kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

মিশন নাগপুর

রোহিতকে থামানোর অস্ত্র চাই

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোহিতকে থামানোর অস্ত্র চাই

শুক্রবার যে মাঠে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের চূড়ান্ত লড়াই, সেই জামথার বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ক্রিকেট স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে; ন্যাশনাল হাইওয়ে ধরে গাড়ি করে যদি আরো আধঘণ্টা যাওয়া যায়, তাহলেই পড়বে পেঞ্চ টাইগার রিজার্ভ। ভারতে বাঘেদের অন্যতম বড় অভয়ারণ্য বা সংরক্ষণ অঞ্চল। সহজ করে বললে, বিখ্যাত সাহিত্যিক রুডিয়ার্ড কিপলিং তাঁর ‘দ্য জাঙ্গল বুক’ বইয়ে যে জঙ্গলের কথা লিখেছেন, এটাই সেই মোগলি, বাঘিরা আর শের খানের আস্তানা। নাগপুরে কাল দুপুরে জনা পনেরো বাঘের আগমন হলো অনেকটাই নিরুত্তাপভাবে। সেটা অবশ্য অনুমিত ভাবেই। দিল্লিতে জয়ের পর রাজকোটে বাংলাদেশ দল পা রেখেছিল মাথা উঁচু করে। রাজকোটে রোহিত শর্মার ব্যাটের সামনে উড়ে যাওয়ার পর মানসিকভাবে খানিকটা পিছিয়েই থাকার কথা মাহমুদ উল্লাহর সৈনিকদের। যদিও অধিনায়ক বলছেন, নতুন শহরে নতুন দিনে সব কিছু শুরু হবে একদম প্রথম থেকেই।

নাগপুরের কমলালেবু বিখ্যাত। রোহিত শর্মার দিকে রাজকোটে বাংলাদেশের বোলাররা যেসব বল ছুড়েছিলেন, সবগুলোই রসালো কমলালেবুর মতোই গোগ্রাসে গিলে রান করেছেন রোহিত। বাংলাদেশের সেরা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে তো আইপিএলে নেটে খেলে খেলে মুখস্থ করে ফেলেছেন রোহিত, আর তাঁর দিনে শফিউল ইসলাম কিংবা আল-আমিন হোসেনের সাধ্য কি আটকে রাখার! কাল রাজকোট থেকে নাগপুরের চার্টার্ড ফ্লাইটে ওঠার আগে প্রথম ম্যাচে রোহিতের উইকেট নেওয়া শফিউলও তাই বললেন, ‘রোহিত শর্মার ভালো একটি দিন গেছে। একজন খেলোয়াড়ের যখন ভালো দিন যায়, তখন মানসিকভাবে আসলে আমাদের দুর্বল হয়ে যাওয়ার কিছু নাই। (আমাদের) কারো এমন দিন গেলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব। আমরা সবাই শক্ত আছি, এখনো একটা সুযোগ আছে। আমরা খুব ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াব।’

দিল্লির কোটলায় কন্ডিশনটা হয়ে গিয়েছিল অনেকটাই মিরপুরের কাছাকাছি। রাজকোটে উইকেটের সমান বাউন্স আর দ্রুতগতির আউটফিল্ডের সুবিধাটা নিতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, বরং মাঠ বড় হওয়ায় অনেকেই ধরা পড়েছেন বাউন্ডারিতে। নাগপুরের ভিসিএ স্টেডিয়ামও আকারে এবং চরিত্রে অনেকটাই রাজকোটের মতো। আইপিএলে ধারাভাষ্য দিতে এসে শেন ওয়ার্ন মজা করে বলেছিলেন, ‘এই মাঠে যেটা ক্যাচ, সেটা চেন্নাই বা বেঙ্গালুরুতে হলে বল মাঠের বাইরে কোনো ট্যাক্সিতে পাওয়া যেত।’ রাজকোট ম্যাচের পর ভারতের ওয়াশিংটন সুন্দরও একই হুমকি দিয়ে গেছেন, ‘উইকেটে ভালো বাউন্স ছিল আর পেসও ছিল। নাগপুরেও আমরা এ রকমই উইকেট আশা করছি।’

তেমনটাই যদিই হয়, তাহলে খুব বেশি কিছু কি করার আছে বাংলাদেশের পেসারত্রয়ীর? লম্বা সময় পর জাতীয় দলে ফেরা শফিউল মনে করেন; যেখানেই খেলা হোক না কেন, শুরুতে উইকেট এনে দেওয়ার কাজটা পেসারদেরই, ‘আমরা যে তিনজন পেসার আছি, আমরা সাধারণত মূল ওভারগুলোতে, পাওয়ার প্লেতে অথবা শেষ চার-পাঁচ ওভারে বোলিং করি। পেস বোলাররা যদি ভালো করতে পারি, সেটা প্রথম ম্যাচে করতে পেরেছি, ভালো একটা শুরু করতে পারি, ভালোভাবে শেষ করতে পারি, ওদের আটকে দিতে পারি, তাহলে ব্যাটসম্যানদের জন্য সুবিধা হবে। জেতার সুযোগ থাকবে।’

ভারত সফরে আসা বিদেশি দলগুলোর অধিনায়কেরা তাঁদের মুগ্ধতার কথা শুনিয়েছেন নাগপুরের এই স্টেডিয়াম নিয়ে। এই মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স বাংলাদেশের স্পিন বোলিং উপদেষ্টা ড্যানিয়েল ভেট্টোরির দেশের মিচেল স্যান্টনারের। ভারতের বিপক্ষেই এই বাঁহাতি নিয়েছিলেন ১০ রানে ৪ উইকেট। সাকিব না থাকায় বাংলাদেশ দলের প্রথম দুটো ম্যাচের একাদশে ছিল না কোনো বাঁহাতি স্পিনার। পেসারদের ব্যর্থতার পর কি তাইজুল ইসলাম কিংবা আরাফাত সানি, কারো কি কপাল খুলবে শেষ টি-টোয়েন্টিতে?

নতুন শহরে এসে নতুন কৌশল ভেবে দেখতে পারে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ  উইকেট যদি রাজকোটের কার্বন কপি হয়, তাহলে এই বোলিং আক্রমণ দিয়ে যে খুব বেশি কিছু করা যাবে না, এটা নিশ্চিত। শেষ ম্যাচে তাই কোনো ঝুঁকি কি নেবেন মাহমুদ!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা