kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নামেও আর চলছে না মোহনবাগানের

এটাও সত্যি মোহনবাগান, ইস্ট বেঙ্গলের মতো সমর্থকভিত্তিক এত বড় ক্লাবকে না পাওয়াটা আইএসএলেরও একটা বড় ঘাটতি। এখন মনে হচ্ছে, আসলে দুপক্ষেরই দুপক্ষের প্রয়োজন আছে। ভারতীয় ফুটবলের নতুন যে রোডম্যাপ হয়েছে তাতে আগামী মৌসুমেই আই লিগের দুটি ক্লাবকে প্রস্তাব দেবে আইএসএল, দেখা যাক কী হয়।
সঞ্জয় ঘোষ, মোহনবাগান ম্যানেজার

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নামেও আর চলছে না মোহনবাগানের

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইস্ট বেঙ্গল-মোহনবাগান সমর্থকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ধুন্ধুমার লেগেছে শুধু নোবেল জয় করা অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন দলের সমর্থক তা নিয়ে। বাঙালি এই অর্থনীতিবিদ মোহনবাগান ক্লাবের সদস্য, আবার এক জায়গায় লিখেছেন মনে মনে তিনি আসলে ইস্ট বেঙ্গল, মোহনবাগানের সদস্য হওয়ার প্রস্তাব বিনয়ের কারণে ফিরিয়ে দিতে পারেননি স্রেফ। চট্টগ্রামের পেনিনসুলা হোটেলে বাগান ম্যানেজার সঞ্জয় ঘোষের কথা শুনে মনে হলো বিতর্কটা শুধু আর ফেসবুক বা অনলাইনেও নেই, ‘উনি মোহনবাগানেরই সমর্থক মূলত। কিন্তু উনার  কোন এক ভাইয়ের সঙ্গে ইস্ট বেঙ্গলের খেলায়ও গিয়েছিলেন।’

চট্টগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল নেই। প্রথম টুর্নামেন্টে তারা এসেছিল, সেবার মোহনবাগান আসেনি, এবার প্রথম তারা এসেছে। কিন্ত দুই ক্লাবের ইতিহাস ঐতিহ্য এতই গা লাগালাগি যে, এক দলের নাম নিলে, আপনাতেই অন্যটির নাম চলে আসে। সময় অবশ্য বদলাচ্ছে। মোহনবাগানের সঙ্গে ইস্ট বেঙ্গল জুড়লেই আর হচ্ছে না যেন। কারণ ভারতীয় ফুটবলে আরেকটা দৈত্য দাঁড়িয়ে গেছে, সেটা আইএসএল। তার এমনই প্রতাপ যে সবুজ-মেরুন আর লাল-হলুদও এর জৌলুস এড়িয়ে যেতে পারছে না। এ মাসেই মোহনবাগান, ইস্ট বেঙ্গল যে লিগে খেলে সেই আই লিগকে পেছনে ঠেলে ভারতের শীর্ষ লিগ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগকে। সেই লিগের চ্যাম্পিয়ন দলই পাবে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ালিফাইং স্পট, এটা এখন মোটামুটি চূড়ান্ত। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সমর্থকদের পাগলামো সত্ত্বেও তাই কলকাতার জায়ান্টদের সেই আইএসএল মুখো না হয়ে পারা যাচ্ছে না। পরশু মোহনবাগান যেদিন চট্টগ্রামের মাঠে খেলতে নামল লাওসের পুঁচকে ইয়াং এলিফ্যান্টের বিপক্ষে, কোচিতে সেদিনই কেরালা ব্লাস্টার্স ও অ্যাতলেতিকো ডি কলকাতার ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধন হয়ে গেছে আইএসএলের ষষ্ঠ আসরের। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে মোহনবাগানের খেলা দেখতে কজনই বা এসেছিলেন, কিন্তু জওয়াহেরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ছিলেন ৩৬ হাজার দর্শক। যে মাঠে খেলা হয়েছে তার তুলনা চলে শুধু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মাঠগুলোর সঙ্গে। স্টার স্পোর্টসের সম্প্রচারও সেই মানের। ভারতের ফুটবলপ্রেমীরা কিন্তু সেদিকেই ছিলেন ঝুঁকে। চট্টগ্রামে ইয়াং এলিফ্যান্টের বিপক্ষে মোহনবাগানের পাগুলে সমর্থকদের নজর না থেকে পারে না। কিন্তু তাদেরও কি বুকে বাজে দেশের সেরা লিগে নিজেদের দলকে দেখতে না পাওয়ার কষ্ট। সঞ্জয় ঘোষ তা মানেন, ‘এটা স্বীকার করতে হবে আইএসএল এখন ফুটবলার, ফুটবপ্রেমীদের নজর কেড়ে নিয়েছে। আবার এটাও সত্যি মোহনবাগান, ইস্ট বেঙ্গলের মতো সমর্থকভিত্তিক এত বড় ক্লাবকে না পাওয়াটা আইএসএলেরও একটা বড় ঘাটতি। এখন মনে হচ্ছে আসলে দুপক্ষেরই দুপক্ষের প্রয়োজন আছে। ভারতীয় ফুটবলের নতুন যে রোডম্যাপ হয়েছে তাতে আগামী মৌসুমেই আই লিগের দুটি ক্লাবকে প্রস্তাব দেবে আইএসএল, দেখা যাক কী হয়।’ সেই দুটি ক্লাব যে ইস্ট বেঙ্গল, মোহনবাগান ছাড়া আর কোনোটি নয়, সেটা স্পষ্ট। ঘোষের কণ্ঠেও ইঙ্গিত স্পষ্ট খুব শিগগির আইএসএলেই হয়তো নাম লেখাতে যাচ্ছে কলকাতার এই দুই জায়ান্ট।

পরশু মোহনবাগানের যে দলটি ইয়াং এলিফ্যান্টের বিপক্ষে নেমেছে সেই খেলোয়াড়দের মধ্যে শুধু একজনই গোলরক্ষক দেবজিৎ মজুমদার বাঙালি। সর্বশেষ কলকাতা ডার্বিতে ইস্ট বেঙ্গলের একাদশে তো একজনও ছিলেন না বাঙালি। একসময় এই দুই দলের খেলোয়াড় ছাড়া ভারতীয় জাতীয় দল ভাবা যেত না, এখন জাতীয় দলে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব নেই-ই বলতে গেলে, আই লিগেরই কেউ নেই, সব আইএসএলের। কলকাতায় ডার্বি ঘিরে সেই গনগনে সল্ট লেক, সেই মুখরতা একটুও কমেনি, তবু এখনকার মোহনবাগান, ইস্ট বেঙ্গল কোথায় যেন ম্লান হয়ে আছে। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ইয়াং এলিফ্যান্টের বিপক্ষে যে ম্যাচ খেলেছে তারা, এ ফুটবল কলকাতার জায়ান্টদের সঙ্গে যায় না একেবারেই। উদ্বোধনী দিনে মারুফুল হকের চট্টগ্রাম আবাহনী যে মানের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বা এখন বসুন্ধরা কিংস বা আবাহনী যা করতে চায় সে তুলনায় সবুজ-মেরুনদের এই ফুটবল একেবারেই ম্যাড়মেড়ে। স্প্যানিশ কোচ কিবু ভিকোনা যতই বলুন, ‘পেনাল্টিটা মিস না হলে কেউ আজ আমাদের সমালোচনা করত না।’ কিন্তু চট্টগ্রামের দর্শকরা কিন্তু লাওসের খেলোয়াড়দের গতিময় ফুটবলটাই উপভোগ করছে বেশি। আয়োজকদের শীর্ষ একজন তো বলেই দিলেন, ‘বুড়ো বুড়ো সব স্প্যানিশ খেলোয়াড় নিয়ে এসেছে ওরা, এই মোহনবাগান চলে না।’ এমন হারের পর গোলরক্ষক দেবজিেকও মনে হলো বেশ তেতে আছেন। সল্ট লেকে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়সম ড্রয়ের দেবজিেদর বরং তেতে থাকার কথা বাংলাদেশে এসে ভারতীয় ফুটবলের সুনাম পুনরুদ্ধারের। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে মোহনবাগান আর ভারতীয় ফুটবলের সেই সুনাম কতটা তাঁরা ধরে রাখতে পারেন সেটিই এখন দেখার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা