kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিপিএলের পাল্টা বিগ ব্যাশ মডেল

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিপিএলের পাল্টা বিগ ব্যাশ মডেল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি না রেখে নিজেরাই দল গড়ে বিপিএল আয়োজনের যুক্তি হিসেবে বরাবরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তারা অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশকে দেখিয়ে এসেছেন। কিন্তু কে জানত যে সেই ‘বিগ ব্যাশ মডেল’ বুমেরাং হয়ে উল্টো ধেয়ে যাবে তাঁদের দিকেই! ধর্মঘটে যাওয়া ক্রিকেটাররা অচলাবস্থার তৃতীয় দিনে তাঁদের আইনজীবীর মাধ্যমে দাবি করেছেন তেমনটিই। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরের আয়ের একটি অংশ পেয়ে থাকেন সে দেশের ক্রিকেটাররা। শুধু তা-ই নয়, বাণিজ্যিক সব খাতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) রাজস্ব থেকে নিজেদের ‘ন্যায্য পাওনা’ও বুঝে পান স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নাররা। আন্দোলনে গিয়ে এর হারও বাড়িয়েছেন তাঁরা। সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিম-তামিম ইকবালরাও এবার নিজেদের দাবি-দাওয়ায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন সেই অস্ট্রেলিয়ান মডেলই।

রীতিমতো আইনজীবী নিয়োগ করেই তাঁরা আগের সব দাবির সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেছেন সেটিও। আগের দিন দুপুরে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের সংবাদ সম্মেলনের পর ক্রিকেটাররা নিজেদের অবস্থান জানাতে জানাতে পেরিয়ে গেছে ২৪ ঘণ্টা। গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানের এক হোটেলে আয়োজিত আরেক সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের হয়ে কথা বলেছেন ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। যিনি বিকেলেই আগের ১১-এর সঙ্গে আরো দুটি যুক্ত করে ক্রিকেটারদের মোট ১৩ দফা দাবি বিসিবিকে পাঠিয়েছেন। তবে এর মাধ্যমে সাকিবরা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায়ও যাননি বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী। এটিকে শুধুই ‘পেশাদার কারো সহযোগিতা নেওয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে বিসিবির আয়-ব্যয় ও হিসাব ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাও। অবশ্য নতুন এই দাবির বিষয়ে গতকাল রাতে সংকট সমাধানের বৈঠকে কোনো আলোচনাই হয়নি বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। সেই দাবি আইনজীবীর মাধ্যমে এসেছে বলে নিজেরা কথা না বলে বোর্ডের আইনি পরামর্শকের কাছে পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে। 

আলোচনায় না উঠলেও এটি বিসিবির দেখানো ফর্মুলা মেনেই যেন পাল্টা ফর্মুলা ক্রিকেটারদের। এর পাশাপাশি নতুন করে পুরনো বৈষম্যও তুলে ধরেছেন ক্রিকেটারদের আইনজীবী, ‘বিদেশ সফরে গেলে এই ক্রিকেটাররা দৈনিক ভাতা পান ৫০ ডলার। সেখানে ৫০০ ডলার করে পেয়ে থাকেন বিসিবির পরিচালকরা।’ উঠে এসেছে দেশি-বিদেশি কোচের বেতনবৈষম্যও। উদাহরণ হিসেবে এসেছেন বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং উপদেষ্টা ডেনিয়েল ভেট্টোরিও। যাঁর মাত্র পাঁচ দিনের বেতনই জাতীয় দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর পুরো মাসের সমান। বেতন-ভাতার দিক থেকে স্থানীয় কোচদের অবহেলার চিত্রটা তো আরো করুণ। এ রকম অনেক বিষয় আইনজীবীর মাধ্যমে তুলে ধরা ক্রিকেটারদের রাজস্বের ভাগ চাওয়াও ন্যায়সংগত বলেই দাবি করা হয়েছে। ১২ নম্বর দাবির কথা বলতে গিয়ে ব্যারিস্টার মুস্তাফিজ বলেছেন, ‘বিসিবির রাজস্ব থেকে পেশাদার ক্রিকেটারদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ এই আয়টা হয়ই পেশাদার ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে।’

এই দাবির সঙ্গেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আরো অনেক কিছু। যেমন—ক্রিকেটারদের কল্যাণে প্রভিডেন্ট ও কমপেনসেশন ফান্ড এবং ইনস্যুরেন্স স্কিম চালু করে তা কার্যকর করার কথা উল্লিখিত হয়েছে। অবসরে যাওয়া এবং চোটগ্রস্ত ক্রিকেটারদের জন্য পেনশন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখার ব্যাপারও বাদ যায়নি। এখানে ক্রিকেটারদের দাবির পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে যেমন টেনেছেন সাকিবদের আইনজীবী, তেমনি এনেছেন বিগ ব্যাশ প্রসঙ্গও, ‘ক্রিকেট বোর্ডের আয়ের ভাগ ক্রিকেটারদের পাওয়ার ব্যাপারটি নতুন নয়। অস্ট্রেলিয়াতেই আছে এটি। এমনকি বিগ ব্যাশ লিগ আয়োজন করে যে আয় হয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার, সেটির ভাগও সে দেশের ক্রিকেটাররা পেয়ে থাকেন।’ যদিও বিসিবি তাঁদের এই দাবি মেনে নিলে ঠিক কতসংখ্যক ক্রিকেটার এর সুবিধাভোগী হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি ক্রিকেটাররা। সময়ে সেটির রূপরেখাও তৈরি হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ব্যারিস্টার মুস্তাফিজ, ‘এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। রাজস্বের ভাগ ৩০ জন ক্রিকেটার পাবেন নাকি ৩০০ জন, সেটিও ঠিক হওয়া জরুরি। তবে এখনই এটি চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়। কারণ ক্রিকেটাররা তাঁদের সংস্থার (কোয়াব) বর্তমান কমিটির পদত্যাগ চেয়েছেন। এরপর পেশাদার ক্রিকেটাররাই তাঁদের সংস্থার দায়িত্ব বুঝে নেবেন। পেশাদার কমিটি গঠিত হলেই সেই সংখ্যাটি নির্দিষ্ট করা যাবে বলে আশা করছি।’ তবে সেই সংখ্যা যতই হোক না কেন, মাঠে ফেরার আগে এই দাবি পূরণের নিশ্চয়তাও চান ক্রিকেটাররা। যা বিগ ব্যাশের মতো করে বিপিএল আয়োজন করতে চাওয়া বিসিবি কর্মকর্তাদের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কাও। তাঁদের দিকেই যে পাল্টা দাগা হলো ‘বিগ ব্যাশ মডেল’!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা