kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চব্বিশ ঘণ্টা আগে-পরের মিরপুর

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চব্বিশ ঘণ্টা আগে-পরের মিরপুর

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নানা কারণে ক্ষমতাসীনদের ঘিরে স্তাবকদের মহড়া আজকাল খুব একটা দেখা যায় না। তবে মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেটে’র কায়কারবার আলাদা—কর্তা আসবেন শুনলেই বহিরাগতদের ভিড় জমে বিসিবি অফিসের পোর্টিকোতে। গতকালও জমায়েত ছিল। তবে সেটা সংবাদকর্মীদের, বহিরাগতদের নয়। চব্বিশ ঘণ্টা আগে ১১ দফা দাবি জানিয়ে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের প্রথম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই কিনা, হোম অব ক্রিকেটে উটকো লোকের উৎপাত দেখা যায়নি কাল। দেশের প্রধান ক্রিকেট স্টেডিয়াম চত্বরে ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই বিচরণ করেছেন এদিন।

তবে ক্রিকেটার কেউ ছিলেন না। আগের দিন আন্দোলনের ডাক দেওয়ায় তাঁদের স্টেডিয়ামে আগমনেরও কোনো কারণ নেই। যদিও সাবেক ক্রিকেটার অনেকেই ছিলেন। বোর্ড সভাপতির সংবাদ সম্মেলনেই তাঁকে ঘিরে তিন সাবেক অধিনায়ক—আকরাম খান, নাঈমুর রহমান ও খালেদ মাহমুদ। আরো দুই পরিচালক—মাহবুব আনাম ও জালাল ইউনুসও দেশের সবচেয়ে নামি দুই ক্লাব মোহামেডান ও আবাহনীতে দীর্ঘ সময় খেলেছেন।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এই সাবেক ক্রিকেটাররাই দেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের সংস্থা কোয়াবের বর্তমান নেতৃত্বের রক্ষাকবচ। সাকিব আল হাসানদের ১১ দফার প্রথমটিই ছিল কোয়াব নেতৃত্বের পদত্যাগ এবং নতুন নির্বাচন দিয়ে পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার। কিন্তু সাকিবদের এ ইচ্ছা কি পুরোপুরি পূরণ হবে? ক্রিকেটারদের আন্দোলনে শরিক হয়েছেন বর্তমান ক্রিকেটাররা। সংখ্যায় তাঁরা সাবেক ক্রিকেটারদের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে কম। আপাতত এই অঙ্কের ফাঁদে একটা ‘লাইফলাইন’ দেখছেন কোয়াবের হেভিওয়েটরা। কমিটি ভেঙে যদি নতুন নির্বাচনও দিতে হয়, কোয়াব নেতৃত্বের পক্ষবদলের সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ।

অবশ্য ক্রিকেটারদের দাবি মেনে এখনই পদত্যাগের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সভাপতি নাঈমুর রহমান, ‘কোয়াবের একটি গঠনতন্ত্র আছে। সে মতে নির্বাচন হবে। সেখানে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের নেতৃত্ব আনার সুযোগ রয়েছে।’ যদিও গত সন্ধ্যায় ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিকার প্রেস বিজ্ঞপ্তির ভাষায় কোয়াবের স্বীকৃতি সংকটের মুখে। গত পরশু যে ভাষায় কোয়াবকে বিদ্ধ করেছেন ক্রিকেটাররা অনেকটা তাঁদের সঙ্গে সুর মিলিয়েই কোয়াবকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে ফিকা। এ মাসের শুরুতেই সাধারণ সভায় ফিকার গঠনতন্ত্রে যুক্ত হয়েছে যে বোর্ডের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কেউই খেলোয়াড়দের সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না। নাঈমুর রহমান বোর্ড পরিচালক। আর কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল বিসিবির বেতনভুক্ত ম্যাচ রেফারিজ কো-অর্ডিনেটর। ক্রিকেটারদের দাবির জবাব দিতে গতকাল ডাকা কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনে নাঈমের আরেক পাশে উপবিষ্ট খালেদ মাহমুদ একাধারে সংগঠনের সহসভাপতি এবং বিসিবি পরিচালক। ফিকার নির্দেশনা মতে তাঁদের কারোরই খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির কার্যকরী কমিটি থাকার কথা নয়।

গত চব্বিশ ঘণ্টায় এটাও মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটের আবহে আরেকটি চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন। আগের দিন ক্রিকেটাররা চাপের বলয় ছড়িয়ে গেছেন সংগঠকদের ওপর। তার এক দিন পর সেই মিরপুরেই প্রবল চাপে তিন ক্রিকেটার, যাঁদের দুজন আবার সাবেক অধিনায়ক।

এক, দুই করে আজ আন্দোলনের তৃতীয় দিন। একদিন ক্রিকেটাররা ‘খেলে’ গেলেন তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে। গতকাল সংগঠকরা তাঁদের শক্তি দেখিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এপিসোডে যে কী চমক অপেক্ষা করছে কে জানে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা