kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কোনো সমস্যা দেখছেন না মাহমুদ

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোনো সমস্যা দেখছেন না মাহমুদ

রাজকোট থেকে প্রতিনিধি : দিল্লিতে স্বপ্নের জয়ের পর রাজকোটে সিরিজ জেতার সম্ভাবনাও ঝিলিক দিয়েছিল। তবে এক রোহিত শর্মাই যেন স্বপ্নের ঘোল ভাঙা এক হারই উপহার দিলেন বাংলাদেশকে। যে হার থেকে আবার উঁকি দিল নানাবিধ সমস্যাও। কখনো কখনো সমস্যার অন্ত নেই বলেও মনে হতে পারে যে কারো। ওপেনার লিটন কুমার দাস যথারীতি আগের মতোই আছেন। কালেভদ্রেই তাঁর ব্যাটে বড় ইনিংসের দেখা মিলছে। ভালো খেলতে খেলতে উইকেট বিলিয়ে আসার রোগমুক্ত এখনো তিনি নন। লিটনের ব্যাটিংয়ের মতো কম দুশ্চিন্তার নয় মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিংও। উইকেট পাচ্ছেন না এই বাঁহাতি পেসার। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দল আবার ডট বল দিয়ে বসেছে ৩৮টি। হারে আবার নতুন করে চিহ্নিত হওয়া এসব সমস্যাকে তবু সমস্যা মনে করছেন না বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ। হতে পারে বাইরের সমালোচনায় দলকে এখনই আক্রান্ত হতে দিতে চান না। সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা তো এখনো আছেই। নাগপুরে শেষ ম্যাচের আগে হয়তো সে জন্যই ঢাল হলেন সতীর্থদের।

লিটন ও নাঈম শেখের ৬০ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই। এই দুজন মিলে ৬০ রান

যোগ করেছেন ঠিকই, কিন্তু বাউন্ডারি স্কোরিং শটের বাইরে প্রান্ত বদল করেছেন কমই। যদিও সেটিকে সমস্যা বলে মানতে চাইলেন না মাহমুদ, ‘রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে কোনো সমস্যা নেই, ঠিকই আছে। আমরা যেগুলো দুই রান নেওয়ার ছিল, সবগুলোই নিয়েছি। বোঝাপড়াতেও কোনো সমস্যা নেই।’ ভারতের বিপক্ষে ৩৮টা ডট বল দেওয়া নিয়েও খুব একটা উদ্বিগ্ন মনে হলো না তাঁকে, ‘একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বা এরকমটা শুনেছি যেকোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৪০টার বেশি ডট বল দিলে জেতার সম্ভাবনা কমে আসে। আমরা ৩৮টা দিয়েছি, সেই তুলনায় কমই।’

তিনি বরং অন্য সমস্যায় বেশি মনোযোগী হতে চান। মাহমুদের দৃষ্টিতে ব্যাটসম্যানদের ইনিংস শুরু করেও শেষ করে আসতে না পারারই ফল ভোগ করেছে টাইগাররা, ‘আমাদের ইনিংসে চারজন ত্রিশের কাছাকাছি রান করেও কেউ শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে বড় ইনিংস খেলে আসতে পারেনি। একজন সেট ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত থাকা উচিত ছিল।’ অধিনায়কের মনে হয়েছে শেষের ৫ ওভারেও কাঙ্ক্ষিত হারে রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। যুযবেন্দ্র চাহাল দিল্লিতেও ভুগিয়েছিলেন, কালও ভোগালেন। চাহালকে খেলার যে পরিকল্পনা বাংলাদেশ করেছিল, তাতে সাফল্য আসেনি বরং চাহাল সফল শতভাগ। মাহমুদ বলছেন, ‘চাহালই ওদের স্ট্রাইক বোলার। ওদের যখনই উইকেটের দরকার হয়েছে ওরা চাহালকে বোলিংয়ে এনেছে। চাহালকে সামলে খেলা নয়, ওর বিপক্ষে স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার পরিকল্পনা ছিল। মুশফিক যেভাবে আউট হয়েছে, তাতে আমি ওর কোনো দোষ দেখি না। ওভাবে খেলেই সে রান করেছে।’ সিরিজে ১-১ সমতা। নাগপুরে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিই তাই অলিখিত ফাইনাল। আবারও একটি ‘ফাইনাল’ এবং ভারত, এই সমীকরণ যখন সামনে তখন তো পেছনের কথা ফিরে ফিরে আসবেই। মাহমুদ সেসব নিয়ে এখনই ভাবতে নারাজ, ‘যা হয়ে গেছে তা তো হয়ে গেছেই। ম্যাচটা নতুন একটা তারিখে শুরু হবে, আমাদের জন্য নতুন সুযোগ। আমি আগেও বলেছি, আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই, কখনো ছিলও না। তাই হারাবারও কিছু নেই।’ রোহিতের এমন আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের দিনে আসলে প্রতিপক্ষের যে কিছু করার নেই, ভারতীয় দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ওয়াশিংটন সুন্দর বলে গেলেন সেই কথাটাই, ‘রোহিত যেদিন এভাবে খেলে, তাতে আসলে প্রতিপক্ষের কিছু করার থাকে না। আমি বোলার হিসেবে বুঝতে পারছি বাংলাদেশ অনেক ভালো বোলিং করেছে। কিন্তু কিছু করার ছিল না রোহিতের সামনে।’ এই অফস্পিনার মনে করেন, ‘দিল্লির উইকেটটা বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে, রাজকোটের উইকেটটা আমাদের। নাগপুরের মাঠও এ রকমই হবে, আমাদেরই সহায়তা করবে। ওই মাঠটাও একই রকম, মাপজোখও এরকমই। সেখানেও আমাদেরই ভালো করার সুযোগ বেশি।’ এমনটাই যদি হয়, তাহলে নাগপুরের শেষ লড়াইতে বাংলাদেশ নামবে খানিকটা পিছিয়ে থেকেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা