kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

উইকেট নিয়ে দ্বিধায় দুই দলই

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উইকেট নিয়ে দ্বিধায় দুই দলই

ইন্দোর থেকে প্রতিনিধি : এই মাঠেই নিউজিল্যান্ডকে ৩২১ রানে হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে জেতার রেকর্ড আছে ভারতের, সেটা মাত্র বছর তিনেক আগের কথা। এখানেই দেশের মাটিতে বিরাট কোহলির প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি, ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে হয়ে যাওয়া একমাত্র টেস্ট ম্যাচ তাই অনেক কিছুরই সাক্ষী। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রথম পদচিহ্নও পড়বে মারাঠা সম্রাটের নামাঙ্কিত এই স্টেডিয়ামে। উইকেট নিয়ে দুই দলই তাই অনেকটা একই রকম অন্ধকারে। বছর তিনেক আগে এখানে দুই ইনিংসে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, তাই উইকেটের ধরন হতে পারে স্পিনবান্ধব। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত টেস্ট খেলছে ফাস্ট বোলিংয়ের ওপর জোর দিয়ে, স্বাগতিক দলের চাহিদা হতে পারে পেসবান্ধব উইকেটও। কাল অনুশীলনের প্রথম দিনে দুই দলের ক্রিকেটাররাই উইকেট দেখেছেন, তবে আজ ম্যাচের আগের দিন উইকেট দেখেই হয়তো রাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দুই দলের কর্তাব্যক্তিরা।

২০১৭ এবং ২০১৮—দুই মৌসুমেরই রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল হয়েছে ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে। ২০১৭ সালে চতুর্থ ইনিংসে মুম্বাইর ৩১২ রান তাড়া করে জিতেছিল গুজরাত আর পরের বছর বিদর্ভের সামনে শেষ ইনিংসে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৩২ রান, যেটা তারা তুলে নিয়েছিল মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে। দুটি ফাইনালেই ব্যাটসম্যান এবং বোলার, সবাই নিজেদের সুযোগটা পেয়েছেন। মাঠের কিউরেটর সামান্দার সিং চৌহানও মনে করেন, এখানে দুই দলের জন্য সমান সুযোগই থাকবে, ‘লাল মাটির উইকেটে সুন্দর বাউন্স থাকে। এখানে বোলাররা সুবিধা পাবে আর ব্যাটসম্যানরা যদি নিজেদের সামর্থ্যটা কাজে লাগায় তাহলে রান পাবে। স্ট্রোক খেলার জন্য এই উইকেট খুব ভালো। খেলা যত গড়াবে, তত বলও ঘুরবে। বেশ দারুণ স্পোর্টিং উইকেট হবে যেখানে সবার জন্যই কিছু না কিছু থাকবে।’ দুই দলেই একাদশ  ভাবনায় তাই ইন্দোরের উইকেট নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্লেষণ চলার সম্ভাবনা।

বছর পাঁচেক পর টেস্ট দলে বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তন আল আমিন হোসেনের। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে বছর তিনেক পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা আল আমিন হোসেনের, মাঝের সময়টায় চন্দিকা হাতুরাসিংহের রোষানলে। টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে ভারতের বিপক্ষে দারুণ বল করেছেন আল আমিন, অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ তো মনে করেন আল আমিন দেশের সেরা টি-টোয়েন্টি বোলার। বাংলাদেশে দল নির্বাচনে যেমনটা হয়, আল আমিনের সাম্প্রতিক সাফল্য আর মুস্তাফিজুর রহমানের ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা ব্যর্থতায় ইন্দোরে হয়তো প্রত্যাবর্তন হয়েও যেতে পারে আল আমিনের। আফগানিস্তানের সঙ্গে ঘরের মাটিতে কোনো পেসার না খেলিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন সে সময়কার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, যদিও জবাবে তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন পেসারদের ভগ্নদশার পরিসংখ্যানও। তবে ইন্দোরে একাধিক পেসারকে বাংলাদেশ দলে দেখতে পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা।

ভারতীয় দলও দেশের বাইরে স্পিননির্ভরতা কমাতে দেশেও পেসবান্ধব উইকেটে খেলতে চাইছে বেশ কয়েক দিন ধরেই। নাগপুরে তো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইচ্ছা করেই সবুজ উইকেটে খেলেছে ভারত, কারণ কয়েক দিন পরই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। নিজ দেশেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্রেফ স্পিনে নয়, পেসেও সাফল্য পেয়েছে ভারত। সিরিজে প্রোটিয়াদের ৬০ উইকেটের ভেতর স্পিনারদের শিকার ৩৪ আর পেসারদের ২৬, অর্থাৎ কাছাকাছিই আছেন স্পিনার ও পেসাররা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দক্ষিণ আফ্রিকার তুলনায় স্পিনটা ভালো খেলেন, এ রকম একটা ধারণা থেকে ভারতীয় দলের একটি অংশেরও মত হচ্ছে পেসসহায়ক উইকেট বানানোর। দলসংশ্লিষ্টদের একজনের মন্তব্য, ‘ভারতীয় দল এখন চেষ্টা করছে সব বিভাগেই ভালো করার। তারা এমন একটা দল হয়ে উঠতে চাইছে, যারা যেকোনো উইকেটেই জিততে পারে।’

দেশের মাটিতে খেলে বাংলাদেশ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে, সেটা স্পিন বোলিংয়ের জাদুতেই। ভারতের বিপক্ষে তো আর এই মন্ত্র চলবে না! তাই মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের একজনকে হয়তো বসতেই হবে ইন্দোরে, তাতে যদি অপেক্ষার অবসান হয়ে আবু জায়েদ রাহির। হিন্দিতে ‘রাহি’ শব্দের মানে হচ্ছে যাত্রী। আবু জায়েদ রাহি যেন নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখেই যাত্রীর মতো ছুটে চলছেন এক গন্তব্য থেকে অন্য গন্তব্যে। গোটা বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে ছিলেন, একটা ম্যাচে তাঁকে খেলানোর প্রস্তাব পর্যন্ত ওঠেনি দল নির্বাচনী সভায়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলেও ছিল তাঁর নাম, ভাগ্যিস দলে জায়গা না পাওয়ায় তাঁকে সেই লজ্জার অংশ হতে হয়নি। ভারত সফরে এসে কাল নেটে খুব বোলিং করলেন, তবে ইন্দোরই রাহির গন্তব্য কি না, সেটা বলা মুশকিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা