভালো হতো।’ কিন্তু ছয়জন ব্যাটসম্যান রেখে বোলিং গভীরতা বাড়ানোর চিন্তায় বিসর্জনে গেছে সেটি, ‘এটি সত্যি কথা যে প্রতিপক্ষকে নিয়মিত ভিত্তিতে দুইবার অলআউট করার মতো দল আমরা এখনো হয়ে উঠিনি।’

আবার নির্ভর করার মতো পেস বোলিং অলরাউন্ডারও তেমন খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ, ‘খুব খুশি হতাম, সাত নম্বরে একজন সিমিং অলরাউন্ডার রাখতে পারলে। কিন্তু এ রকম কাউকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি বা আসেইনি।’ আবার বিশেষজ্ঞ কোনো উইকেটরক্ষকও রাখেননি। সেটি মুশফিকুর রহিমকে দিয়ে করাবেন বলেই ব্যাটিংয়ে তাঁকে একটু পিছিয়ে পাঁচে নেওয়ারও যুক্তি থাকছে। ছয়ে সাকিব আল হাসান। ফারুক নিজের একাদশে ব্যাটসম্যান এই ছয়জনই রেখেছেন।

এরপর দুজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার ও তিনজন পেসার। সেই সঙ্গে সাকিব তো আছেনই। সব মিলিয়ে ছয় বোলার রাখার যুক্তি হলো, ‘আমার একাদশে সাকিব ছাড়াও পাঁচজন খাঁটি বোলার রেখেছি। কারণ আমাদের ওরকম টেস্ট জেতানো বোলার নেই। আক্রমণে গিয়েই ৫ উইকেট নিতে পারে, এ রকম আস্থা অর্জন করার মতো বোলার এখনো তৈরি হয়নি। এ জন্য আমার কাছে মনে হয়েছে ওয়ার্ক লোড সবার মধ্যে ভাগ করে দিয়ে সুফল মিলতে পারে। তাই অনেক ভেবে সাত নম্বরে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান খেলানোর চিন্তা বাদ দিতে হয়েছে।’

ওই জায়গায় ফারুক নিয়েছেন টেস্টে ১০০ উইকেট পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার মোহাম্মদ রফিককে, ‘অনেকে বলতে পারে সাকিবের সঙ্গে আরেকজন বাঁহাতি স্পিনার কেন নিলাম? আসলে ওরা একই রকম বোলার নয়। রফিক বিশেষ ধরনের। ওকে খেলাতেই বাড়তি ব্যাটসম্যান রাখিনি।’ স্পিন আক্রমণে বৈচিত্র্য বাড়াতে রেখেছেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজকেও, ‘যেহেতু আমাদের লেগ স্পিনার নেই, তাই বৈচিত্র্য আনার জন্য জেনুইন অফ স্পিনার রাখতে হয়েছে। দেশের মাটিতে বড় সাফল্যও (ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে) আছে মিরাজের।’

ইনজুরিতে টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার আগের বোলার এবং এর পরের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়েও সহজ উপসংহারে পৌঁছেছেন ফারুক, ‘এই দলের অধিনায়ক মাশরাফি। কেন? সেটি বুঝতেই পারছেন। আর বোলার মাশরাফির কথা বললে সে ইনজুরির আগে দেশের সেরা পেস বোলার। গতি, বুদ্ধিমত্তা এবং সুইং—সব কিছু মিলিয়েই।’ পারফরমার হিসেবে এখন ক্রমেই ম্রিয়মাণ মুস্তাফিজুর রহমানকেও তাঁর পুরনো ঝলক বিবেচনায় রেখেছেন এই সাবেক অধিনায়ক, ‘মুস্তাফিজের বৈচিত্র্য এবং সামর্থ্যের জন্য দ্বিতীয় পেসার হিসেবে ওকে রেখেছি।’ একটি সময় ভীষণ আগ্রাসী বোলার হিসেবে দেশে এবং দেশের বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সাফল্য পাওয়ার কারণে নিজের একাদশে শাহাদাত হোসেনকেও রেখেছেন ফারুক।

সাকিবকে ধরে তিনজন করে স্পিনার ও পেসারে একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে ফারুক আরেকটি বিষয়ও বিবেচনায় রেখেছেন, ‘এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়তে চেয়েছি, যেটি দেশ এবং দেশের বাইরে, খেলানো যাবে দুই জায়গাতেই।’ ও হ্যাঁ, তামিম ইকবালের ওপেনিং পার্টনার হিসেবে ইমরুল কায়েসকে ব্যাখ্যা তো এখনো শোনাই হলো না, ‘এ ক্ষেত্রে আমি শাহরিয়ার নাফীস ও নাফিস ইকবাল থেকে শুরু করে ভেবেছি আরো কয়েকজনের কথাও। কিন্তু অনেক ভেবে দেখলাম, তামিম-ইমরুল জুটিই একটা সময় বাংলাদেশের ওপেনিংকে কিছু সময়ের জন্য স্থিরতা দিয়েছিল। তাই বেছে নিলাম এই জুটিই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা