kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভাগ্যের ছোঁয়ার পরও হতাশ করল ব্যাটিং

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ভাগ্যের ছোঁয়ার পরও হতাশ করল ব্যাটিং

বাংলাদেশের সাধারণ ক্রিকেটভক্তদের একটা বড় অংশ মনে করে, ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ হলেই আম্পায়ারদের একটা প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকে ভারতের দিকে। এবং সেটা হয় আইসিসির মদদে! এমন আষাঢ়ে গল্পে বিশ্বাস করাদের তালিকায় পঞ্চম শ্রেণি ফেল থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি, সব রকম মানুষই আছেন। রাজকোটে সেই সব মানুষের এই ‘বিশ্বাস’ কিছুটা হলেও দুর্বল হলো। যুযবেন্দ্র চাহালের বলে লিটন কুমার দাস স্টাম্পড হওয়ার পর হাঁটা ধরেছেন, তখন তাঁকে ফিরিয়ে আনা হলো।

কারণ ঋষভ পান্ট বলটা গ্লাভসবন্দি করেছিলেন উইকেটের সামনে। সামান্য হেরফেরের জন্যই চাহাল উইকেট তো পেলেনই না, বলটা হয়ে গেল ‘নো’ এবং পরের বলে ফ্রি হিটে খেলেন চার।

বিড়ালের নাকি ৯টা জীবন থাকে। সত্যি-মিথ্যা জানা নেই, তবে লিটন কুমার দাস কাল যেভাবে দুটো জীবন পেলেন, তাতে ইংরেজি প্রবাদটাই মনে এলো। প্রথমে পান্টের স্টাম্পিং গলদ। এরপর তিনজন ফিল্ডারের ছুটে আসার গোলমালে রোহিত শর্মার হাত থেকে লিটনের ক্যাচ পড়ে যাওয়া। মাত্র ২০ বলের ইনিংসে এভাবে দুবার জীবন পাওয়ার পর ২১তম বলে যেভাবে রানআউট হয়েছেন লিটন, তাতে স্কুল দলের ক্রিকেটার হলে ড্রিল স্যার লিটনকে রোদের ভেতর মাঠে পাঁচ চক্কর দৌড়াতে বলতেন। সেই চাহালের গুগলি খেলতে গিয়ে বল না দেখে দৌড় দিয়েছেন, দেখেনইনি নন-স্ট্রাইকিং এন্ডের সঙ্গী নাঈম শেখের সংকেতও।

অথচ এত কিছুর পরও বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম ৫টা ওভার ছিল দারুণ আশা জাগানিয়া। বিশেষ করে ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারটায়, মোহাম্মদ খলিলের প্রথম তিন বলেই টানা তিন বাউন্ডারি নাঈমের।

আগের ম্যাচের ১৯তম ওভারটা করা খলিলের শেষ ৪ বলে ৪ বাউন্ডারি মেরেছিলেন মুশফিকুর রহিম। কাল নাঈম মারলেন শুরুর ৩ বলে, অর্থাৎ খলিল বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের কাছে টানা ৭ বলে হজম করেছেন চারের মার। পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের রান বিনা উইকেটে ৫৪, দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানই পেয়ে গেছেন শুরুর ছন্দটা। ওদিকে ভারতের বোলারদের বোলিং ফিগার হয়েছে স্থূলকায়, সেই সঙ্গে বাজে ফিল্ডিং আর পান্টের অমন ভুল। সব মিলিয়ে মঞ্চটা তৈরি বড় সংগ্রহের জন্য। আক্ষেপের শুরুটাও এখান থেকেই।

আগের দিন মাহমুদ উল্লাহ বলেছিলেন, এই মাঠে গড় রান হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০। শুরুর পর তো সেটা মনে হচ্ছিল খুবই সম্ভব। এখানে ভারত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১ রান তাড়া করেও জিতেছে, আবার নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাট করে ১৯৬ রান করে ভারতকে আটকে রেখেছে ১৫৬ রানে। অর্থাৎ এই ভেন্যুর প্রথম দুটো ম্যাচ শেষে সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৭ উইকেটে ১৫৬ রান। কাল টসে হেরে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ করেছে তার চেয়েও ৩ রান কম, ৬ উইকেটে ১৫৩। মাঠের চারধারে নির্দিষ্ট দূরত্বে আতশবাজি তৈরি রাখা ছিল, ছক্কা হলে বা উইকেট পড়লেই আলোর রকেট ছুটবে আকাশপানে। বাংলাদেশের সাফল্যে মাত্র একবারই বাজি ফুটল। ক্রুনাল পাণ্ডের করা ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সৌম্য সরকারের ব্যাটে এসেছিল বাংলাদেশের ইনিংসের একমাত্র ছক্কা! রান উৎসবের প্রতিশ্রুতি দেওয়া উইকেটে যে সংখ্যাটা একদমই বেমানান।

ভালো শুরুর পরও বাংলাদেশের ইনিংসটা যে প্রত্যাশিত গন্তব্যে পৌঁছতে পারল না, তার বেশির ভাগ দায় লিটনের। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯ রানে জীবন পেয়ে রোহিত করেছিলেন ১০৫ রান, আর রোহিতের হাতে জীবন পেয়ে লিটন করলেন ২৯! কিছুটা দায় নিতে হবে মুশফিকুর রহিমকেও। স্লগ সুইপ তাঁর প্রিয় শট, অনুশীলনে এসে নেটে এক ঘণ্টা ব্যাটিং করলে ৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকে স্লগ সুইপের পেছনেই। তাঁর এই আত্মবিশ্বাসকে ঘিরেই যে ফাঁদ পেতেছিলেন রোহিত, তাতে পরিকল্পনা শতভাগ সফল। যুযবেন্দ্র চাহালের প্রথম বলেই সুইপ খেলতে গিয়েছিলেন মুশফিক, ডিপ মিড উইকেটে দাঁড়ানো ক্রুনাল পাণ্ডেকে নড়তেও হয়নি ক্যাচের জন্য।

আগের ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ হয়নি বলে আক্ষেপ ছিল আফিফ হোসেনের। কাল সুযোগ পেয়েছিলেন কার্যকর একটা ইনিংস খেলার। ৮ বলে ৬ রান করে খলিলের স্লোয়ারের শিকার আফিফ।

এত ব্যর্থতার ভিড়েও বাংলাদেশের ইনিংসটা যে দেড় শ ছাড়াল, সেটা সৌম্য সরকার আর নাঈমের ব্যাটে। ২ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ২০ বলে ৩০ রান সৌম্যর, এই গণ্ডি থেকে তাঁর আর বের হওয়া হলো না। নাঈমের ৩১ বলে ৩৬ রানের ইনিংসটা ছিল সম্ভাবনাময়, তবে বাউন্ডারি মারলেও সিঙ্গেলস নিতে না পারার ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাজকোটের রানপ্রসবা উইকেটেও তাই বাংলাদেশের ইনিংসটা বড় হয়নি মূলত দুটো কারণে। এক. ৩৮টা ডট বল দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। অর্থাৎ ৬ ওভারের ২ বল বেশি, ম্যাচের মোট বলের তিন ভাগের এক ভাগ থেকে কোনো রানই আসেনি। দুই. ছক্কার অভাব। রাজকোটের মাঠটা তূলনামূলকভাবে বেশ বড় এবং সবদিকেই প্রায় সমান। কোনো ছোট প্রান্ত নেই যেদিক দিয়ে ছয় মারা সহজ। গোটা ইনিংসে একটা মাত্র ছয়। ভাগ্যদেবীর এত আশীর্বাদ, সিরিজে এগিয়ে থাকার আত্মবিশ্বাস কোনো কিছুতেই তাই কিছু হলো না। অবশ্য ১২০ বলের ইনিংসে ৩৮ বল থেকে রান না এলে সেই ম্যাচে জেতার প্রত্যাশা করাটাও তো বাড়াবাড়ি!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা