kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

রক্ষণেই লুকিয়ে আছে পয়েন্ট

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রক্ষণেই লুকিয়ে আছে পয়েন্ট

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এক দিন বাদেই আরেকটি কঠিন লড়াইয়ের মুখে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে শক্তিশালী ওমানের বিপক্ষে এই ম্যাচ নিয়ে জামাল ভূঁইয়াদের বড় কোনো স্বপ্ন নেই। তবে রক্ষণ ভালো হলে কিছু মিলতেও পারে।

এটা ঠিক, মাসকাটে গিয়ে বাংলাদেশ জয়ের স্বপ্ন দেখছে না। তবে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে গত তিন ম্যাচের ধারাবাহিক উন্নতি দেখলে এই লাল-সবুজের দল এখন হেলাফেলার নয়। কেউ হেলা করলে বিপদেও পড়তে পারে। যেমন র‌্যাংকিংয়ে বিপুলভাবে এগিয়ে থাকা ভারত প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে সুনীল ছেত্রীর হ্যাটট্রিকের চিন্তা করতে গিয়ে ম্যাচ হারতে বসেছিল। ওই ম্যাচের আগে অবশ্য বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া হুংকার দিয়েছিলেন ভারতকে হারানোর। এবার তা না দিলেও তাঁদের সঙ্গোপনে আছে এক পয়েন্টের স্বপ্ন। বাংলাদেশ গোলরক্ষক আশরাফুল রানার কথায় সেটা পরিষ্কার, ‘আমাদের গ্রুপটা কঠিন। ওমান ভারতকে হারিয়েছে, আবার কাতারের কাছে হেরেছে তারা। আফগানিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। অন্য ম্যাচের রেজাল্ট দিয়ে আসলে সামনের ম্যাচ বিচার করা যাবে না। নির্দিষ্ট দিনে কে কী রকম খেলছে, সেটাই বড় কথা। যে ভালো খেলবে, দিন শেষে ফল তার পক্ষেই যাবে। আমরা কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে অবশ্যই ওমানের সঙ্গে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে।’

ঢাকায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিপক্ষে বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলেছে। হারলেও তারা দুই-তিনটা দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। হার ঠেকানোর ভালো উপায় হলো, শুরুতে গোল না খাওয়া। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু মনে করেন, শুরুর চাপটা সামলে ফেললে খেলা সহজ হয়ে যাবে, ‘ওমানের সঙ্গে ম্যাচটা খুব কঠিন হবে। মাঠে আমাদের কী অ্যাপ্রোচ হবে, সেটা এরই মধ্যে কোচ খেলোয়াড়দের বুঝিয়ে দিয়েছেন ভালোভাবে। মূল কথা হলো, শুরুতে গোল খাওয়া যাবে না। গোল না খেয়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারলে খেলোয়াড়দের মধ্যে আস্তে আস্তে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার হবে।’ বাংলাদেশের খেলার স্টাইল হলো, গোলমুখ আটকে খেলা। গত দেড় বছরে জেমি ডের অধীনে রক্ষণাত্মক স্টাইলটা খুব ভালো আয়ত্তে নিয়েছেন জামাল ভূঁইয়া-ইয়াসিনরা। এর পরও তাঁদের ভুল হচ্ছে। মাসকাট ক্লাবের বিপক্ষে প্র্যাকিটস ম্যাচে দুটি পেনাল্টির সুযোগ করে দিয়েছে এই দল। তাই শুধু ডিফেন্ডারদের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, মনে করেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার, ‘রক্ষণে চার-পাঁচজন খেলে, তাদের দিকে তাকিয়ে থাকলে ম্যাচ শেষ হয়ে যাবে। আমাদের করতে হবে টিম ডিফেন্ডিং, বল হারালে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে রক্ষণে। এটাই ভালোভাবে করতে পারলে কঠিন ম্যাচও সহজ হয়ে যায়।’ প্র্যাকটিস ম্যাচের পর রক্ষণের ভুলগুলো নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে শক্তিশালী ওমানের বিপক্ষে এই ম্যাচ নিয়ে জামাল ভূঁইয়াদের বড় কোনো স্বপ্ন নেই। তবে রক্ষণ ভালো হলে কিছু মিলতেও পারে।

শুরুতে গোল খেলে চাপে পড়ে যাবে বাংলাদেশ। গোলহীন স্থিতাবস্থায় ম্যাচ যত গড়াবে ততই ওমান অল-আউট অ্যাটাকে উঠবে। মরিয়া হবে গোলের জন্য। তখনই কাউন্টারে সুযোগ আসতে পারে নাবিব নেওয়াজদের সামনে। এরই মধ্যে ওমানকে নিয়ে অনেক কাটাছেঁড়া হয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে। তাদের শক্তি এবং দুর্বল জায়গাগুলোও পরিষ্কার লাল-সবুজের খেলোয়াড়দের কাছে। ওমানের পরিবেশে মানিয়ে নিতেও তাদের এখন আর কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ওমান থেকে গোলরক্ষক আশরাফুল রানা বলছেন, ‘এখানকার আবহাওয়া আমাদের দেশের মতো, আমাদের জন্য কোনো সমস্যা হবে না। ওমান আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী দল। অনেকখানি কাতারের মতোই খেলে তারা। কাতারের বিপক্ষে খেলেছি। সেই ম্যাচে কিন্তু আমরা খুব খারাপ খেলিনি। আশা করি, এই ম্যাচেও সে রকম পারফরম্যান্স করতে পারব আমরা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা