kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

কিং কোহলি

তবুও বাংলাদেশকে সমীহ ভারতের

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তবুও বাংলাদেশকে সমীহ ভারতের

নাগপুরের প্রেসিডেন্টস বক্সে স্থানীয় ক্রিকেট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নাকি দারুণ প্রশংসা পেয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। তাঁর ওপর এই পুষ্পবৃষ্টির কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স। বিসিবি সভাপতির কাছ থেকে জানা যে ভারতীয় সংগঠকরা দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়েও বেশি নম্বর দিয়েছেন বাংলাদেশকে! গত মাসেই ভারত সফর করে যাওয়া প্রোটিয়ারা জিতেছে একটা টি-টোয়েন্টি, আর তিন টেস্টের সবটিতেই হেরেছে শোচনীয়ভাবে। বলা যায় বাংলাদেশ বরং প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারিয়ে এবং তৃতীয়টিতে হারিয়ে দেওয়ার জায়গায় গিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটই খেলেছে সাদা বলে। তাই তো লাল বলের ক্রিকেট শুরুর আগেও বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্ক ভাবটা থেকে যাচ্ছে ভারতীয় দলে। কাল সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের সহ-অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে বলে গেলেন তেমনটাই, যদিও এর ভেতর কতটা সত্যি আর কতটা শিষ্টাচার সেটা তিনিই ভালো জানেন!

দূরের এবং কাছের, পারফরম্যান্স দেখলে রাহানের কথার পুরোটাই ভদ্রলোকের খেলার শিষ্টাচার বলে মনে হতে পারে। যে দলটা নিজের দেশে আফগানিস্তানের কাছে টেস্টে হেরে এসেছে, তারা টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর দলের বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলতে এসে পয়েন্ট নিয়ে বেরিয়ে যাবে, তাও আবার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে! বক্সিং হলে বলা যেত এ যেন ফেদারওয়েটের সঙ্গে সুপার হেভিওয়েটের লড়াই, যেটা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের অনুমতিই পেত না। খেলাটা ক্রিকেট বলেই বিস্তর ফারাকের পরও ম্যাচটা মাঠে গড়াচ্ছে এবং সে জন্যই সামান্য হলেও সুযোগ থাকছে প্রতিপক্ষের, রাহানে অবশ্য ততখানিও দিতে চাইছেন না, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা এখানে খেলে গেছে, সেটা এখন অতীত। আমরা বাংলাদেশকে সম্মান করি, তারা অনেক ভালো দল। তাদের আমরা সমীহ করি। তবে প্রতিপক্ষকে নয়, আমরা নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়েই বেশি ভাবছি। নিজেদের খেলার উন্নতিরই চেষ্টা করছি।’ সদ্যঃসমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদাহরণ টেনেই রাহানে বললেন, ‘কেউ ভাবেনি যে তারা দিল্লিতে জিতে সিরিজে এগিয়ে থাকবে। বাংলাদেশ অনেক দিন ধরেই ভালো খেলছে, বেশ কিছু বড় দলকে তারা নিজেদের মাটিতে হারিয়েছে। তারা একটা দল হিসেবে খেলে।’ বাংলাদেশ উপমহাদেশেরই দল হওয়াতে দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়েও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রতিপক্ষ হবে কি না—এমন প্রশ্নে সহ-অধিনায়কের উত্তর, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজটায় দল হিসেবে আমরা খুবই ভালো করেছি। তবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা বর্তমানেই পা রাখছি আর কোনো প্রতিপক্ষকেই খাটো করে দেখছি না।’

দক্ষিণ আফ্রিকা এখানে খেলে গেছে, সেটা এখন অতীত। আমরা বাংলাদেশকে সম্মান করি, তারা অনেক ভালো দল। তাদের আমরা সমীহ করি। তবে প্রতিপক্ষকে নয়, আমরা নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়েই বেশি ভাবছি।

আজিঙ্কা রাহানে

একটা দল কেন র‌্যাংকিংয়ের মগডালে আর অন্য দলটা কেন একেবারে তলায়, তার হাজারটা কারণ নিশ্চয়ই আছে। তবে ইতিহাসের অংশটুকু বাদ দিয়ে বর্তমানে এলে সবচেয়ে বড় ফারাক নিঃসন্দেহে প্রস্তুতি আর পেশাদারির। টি-টোয়েন্টির ক্রিকেটাররা যখন ব্যস্ত ছিলেন মাঠে, তখন ভারতের টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা চলে গিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুতে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে। সেখানেই চলেছে নিবিড় অনুশীলন, ইন্দোর টেস্টকে সামনে রেখে প্রথাগত লাল এসজি বলে তো বটেই সেই সঙ্গে কলকাতায় প্রথম দিন-রাতের টেস্টের জন্য গোলাপি বলেও অনুশীলন সেরেছেন টেস্টের ক্রিকেটাররা। ব্যাটিংয়ের শুদ্ধতার প্রতীক যাঁকে মনে করা হয়, সেই রাহুল দ্রাবিড় ছিলেন একাডেমিতে। তাঁর কাছ থেকেই নিজেদের খেলার ধরন সম্পর্কে নানা টোটকা পেয়েছেন রাহানে-চেতেশ্বর পূজারারা। অন্যদিকে বাংলাদেশের টেস্ট দলের প্রস্তুতির ফিরিস্তিটা জেনে নেওয়া যাক। টি-টোয়েন্টির দলে যাঁরা ছিলেন না তাঁরা দেশে একটা অথবা দুটো চার দিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় লিগে। শেষ টি-টোয়েন্টির দিনে, নাগপুর এসেছেন টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা। সেখানেই তাঁদের দেখেছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। শুধু তা-ই নয়, ইন্দোরে প্রথম টেস্ট দিয়েই ‘পরীক্ষামূলক’ভাবে নেইল ম্যাকেঞ্জিকে টেস্টেও ব্যাটিং পরামর্শকের ভূমিকায় দেখতে চাইছে বিসিবি। কাল নেটে অনেকেরই ব্যাটিং কাছ থেকে দাঁড়িয়ে দেখেছেন সাবেক এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান।

ইন্দোরে পা রাখার আগে এবারের ভারত সফরে যে দুটি শহরে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে, সেই রাজকোট আর নাগপুর হচ্ছে যথাক্রমে সৌরাষ্ট্র ও বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সদর দপ্তর; যে দুটো দল বর্তমানে ভারতের প্রথম শ্রেণির আসর রনজি ট্রফির চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ। দুটি জায়গাতেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্রতি স্থানীয় ক্রিকেট কর্তাদের যে শ্রদ্ধা, পরিকল্পনা এবং অনুশীলনের জন্য অবকাঠামোর বন্দোবস্ত, সেটা দেখে মনে হচ্ছে রাহানে যে অন্তত মুখে সমীহ করার কথা বলছেন সেটাই অনেক কিছু। কারণ এত কিছুর পরও এই দুটি রাজ্য থেকে ফাইনালে খেলা ২২ জন ক্রিকেটারের ভেতর থেকে ভারতের জাতীয় দলে সুযোগ হয়েছে মাত্র একজনের, তিনি উমেশ যাদব। বোঝাই যাচ্ছে প্রতিযোগিতার পাল্লাটা কতখানি! তাদের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি যদি হয় নামকাওয়াস্তে জাতীয় লিগের একটা বা দুটো ম্যাচ এবং নাগপুর আর ইন্দোর মিলিয়ে ঘণ্টা তিনেকের অনুশীলন; তাহলে এই দুঃসাহসের জন্যই বোধ হয় রাহানে সমীহ করছেন বাংলাদেশকে।

টেস্ট সিরিজ শুরুর প্রেক্ষাপটে আপাতত প্রতিপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্ত মর্যাদাই আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি। নয়তো নিজেদের টেস্ট রেকর্ড আর প্রস্তুতির অপ্রতুলতা বিবেচনায় ভারত সফরের শেষ ভাগটা আশঙ্কার ঘন মেঘ হয়েই উড়ছে বাংলাদেশ দলের ভাগ্যাকাশে। সে মেঘ সরিয়ে মাঝেমধ্যেই উঁকি দিচ্ছে পুরনো প্রশ্নটি—ভারতে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে কেন একটি প্রস্তুতি ম্যাচ রাখা হলো না? দ্বিপক্ষীয় চুক্তির এ গলদটার দায় এড়াতে পারে না বিসিবিও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা