kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

সামর্থ্যে বিশ্বাস ফিরেছে তাঁদের

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সামর্থ্যে বিশ্বাস ফিরেছে তাঁদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভারতের সঙ্গে ড্র ম্যাচ তাঁদের আফসোসে ভাসানোর পাশাপাশি দিয়েছিল ‘ভালো খেলা’র স্বীকৃতি। পরশু মাসকাট ক্লাবের বিপক্ষে জয়ে লাল-সবুজের ফুটবলারদের মনে ফিরেছে বিশ্বাস।

আগামী ১৪ নভেম্বর তাঁদের এই আত্মবিশ্বাসেরই কঠিন পরীক্ষা নেবে ওমান। তার আগে বাংলাদেশ হারিয়েছে ওমান প্রিমিয়ার লিগের সাত নম্বরে থাকা দলকে। পরশু মাসকাট ক্লাবের বিপক্ষে ৩-১ গোলের এই জয়কে জেমি ডে দেখছেন ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ম্যাচ হিসেবে, ‘ছেলেরা ভালো খেলেছে, ম্যাচ জিতেছে। স্বাভাবিকভাবে এই জয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। তবে মাসকাট ক্লাব আর ওমানকে এক করে দেখা যাবে না। প্র্যাকটিস ম্যাচটায় আমি দেখতে চেয়েছি, ফুটবলাররা কে কী অবস্থায় আছে। এখন আমি তাদের নিয়ে ওমান ম্যাচের জন্য ট্যাকটিক্যাল কাজ করব।’ একমাত্র টুটুল হোসেন এই ম্যাচে খেলেছেন পুরো ৯০ মিনিট। ইনজুরি ফেরতা এই ডিফেন্ডারকে পুরোটা সময় খেলিয়ে দেখা হয়েছে, তিনি কতটা প্রস্তুত ওমান ম্যাচের জন্য। এ ছাড়া পরখ করে দেখা হয়েছে নতুন ফরোয়ার্ড রাকিবকেও। দুই উইংয়ে খেলা রহমতগঞ্জের তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট খুব আশাবাদী। বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচের সহকারী মাসুদ পারভেজ কায়সার বলেছেন, ‘উইথ দ্য বলে রাকিব চমৎকার খেলে, গতিও বেশি। তবে বল হারালে টিম ডিফেন্ডিং কিভাবে করতে হয়, দলের সঙ্গে রেখে সেটাই শেখানো হচ্ছে তাকে।’ জেমির দল ৪-১-৪-১ ফরমেশনে খেললেও বল হারালে সবাই ডিফেন্ডার হয়ে যায়। খেলতে হয় নিচে নেমে। দলের পুরনো খেলোয়াড়দের সেটা বুঝিয়ে দিতে হয় না।

রক্ষণ-আক্রমণের খেলাটা বাংলাদেশ ভালোভাবে আয়ত্ত করে ফেলেছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের তিন ম্যাচেই ফুটবলাররা এই কৌশলে ভালো লড়াই করেছেন। কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করে চমকে দিয়েছেন এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারকেও। এরপর ভারতের সঙ্গে জেতা ম্যাচ ড্রয়ের পর বাড়ে তাঁদের আত্মবিশ্বাস। সঙ্গে পরশু পাওয়া এই জয়ে খেলোয়াড়রা দারুণ উদ্দীপ্ত। সামনের ম্যাচটাকে তাই ধারাবাহিকতা রক্ষার চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ কায়সার, ‘তারা লড়াই করেছে, ভালো খেলছে। এই ধারাটা বজায় রাখাটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ এই দলের। কারণ তাদেরকে ঘিরে এরই মধ্যে মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হতে শুরু করেছে।’ প্রত্যাশার জায়গা থেকে তাঁদের যেন বড় পতন না হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণেই কিনা জেমি ডে আগেভাগে বড় স্বপ্ন দেখাতে চাইছেন না। ৪০ বছর বয়সী এই কোচ মাসকাট ক্লাবের সঙ্গে জয়কেও খুব বড় করে দেখতে চান না, ‘এই জয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। কারণ এটা শেষ পর্যন্ত একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ। এই দলে সম্ভবত ওমান জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড় নেই। নিশ্চিতভাবে ওমানের বিপক্ষে লড়াইটা আরো কঠিন হবে। তারা দ্রুতগতির ফুটবল খেলে। আমাদের রক্ষণ সংগঠন আরো ভালো করতে হবে, লাইন বজায় রেখে খেলতে হবে।’ প্র্যাকটিস ম্যাচ জিতলেও দুটি পেনাল্টি পেয়েছিল মাসকাট ক্লাব। একটি বিশ্বনাথের ফাউল ও আরেকটি টুটুল হোসেনের হাতে বল লাগায়। কোচের চোখে এই দুটি মারাত্মক ভুল। স্বাভাবিকভাবে ট্রেনিংয়ে এসবই হয়ে যাচ্ছে বড় ইস্যু। দুই বক্সে ভুল কমানোর কাজ করছেন জেমি, ‘একদিকে ভালো রক্ষণ সংগঠন নিশ্চিত করতে হবে। বক্সে অন্তত ফাউল করা যাবে না। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ বক্সে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। নইলে ম্যাচের ফল কখনো পক্ষে আনা যাবে না।’

ম্যাচের ফল নির্ভর করে গোলের ওপর, স্ট্রাইকারদের দক্ষতার ওপর। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো তিন গোল পেয়েছে এক ম্যাচে। ভারত ম্যাচে দুটি দুর্দান্ত সুযোগ পেয়ে গোলহীন থাকা নাবিব নেওয়াজের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেছিল। দুবারই দুর্দান্ত সেভ করে প্রতিপক্ষ। ঘরোয়া লিগে দারুণ খেললেও জাতীয় দলে ফিরছিল না তাঁর গোলভাগ্য। তাই প্র্যাকটিস ম্যাচের গোলটি আবাহনীর এই ফরোয়ার্ডকে উজ্জীবিত করছে নতুন করে। এ ছাড়া বিপলু ও তৌহিদুল আলম করেছেন একটি করে গোল। সুবাদে পুরো দলই দারুণ উজ্জীবিত। বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব চলাকালীন এটাই বাংলাদেশের বড় জয়। এত দিন তারা লড়াই করেছে, সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছে, কিন্তু জয়ের মুখ দেখেনি। তাতে খেলোয়াড়দের মনে সংশয় তৈরি হয়েছিল নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে। ভারত ম্যাচের পর সংশয়ের জায়গায় ফিরেছে বিশ্বাস। জামাল-ইয়াসিনরা বুঝতে পারছেন, তাঁদের ভালো খেলার সামর্থ্য আছে। আছে বড় দলকে চমকে দেওয়ার ক্ষমতাও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা