kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কঠিন সময়েই সেরাটা দেবে বসুন্ধরা

শাহজাহান কবির, চট্টগ্রাম থেকে   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কঠিন সময়েই সেরাটা দেবে বসুন্ধরা

কী থেকে কী হয়ে গেল! প্রথম ম্যাচে ইয়াং এলিফ্যান্টসের কাছে হেরে মোহনবাগান যেমন হতভম্ব। পরশু গোকুলাম কেরালার কাছে বসুন্ধরা কিংসের ৩-১ গোলে হারেও সেই বিস্ময়। নতুন মৌসুমে স্কোয়াডের গভীরতা বেড়েছে, জাতীয় দলের প্রায় সব খেলোয়াড় বসুন্ধরার শিবিরে। সামনে এএফসি কাপ, সেই টুর্নামেন্টের জন্য নিজেদের ঝালাইয়ের খুব ভালো একটা সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল এই শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপকে। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই এমন চিত্র নিশ্চয় দেখতে চাননি অস্কার ব্রুজন। কিন্তু সেটি নিয়ে পড়ে থাকলেই হচ্ছে না। আজই দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমে যেতে হচ্ছে তাদের চেন্নাই সিটির বিপক্ষে।

টুর্নামেন্টে ব্রুজনের হিসাব এখন স্পষ্ট, ‘আমাদের সামনে চারটি ম্যাচই এখন ফাইনাল। সেমিফাইনালে যেতে হলে পরের দুটি ম্যাচই জিততে হবে। সেটা হলেও পুরোপুরি হবে না হয়তো। কারণ গোকুলাম, তেরেঙ্গানুরও ৬ পয়েন্ট করে নেওয়ার সুযোগ আছে, আমাদেরও আছে। তখন গোল ব্যবধান পার্থক্য গড়ে দেবে।’ আজ তেরেঙ্গানুকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলতে পারে গোকুলাম। বসুন্ধরাও জিতলে শেষ ম্যাচে তেরেঙ্গানুর বিপক্ষেই তাদের নকআউট লড়াই। কিন্তু আজ তেরেঙ্গানু জিতলে তিন দলেরই হতে পারে ৬ পয়েন্ট। কিন্তু যারা গোকুলামকে হারাবে সেই দলটিকে হারিয়ে লড়াইয়ে টিকে থাকা কতটা কঠিন হবে, ভাবা যায়! তবে ব্রুজনের ভাবনাটা এ রকম, ‘সামনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তবে আমরাও শক্তিশালী। গোকুলাম আমাদের চেয়ে ভালো দল বলব না। তবে কাল তারা তাদের ধরনে খেলতে পেরেছে, আমরা তা পারিনি। তার কারণও আছে, দলটি তিন মাস ধরে একসঙ্গে আছে, ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এই দল নিয়েই। আইএসএলের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ওরা খুব ভালো ম্যাচ খেলেছে। সেখানে আমরা আমাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দেরই পেয়েছি মাত্র দিন তিনেক আগে। সে কারণেই আমরা আমাদের মতো খেলতে পারিনি। তবে সেটা মেনে নিয়েই আমরা এই টুর্নামেন্ট খেলছি। আমাদের তাই মানিয়ে নিতেই হবে, উন্নতি করতে হবে।’

ডিফেন্স লাইন ওপরে তুলে প্রতিপক্ষের অর্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার ধরনের কথা বলেছেন ব্রুজন। কিন্তু নতুন যারা এসেছে যেমন শেখ রাসেলে ডিপ ডিফেন্ডিং ও কাউন্টারে খেলে অভ্যস্ত ইয়াসিন খান, বিশ্বনাথ ঘোষ, বিপলু আহমেদরা মানিয়ে নিতে পারেননি এই ধরনের সঙ্গে। কোচের কথায়, ‘প্রতিপক্ষ অর্ধে তিন-চার সেকেন্ডের মধ্যে বল উইন করার কথা আমাদের। সে জন্য সবার যেমন ওপরে উঠে খেলার প্রয়োজন ছিল, সেটা আমরা খেলতে পারিনি, কেউ উঠেছে কেউ নেমেছে। ফলে একাট্টা হয়েও খেলতে পারিনি আমরা।’ আজ চেন্নাইয়ের বিপক্ষেই সেই সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতি মিটিয়ে দলকে খেলাতে চান তিনি। স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন খেলার ধরন বদলের, ‘আমাদের অনেক কিছু এখন শোধরাতে হবে। অবশ্যই এই ম্যাচে ভিন্নভাবে খেলব আমরা।’

গোকুলামের বিপক্ষেই দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় ভিন্নতা এনেছিলেন। ডান প্রান্তে অভ্যস্ত বিশ্বনাথকে ফিরিয়েছেন, হোল্ডিং পজিশন থেকে বখতিয়ারকে সেন্টারব্যাকে নামিয়ে আনাটা হয়তো পুরো সমাধান না, চেন্নাইয়ের বিপক্ষে তিনি কী করেন, সেটাই এখন দেখার। চেন্নাই অবশ্য যথেষ্ট দুর্বল প্রতিপক্ষ, গত আই লিগে চ্যাম্পিয়ন হলে কী হবে নতুন মৌসুমে আইএসএলে প্রায় সব খেলোয়াড়কে হারিয়েছে তারা, কোচ নতুন—যিনি এবার শিরোপা ধরে রাখার কথা ভাবতেও পাারছেন না। তবু ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের চাপ বলে কথা। ব্রুজন অবশ্য বিশ্বাস করেন এমন পরিস্থিতিতেই তাঁর খেলোয়াড়দের সেরাটা বেরিয়ে আসবে, ‘আমার দলের প্রত্যেকে দারুণ পেশাদার। আর পেশাদাররা চাপের মধ্যেই সবচেয়ে ভালো করে। তাই আমি মনে করছি আমার দলের জন্য এই পরিস্থিতিটা বরং সুযোগ নিজেদের মেলে ধরার জন্য। আমার বিশ্বাস আছে তারা তা পারবে। এমএ আজিজ স্টেডিয়াম আজ বিকেল ৪টায় এই ম্যাচ খেলতে নামছে বসুন্ধরা। সন্ধ্যা ৭টার ম্যাচেই মুখোমুখি তেরেঙ্গানু ও গোকুলাম। যে ম্যাচের ফলের ওপরও অনেক হিসাব-নিকাশ নির্ভর করছে। তবে বসুন্ধরার সমীকরণ সহজ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা