kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বদলে যাওয়া আমিনুলে মুগ্ধ চাহালও

সামীউর রহমান, রাজকোট থেকে   

৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বদলে যাওয়া আমিনুলে মুগ্ধ চাহালও

‘একজন সফল লেগস্পিনার হিসেবে বাংলাদেশের তরুণ লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের জন্য আপনার কী উপদেশ থাকবে’—সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি এক সাংবাদিক যুযবেন্দ্র চাহালের কাছে এ কথাটা জানতে চাওয়ার পর উত্তরে যা শুনতে হলো, তাতে এটা অন্তত নিশ্চিত হওয়া গেল যে ভারতীয় দল তাদের প্রতিপক্ষকে নিয়ে হারের পর ময়নাতদন্তে বসেছে। আমিনুল ছিলেন তাদের কাছে সিলেবাসের বাইরে থেকে আসা প্রশ্নের মতোই। মাঠের পরীক্ষার প্রথম পত্রে বিপ্লবের ঘূর্ণিধাঁধার কাছে ফেল করেছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় পত্রের আগে তাঁরা যে এই সিলেবাসের বাইরের প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে কোমর বেঁধে লেগেছেন, সেটা বোঝা গেল চাহাল গড়গড় করে আমিনুলের বোলিংয়ের ঠিকুজি কুষ্ঠি বলে দিতেই।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাহালের পথচলার বয়স বছর তিনেক। এরই মধ্যে অধিনায়ক বিরাট কোহলির আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন এই লেগস্পিনার। বিশ্বে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তো ছড়ি ঘোরাচ্ছেন রশিদ খান, ইমরান তাহিরের মতো লেগস্পিনাররাই। চাহালের লেগস্পিন ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমণকে করেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ। মাত্রই দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামা আমিনুলের বোলিং মুগ্ধ করেছে চাহালকেও, ‘এটা মনে হয় ওর প্রথম ম্যাচ ছিল (আসলে দ্বিতীয়), সে খুবই ভালো বোলিং করেছে। নিশ্চয়ই সে দেশে এর আগে অনেক ভালো করেছে। সে তিন ওভার বোলিং করে ২০ রানের মতো দিয়েছে। দুটো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছে। তিন ওভারে ২০-এর মতো রান আর ২ উইকেট সত্যিই খুব ভালো বোলিংয়ের প্রমাণ।’ যদিও চাহাল জেনে অবাক হবেন, আমিনুলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক মাত্র মাস দেড়েক আগে! কারণ বাংলাদেশের ক্রিকেট কোচদের লেগস্পিনারদের হাতে বল দিতে অনীহা। যে কারণে এবার থেকে কড়া নিয়ম করেছে বিসিবি। এখন এই নিয়ম ভবিষ্যতে কজন লেগস্পিনার তুলে আনবে সেটা সময়ই বলে দেবে।

টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানকে প্রলুব্ধ করে উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে লেগস্পিনাররা বরাবরই কার্যকর। তবে চাহাল মনে করেন, শুধু লেগস্পিনার আমিনুলই নন, বাংলাদেশের গোটা স্পিন বিভাগটাই বেশ ভালো করেছে দিল্লিতে, ‘ওরা খুব ভালো বোলিং করেছে, বিশেষ করে যখন শিখর ধাওয়ান আর ঋষভ পান্ট ব্যাটিং করছিল। মাহমুদ উল্লাহ তখন দুজন অফস্পিনারকে দিয়ে বল করাচ্ছিল, সেটা ছিল দারুণ একটা চাল।‘ লেগস্পিনার আমিনুলের প্রশংসায় বলেছেন, ‘তারকা ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতির পরও বাংলাদেশ বেশ ভালো একটা দল। ওদের সবাই অভিজ্ঞ, এমনকি যে নতুন এসেছে সেই লেগস্পিনারও ভালো বোলিং করেছে।’

মুশফিকের হিসাবি ব্যাটিংও নজর এড়ায়নি চাহালের। যদিও তাঁর বলেই আউট হয়ে যেতে পারতেন দিল্লির ম্যাচসেরা মুশফিক, তবে ক্রুনাল পাণ্ডের হাত ফসকে পড়ে যাওয়া ক্যাচটাকে খেলার অংশ বলেই মনে করেন হরিয়ানার এই ক্রিকেটার, ‘মুশফিকুর লক্ষ্যটাকে খুব ভালোভাবে হিসাব-নিকাশ করে রেখেছিল।’

যাঁকে নিয়ে চাহালের এত প্রশংসা, সেই আমিনুলের মাথাতেই বা কী চলছিল বোলিং করার সময়? হঠাৎই পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসা আমিনুল নিজেকে সামলে নিয়েই বললেন, ‘ব্যাটসম্যান ভেবে বোলিং করছিলাম। কোন জায়গায় খেলতে চাচ্ছে এর বিপরীত জায়গায় বোলিং করতে চাইছিলাম। ভালো জায়গায় বোলিং করা, এটাই ছিল পরিকল্পনা।’ এখন পর্যন্ত দুটো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন আমিনুল, দুটোতেই জয়ের মুখ দেখায় সাফল্যের হার শতভাগ! জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে বল থামাতে গিয়ে হাত কেটে ফেলা আমিনুল বিদেশের মাটিতে নিজের প্রথম ম্যাচেই পেয়ে গেছন জয়ের দেখা। তাও আবার ভারতের বিপক্ষে, প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রতিপক্ষেরও! তবু আমিনুলের কাছে চট্টগ্রামের সেই স্মৃতিই বেশি দামি, ‘অভিষেক ম্যাচ তো অভিষেক ম্যাচই, ওই ম্যাচ সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে ভারত অনেক ভালো দল, ওদের বিপক্ষে ভালো করাটাও খুশির।’

অভিষেকের আগ পর্যন্ত আমিনুল ছিলেন তরুণ একজন ব্যাটসম্যান, যিনি হালকা লেগস্পিনও করতে পারেন। এই ভারতের মাটিতেই বিসিবির বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে শতরান করেছিলেন আমিনুল। বিসিবির এইচপি ও একাডেমি দলের কোচ সাইমন হেলমটের চাপাচাপিতেই আমিনুলের নিয়মিত লেগস্পিন বোলিং করা। সেই আমিনুলই ভালোমানের লেগস্পিনার হিসেবে সনদ পেয়ে গেলেন সময়ের অন্যতম সেরাদের একজন যুযবেন্দ্র চাহালের কাছে।

আমিনুলের আগমনে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে বেড়েছে বৈচিত্র্য। সেই সঙ্গে মুশফিকের পরিণতবোধ তাঁকে ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছে আরো শাণিত। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই বদলে দিয়েছে বাংলাদেশকে, এটাই পর্যবেক্ষণ একটা সময় পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের দাবাড়ু চাহালের, ‘শেষবার বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলাম নিদাহাস ট্রফিতে। তখন দুটো দলই একই রকম ছিল। এখন নতুন কয়েকজনকে নিয়ে দলটাকে আরো আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে। তারা দারুণ লড়াই করছে।’ যদিও লড়াইয়ে নতুন হলেও মাঠের চালে এখন পর্যন্ত আমিনুলই এগিয়ে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা