kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাঁতারুদের শাস্তির প্রতিবাদে চাকরি ছাড়লেন কোচ

শাস্তির তোপ সইতে না পেরে এক জুনিয়র নারী সাঁতারু অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। এখানে আর নয়! দুর্ঘটনার দিনই অর্থাৎ পরশু সন্ধ্যায় ঢাকা ছেড়ে জাপানে ফিরে গেছেন বাংলাদেশের জাপানি সাঁতার কোচ তাকিও ইনোকি।

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাঁতারুদের শাস্তির প্রতিবাদে চাকরি ছাড়লেন কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাঁতারুদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, এটা দেখেই তিনি হতবাক। এরপর শাস্তির তোপ সইতে না পেরে এক জুনিয়র নারী সাঁতারু অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। এখানে আর নয়! দুর্ঘটনার দিনই অর্থাৎ পরশু সন্ধ্যায় ঢাকা ছেড়ে জাপানে ফিরে গেছেন বাংলাদেশের জাপানি সাঁতার কোচ তাকিও ইনোকি।

মিরপুরে জাতীয় সাঁতার কমপ্লেক্সে ট্রেনিং চলছিল দুটি দলের। একদিকে জাতীয় দলের, যারা এসএ গেমসে যাবে, অন্যদিকে প্রতিভা অন্বেষণে পাওয়া খুদে সাঁতারুদের। তাকিও ইনোকি ছিলেন জাতীয় দলের দায়িত্বে, তবে দুই দল একই সময়ে ট্রেনিং করত। তাই গত রবিবার ইনোকির চোখে পড়ে যায় অঘটনটি, ‘মোবাইল রাখার নিয়ম ভঙ্গ করেছে বলে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে কয়েকজন জুনিয়র সাঁতারুকে। কড়া রোদের মধ্যে তাদের ব্যাঙ লাফ দিতে হচ্ছে। গড়াগড়ি দিচ্ছে মাটিতে। এই করতে গিয়ে হঠাৎ এক সাঁতারু অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এটা আমাকে খুবই বিস্মিত করেছে।’ ঘটনার খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে তিনি দেখছিলেন। অজ্ঞান হয়ে পড়া নারী সাঁতারুর নাম মিম। মেয়েটিকে সুস্থ করে তুলতে স্থানীয় কোচদের সাহায্যের অনুরোধ করে ইনোকি আরেক দফা বিস্মিত হয়েছেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা আমার সহকারী কোচদের বলেছিলাম, মেয়েটিকে গিয়ে দেখতে। এ কথা শুনে তাঁরা হাসছিলেন এবং বলছিলেন, মেয়েটা অভিনয় করছে। তাঁরা বলছিলেন, এটা বাংলাদেশি স্টাইল। পরে তাঁরা অবশ্য রোদ থেকে ছায়ায় নিয়ে আসেন তাকে। বরফ ও অ্যাম্বুল্যান্সের কথা বললেও তাঁদের নাকি বরফ নেই, এমনকি ঢাকায় অ্যাম্বুল্যান্সের ফোন নম্বরও নেই।’ এভাবেই পরশু সকাল ১১টায় ঘটা অঘটনটি ব্যাখ্যা করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

পরে গাড়ি করে স্থানীয় এক হাসপাতালে তাকে নেওয়া হলে জ্ঞান ফিরে আসে। ঘটনাটা বাংলাদেশের জাপানি কোচকে হতবাক করলেও স্থানীয় কোচদের জন্য হাসি-ঠাট্টার ব্যাপার! জাতীয় দলের সহকারী কোচ গোলাম মোস্তফাও এটাকে গুরুত্ব দিতে চান না, ‘এটা এমন কিছু নয়। জাপানি কোচের হুট করে পদত্যাগ করে চলে যাওয়াটা উচিত হয়নি।’ এটা আসলে দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য। অজ্ঞান হওয়া মানুষকে নিয়ে স্থানীয় কোচদের হাসাহাসির অসীম ক্ষমতা আছে, যা কিনা অন্যরা কল্পনাও করতে পারেন না। ইনোকির কাছে এটা অন্য এক গ্রহ। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পদত্যাগ করে পরশু সন্ধ্যায় জাপানের বিমান ধরেছেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, “সাঁতারুদের যেকোনো শারীরিক শাস্তি, লাঞ্ছনা এবং নাজেহালের ইস্যুতে আমার ‘জিরো টলারেন্স’। যারা এসব করে সেরকম ফেডারেশন কিংবা দলের সঙ্গে আমি নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতেই চাই না।” পাশাপাশি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, ‘বাংলাদেশের এসব অঘটন ফিনাকে জানানো আমার দায়িত্ব।’ সাঁতারুদের এই শারীরিক শাস্তির বিষয়টি তিনি নিয়ে যাবেন বিশ্ব সাঁতার সংস্থার টেবিলে!

তবে এই শাস্তির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রতিভা অন্বেষণের চার কোচ। নেতৃত্বে মাহবুবুর রহমান, তাঁর সহকারী আব্দুল হামিদ রিপন, কারার ছামেদুল ও শাহজাহান আলী রনি। তাঁরাই শুরু করেন শাস্তি-লাঞ্ছনার রেওয়াজ। গতকাল তিনজনের ফোন বন্ধ পাওয়া গেলেও প্রধান কোচ মাহবুবুর রহমানের ফোন বেজেছে, বারবার ফোনের পরও তিনি ধরেননি। অবশ্য তাদের শাস্তির পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছেন সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম বি সাইফ, ‘ক্যাম্পে সাঁতারুদের মোবাইল রাখা নিষেধ। তাদের বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইল দেওয়া হয় এবং শুক্রবার রাতে নিয়ে নেওয়া হয়। মোবাইল থাকলে রাতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। কিন্তু কয়েকজন চুরি করে মোবাইল রেখেছিল, ধরা পড়ায় তাদের সামান্য শাস্তি দেওয়া হয়।’ সামান্য শাস্তিতেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে মিম! তবে দুই মাসের মাথায় কোচের চলে যাওয়াটা সম্পাদক মানতে পারছেন না, ‘এরপর আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোচ আমার সঙ্গে কোনো কথা না বলেই গতকাল বিকেল ৫টায় বিমান ওঠে চলে গেছেন। তাঁর অভিযোগ নিয়ে আমরা কথা বলতে পারতাম। তিনি কাজের বেলায় খুব আন্তরিক ছিলেন। তিনি চলে গিয়ে আমাদের অথৈ সাগরে ভাসিয়ে গেলেন। এসএ গেমসের প্র্যাকটিসের কী হবে, আমি জানি না। আমি খুব বিব্রত এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।’ এ ঘটনার তদন্তে লে. কমান্ডার মাহাদিকে প্রধান করে ফেডারেশন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা রিপোর্ট দেবেন পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা