kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আত্মপক্ষ সমর্থনে...

ক্রিকেটারদের আন্দোলনে বিস্মিত বোর্ড

নিজের ‘শকড’ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় গিয়ে নাজমুল তাঁর কাছ থেকে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সুবিধা নেওয়ার ফিরিস্তিও তুলে ধরেছেন। যেমন সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বলেছেন, “সাকিবের সঙ্গে সেদিনও যখন কথা হয়—ও বলল, ‘বিশ্বকাপে আমি এত ভালো খেললাম। আপনি বোনাস দেবেন বলেছেন, সেটি দিয়ে দেন।’ আমি বলেছি, ‘ঠিক আছে, অনুষ্ঠান করে দিই।’ কই, ও তো কোনো দিন আমাকে এসব দাবিদাওয়ার কথা বলেনি।”

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রিকেটারদের আন্দোলনে বিস্মিত বোর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ক্রিকেটারদের অনেকেই একান্ত ব্যক্তিগত নানা সমস্যায় শরণাপন্ন হন তাঁর। সেই ক্রিকেটাররাই তাঁকে কিছু না জানিয়ে ধর্মঘটে গেলেন, তা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেই এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলন শুরু করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান, ‘এটি আমার জন্য এক্সট্রিমলি শকিং। এখন পর্যন্ত আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন কিছু আসতে পারে।’

বিশ্বাস না হলেও এসেছে। তাতে নিজের ‘শকড’ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় গিয়ে নাজমুল তাঁর কাছ থেকে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সুবিধা নেওয়ার ফিরিস্তিও তুলে ধরেছেন। যেমন সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বলেছেন, “সাকিবের সঙ্গে সেদিনও যখন কথা হয়—ও বলল, ‘বিশ্বকাপে আমি এত ভালো খেললাম। আপনি বোনাস দেবেন বলেছেন, সেটি দিয়ে দেন।’ আমি বলেছি, ‘ঠিক আছে, অনুষ্ঠান করে দিই।’ কই, ও তো কোনো দিন আমাকে এসব দাবিদাওয়ার কথা বলেনি।”

নাজমুলের কথায় এসেছেন আরো অনেক ক্রিকেটার। ইমরুল কায়েস এদের অন্যতম, “প্রথম কথা হলো, ওদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। খেলোয়াড়রা আমার কাছে ওদের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা পর্যন্ত বলে। আমি চেষ্টা করি, সেসব সমাধান করতে। এই যোগাযোগটা নিয়মিত। উদাহরণ হিসেবে বলি ইমরুলের কথা। ও কিছুদিন আগে রাতে আমাকে ফোন করে বলল, ওর বাচ্চা খুব অসুস্থ। অ্যাপোলোতে ডাক্তাররা কিছু করতে পারছেন না; কালকের মধ্যে সিঙ্গাপুর নিতে হবে। আমি বললাম, ‘নিয়ে যাও।’ ইমরুল জানাল, ওর পরিবারের কারো সিঙ্গাপুরের ভিসা নেই। আমি বললাম, ‘ভিসার আবেদন করেছো?’ ও বলে, না। শুনে আমি বলি, ‘ঠিক আছে, তুমি প্লেনের টিকিট করে ফেলো, আমি দেখছি।’ আমি এক দিনের মধ্যে সবার ভিসার ব্যবস্থা করলাম। সে রাতে আমি একটা অনুষ্ঠানে ছিলাম। ইমরুল বিমানবন্দর থেকে ফোন দিয়ে বলল, ‘আমার বাচ্চার অবস্থা খুব খারাপ, ভিআইপি ব্যবস্থাটা ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়।’ আমি সে ব্যবস্থাও করে দিলাম।” কথায় কথায় এসেছেন মুশফিকুর রহিম এবং মেহেদী হাসান মিরাজরাও।

এমনকি জমি উদ্ধার করে দেওয়ার মতো কাজও ক্রিকেটাররা তাঁকে দিয়ে করিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি নাজমুলের, ‘কার ভাইকে কোন এসপি না ডিসি মেরেছেন রাত ৩টার সময়, ওই এসপি-ডিসির বিপক্ষে অ্যাকশন নিতে হবে। কোন প্লেয়ারকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে মেরে ফেলবে বলে, বিদেশ থেকে ফোন করে তা থামাতে হয়। আরেকজনের খালা না মামার উত্তরার জমি দখল করে নিয়ে গেছে, আমি গিয়ে উদ্ধার করি। তাহলে কী? মুশফিকের আব্বা, মিরাজের খালা, কাকে কোন ক্লাবে মারছে—সব আমাকে দেখতে হয়। এর পরও এসব কী হচ্ছে? এখন যা হচ্ছে, সেসব তাই আমার জন্য শকিং।’

শুধু নাজমুলই নন, দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়েও ক্রিকেটারদের কারো কারো প্রবেশাধিকার আছে। তা আছে বলেই আরো বিস্ময় নাজমুলের, ‘ওদের সাথে আমার এমন নিয়মিত কথাবার্তা হচ্ছে। নিয়মিত যোগাযোগ আছে। আর তা এক-দুজনের সাথে না, প্রত্যেকের সঙ্গেই। আমার কাছে ওদের অ্যাকসেস আছে। আমি তো দূরে থাক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও এদের অ্যাকসেস আছে। এটা আপনারা হয়তো অনেকে জানেন, অনেকে জানেন না। কিন্তু এটাই বাস্তবতা।’ যথাযথ সন্মান পান না বলে যে অভিযোগ ক্রিকেটাররা আগের দিন করেছেন, সেটিও খণ্ডাতে চেয়েছেন নাজমুল, ‘প্লেয়ারদের সঙ্গে ট্রিটমেন্টের কথা বলছে। কী ট্রিটমেন্ট চায়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাচ্চাসহ চলে যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ওদের বাচ্চাদের কোলে নিয়ে হাঁটে— তাহলে কী ট্রিটমেন্ট চায়? একটা ক্রিকেটার বলতে পারবে, ওদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে?’

যথেষ্ট বোনাস দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি নাজমুলের, ‘এখন পর্যন্ত একজন খেলোয়াড় বলতে পারবে, তারা কখনো আমাদের কাছে কিছু চেয়েছে আর আমরা দিইনি? ২৪ কোটি টাকা ওদেরকে আমরা বোনাস দিয়েছি। ওদের সুযোগ-সুবিধা প্রতিনিয়ত বাড়াচ্ছি। আর সেই টাকার জন্য ওরা খেলা বন্ধ করে দেবে!’ ২০১৩ থেকে এ পর্যন্ত পাওয়া বোনাসের সে অঙ্ক অবশ্য অন্যায়ভাবে পাননি ক্রিকেটাররা। তাঁদের চুক্তিতেই ‘উইনিং বোনাস’ আছে। আইসিসির আসরের প্রাইজমানি থেকেও একটি অংশ ক্রিকেটাররা পেয়ে থাকেন। সেই ক্রিকেটারদেরও অভিযোগ আছে যে তাঁদের বিক্রি করেই বিস্তর আয় দেদার ব্যয় করেন বিসিবি পরিচালকরা। বিশেষ করে জাতীয় লিগের ক্রিকেটাররা রাজশাহী থেকে কক্সবাজার যেতে মাত্র আড়াই হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পেলেও বোর্ড পরিচালকরা চড়েন হেলিকপ্টারে। সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গ তোলা হলেও নাজমুল তাতে ঢোকেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা