kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

মনোবলেই বিশ্বাস অধিনায়ক মমিনুলের

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মনোবলেই বিশ্বাস অধিনায়ক মমিনুলের

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে গাঢ় অমাবস্যার রাত্রিতে, যেভাবে টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার সংবাদটা পেয়েছিলেন মমিনুল হক সেটাকে কোনোভাবেই সুসংবাদ বলার উপায় নেই। বিকেলেই আইসিসির ই-মেইল বার্তায় এসেছে জুয়াড়ির সঙ্গে আলাপের প্রমাণ পাওয়ায় সাকিব আল হাসানের এক বছরের নিষেধাজ্ঞার সমন। কোলাহলপূর্ণ বিসিবি করিডরে প্রধান নির্বাচক যতক্ষণে টেস্ট অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেছেন, ততক্ষণে দেশের অনেকগুলো খবরের কাগজের জাতীয় সংস্করণ প্রেসে চলে গেছে। ক্রিকেটের অনেক কিছু দিনবদলের সঙ্গে বদলে গেলেও টেস্ট ক্রিকেটটাকে এখনো আদি চেহারায় ধরে রাখার একটা চেষ্টা আছে। প্রথম দিন সকালে দুই অধিনায়ককে টসে যেতে হয় ব্লেজার পরে। মমিনুল চলে এসেছিলেন আগেই, তাঁর ব্লেজারটা ইন্দোরে পৌঁছল কাল। এই যে শেষ মুহূর্তের জোড়াতালি, শেষ সময়ের প্রস্তুতি সবই আসলে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে অপ্রস্তুত বাংলাদেশ দলের একেকটা খণ্ডচিত্র। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২০ বছর পর, প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশ ভারতে পূর্ণাঙ্গ টেস্ট সিরিজ খেলতে এলো বাংলাদেশ। যে সিরিজটা ছিল পরম প্রত্যাশিত, সেটাই শুরু হলো সবচেয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থায়!

দলের সেরা খেলোয়াড়টিকে অধিনায়ক বানানোর পক্ষে-বিপক্ষে, দুদিকেই আছে যুক্তি। অধিনায়কত্বের চাপ কতটা আক্রান্ত করবে গত বছর টেস্টে চার শতরান করা মমিনুলের ব্যাটকে? এমন প্রশ্নে এই বাঁহাতির উত্তর, ‘যখন নেতৃত্ব পেয়েছি তখন থেকে এই ব্যাপারটা কখনো অনুভব করিনি। অধিনায়কত্ব পাওয়ার আগে একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতাম, এখনো ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলব। আমি সব সময়ই ইতিবাচকভাবে ভাবার চেষ্টা করি। নেতৃত্বে থাকায় ক্রিকেট নিয়ে জ্ঞানটা বাড়ে, দায়িত্বও বাড়ে। আমার মনে হয় এখন আমার পারফরম্যান্সের উন্নতি হবে, ব্যাটিংটা আরেকটু ভালো হবে।’

আজ বাংলাদেশের ১১তম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামবেন মমিনুল। মোহাম্মদ আশরাফুলের পর নেতৃত্বের ব্যাটনটা ঘোরাফেরা করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কথিত ‘পঞ্চপাণ্ডব’ গোষ্ঠীর হাতেই। ১০ বছর পর, এই বৃত্তের বাইরের কেউ পেলেন অধিনায়কের দায়িত্ব। মমিনুল বললেন, দলে থাকা সাবেক এক অধিনায়ক ও এক সহ-অধিনায়কের সঙ্গে নেতৃত্ব নিয়ে খুব বেশি আলাপ হয়নি তাঁর, ‘তাঁরা (মুশফিক ও মাহমুদ উল্লাহ) সব সময়ই আমাকে সহায়তা করে আসছেন, এই সহায়তা পাওয়াটা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। ওদের যতটুকু বলা দরকার ততটুকু বললেই যথেষ্ট। খুব বেশি কথা বলিনি, যতটুকু বলা প্রয়োজন ততটুকুই বলেছি।’ কেন্দ্রীয় বৃত্তের বাইরে থাকা মমিনুল হয়তো নিজস্ব একটা চিন্তার ছাপই রেখে যেতে চান, তাই পূর্বসূরিদের ভাবনাগুলো খুব একটা ঢোকাতে চাইছেন না নিজস্ব চিন্তায়।

গত বছর টেস্টে চার শতরান করা মমিনুলের ব্যাটকে? এমন প্রশ্নে এই বাঁহাতির উত্তর, ‘যখন নেতৃত্ব পেয়েছি তখন থেকে এই ব্যাপারটা কখনো অনুভব করিনি। অধিনায়কত্ব পাওয়ার আগে একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতাম, এখনো ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলব।’

ছোটখাটো গড়নের মমিনুলকে দেখে চট করে বোঝার উপায় নেই, এই মানুষটাই নিজের অভিষেক টেস্টে নিউজিল্যান্ডের একমাথা উঁচু সব বোলারকে শাসন করেছেন প্রায় দেড় দিন! অদম্য জেদই তাঁকে উচ্চতার বাধা ডিঙিয়ে ভর্তি হতে সাহায্য করেছে বিকেএসপিতে। সেই মমিনুল তো মনের জোরেই সব বাধা পার করার কথা বলবেন, ‘ব্যাপারটা যেভাবে মাথায় নেব, সেভাবেই খেলব। বিষয়টা হলো পুরোপুরি মানসিক। কোনো দলের বিপক্ষে খেললে আনুষঙ্গিক সব দিকেই লক্ষ রাখতে হবে। কোনদিকে কে কতটা শক্তিশালী, কার ব্যাটিং কেমন, কার বোলিং কেমন সব লক্ষ রাখতে হবে। আমার কাছে মনে হয় মাইন্ডসেটটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।’

টেস্ট ম্যাচে সেশন, দিন বদলের সঙ্গে বদলাবে ম্যাচের পরিস্থিতিও। অধিনায়ক হিসেবে মমিনুল আক্রমণাত্মক হবেন নাকি রক্ষণাত্মক হবেন, সেটা পরিস্থিতিই বলে দেবে; এমনটাই বললেন বিকেএসপির এই সাবেক ছাত্র, ‘এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। এটা নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর। কোন পরিস্থিতিতে আমি কোন সিদ্ধান্ত নেব সেটা তখনই বলা যাবে। রক্ষণাত্মক হয়েও আক্রমণ করা যায় আবার আক্রমণাত্মক হয়েও রক্ষণ করা যায়।’ তবে পরিস্থিতি যা-ই হোক, সব সময় জেতার চেষ্টাই করে যাবেন বলেও জানালেন মমিনুল, ‘আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব। আমরা যখনই যাদের বিপক্ষে খেলি না কেন, প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কেউ হারার জন্য মাঠে নামে না। সবাই সব সময় জেতার জন্যই মাঠে নামে। আমিও এভাবেই ভাবি। আমরা সব সময় ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামি।’

উইকেট দেখেছেন মমিনুল। তবে একাদশ নির্বাচন বা কৌশল, কোনো কিছু নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এখনো পৌঁছাননি, ‘খুব ভালো উইকেট। আমি যতটুকু দেখেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে ভালো উইকেট, ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো হবে। আমার কাছে মনে হয় স্পোর্টিং উইকেট হবে। কয়জন পেস বোলার খেলবে, এসব নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ অধিনায়ক হিসেবে এবারই প্রথম দল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় থাকবেন মমিনুলও। জাতীয় লিগে চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়ক হিসেবে পেস বোলারদের অনেক বেশি গুরুত্ব দিতেন মমিনুল, এমনটাই কদিন আগে জানিয়েছিলেন তাঁর সতীর্থ ইফরান। ভারত জোর দিচ্ছে পেস বোলিংয়ে, মমিনুলও যদি সেই পথেই হাঁটেন তাহলে সেটা হতে পারে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কদের সাহসী সিদ্ধান্তগুলোর একটি। কারণ আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান সব শেষ টেস্টে রাখেননি কোনো পেসারকেই। সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও মাহমুদ উল্লাহ একাদশে নিয়েছিলেন একজন পেসার ও একজন সিম বোলিং অলরাউন্ডার; দুটি টেস্টেই হেরেছিল বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশ দলে যদি অন্তত দুজন পেসারও দেখা যায়, সেটা হতে পারে পরিবর্তনের পথে প্রথম ধাপ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা