kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুয়ারেসকে ক্ষমা করেননি ট্যাগো

শাহজাহান কবির, চট্টগ্রাম থেকে   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুয়ারেসকে ক্ষমা করেননি ট্যাগো

টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন চট্টগ্রামে পৌঁছে গতকাল পর্যন্ত ভ্রমণক্লান্তি আর সময়ের পার্থক্যের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি প্রিন্স ট্যাগো। কাল সকালে হোটেল আগ্রাবাদে যখন কথা বলতে বসেছেন তখনো তাঁর দুচোখ ঘুমে ঢুলুঢুলু। দুপুরে চট্টগ্রাম আবাহনীর অনুশীলনে কী করে নামবেন, সেটাই হয়তো ভাবছেন। তবে ২০১০ বিশ্বকাপ আর সেই ঘানা-উরুগুয়ে ম্যাচের প্রসঙ্গ তুলতেই প্রিন্স যেন নিজ মেজাজে, ‘ওটা গোল ছিল। বল গোল লাইন পেরিয়ে গিয়েছিল সুয়ারেস হাত দিয়ে ফেরানোর আগেই। জানি না রেফারি কেন পেনাল্টি দিলেন, ওটা গোলই ছিল।’

২০১০ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের সে ম্যাচে ঘানার আবুদিনের শট গোল লাইন না পেরিয়ে থাকলেও ওই ঘটনার পর বিস্তর আলোচনা হয়েছে গোল লাইনে হ্যান্ডবলের এমন পরিস্থিতিতে পেনাল্টি কিকের বদলে প্রতিপক্ষ দলকে সরাসরি গোলই দেওয়া যায় কি না, এ ব্যাপারে। সেই হিসাবেও ২০১০-এর ঘানা বঞ্চিত বিশ্বকাপে প্রথম সেমিফাইনালের স্বাদ পাওয়া থেকে। প্রিন্স তা ভোলেন কী করে! উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তিনি নামেননি, কিন্তু ঘানার ওই আসরের অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সের সঙ্গী তো তিনি। খেলেছেন গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই। আসামোয়াহ জিয়ানের পেছনেই খেলেছেন দ্বিতীয় স্ট্রাইকারের ভূমিকায়। কে জানে সেমিতে হয়তো আরেকটি সুযোগ পেতেন তিনি। কিন্তু সুয়ারেসের হ্যান্ডবল আর জিয়ানের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি মিস বুক ভেঙে দেয় ঘানাইয়ানদের। ‘আমাদের ফুটবলে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে দুঃখের দিন এটি’—বলছিলেন ট্যাগো। ওই ঘটনায় ফ্যান ফেভারিট হয়ে গিয়েছিলেন সুয়ারেস, নিজেকে বিসর্জন দিয়ে দলকে বাঁচানোর একটা সুযোগ নেওয়ায় প্রশংসায় ভেসেছেন তিনি। কিন্তু ঘানাইয়ানদের কাছে মোটেও নয়, ৩২ বছর বয়সে বাংলাদেশে খেলতে আসা প্রিন্স এখনো ভাবেন না সুয়ারেস নায়কোচিত কিছু করেছিলেন বলে, ‘সুয়ারেস তাঁর কাজ করেছে কিন্তু সেটাই যে ঠিক, এমন নয়। কারণ ওটা গোল ছিল, বল গোল লাইন পেরিয়ে গেছিল, তাঁর জায়গায় আমি হলে হয়তো অমনটা করতাম না।’

ঘানাইয়ান লিগে টানা দুই মৌসুম সর্বোচ্চ গোল করে ‘প্রিন্স অব গোলস’ তকমা পেয়ে গিয়েছিলেন স্ট্রাইকার। সেই খ্যাতি নিয়েই জার্মান বুন্দেসলিগায় খেলেছেন হফেনহেইমের হয়ে। খেলেছেন এশিয়ায় সৌদি  আরব ও আরব আমিরাতেও, প্রতিনিধিত্ব করেছেন এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে। শেখ কামাল কাপে চট্টগ্রাম আবাহনীতে নাম লেখানোর আগে এশিয়ার ফুটবল নিয়ে সামান্যই তাঁর অভিজ্ঞতা। যার সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের অবশ্য তুলনা চলে না। ট্যাগো প্রথম ম্যাচে ওয়ার্ম আপ করলেও মাঠে নামেননি, পরের ম্যাচেও এই বিশ্বকাপারের দেখা মিলবে কি না বলা যাচ্ছে না। সেই লম্বা চুল এখনো ধরে রাখলেও ফিটনেস ধরে রাখতে পারেননি একেবারেই। অভিজ্ঞতা ও স্কিলে কতটা তা কাটিয়ে উঠতে পারেন সেটিই এখন দেখার।

২০১০ বিশ্বকাপ আর সেই ঘানা-উরুগুয়ে ম্যাচের প্রসঙ্গ তুলতেই প্রিন্স যেন নিজ মেজাজে, ‘ওটা গোল ছিল। বল গোল লাইন পেরিয়ে গিয়েছিল সুয়ারেস হাত দিয়ে ফেরানোর আগেই। জানি না রেফারি কেন পেনাল্টি দিলেন, ওটা গোলই ছিল।’

কাকতালীয়ই, ট্যাগোর সেই বিশ্বকাপ সতীর্থ, রেনে সান্ডারল্যান্ডে খেলা জিয়ান দুবাই, চীন ঘুরে এখন বাংলাদেশেরই প্রতিবেশী ভারতে। এই মৌসুমেই ঘানাইয়ান তারকাকে কিনে নিয়েছে আই লিগের দল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। হফেনহেইমে দুই মৌসুমে খুব বেশি নয়, ২০ ম্যাচ খেলেছিলেন ট্যাগো। সে খেলা নিয়েও হয়েছিল মহা ঝামেলা। তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল, এমন খবর জানার পর চুক্তি বাতিল করে দেয় জার্মান ক্লাবটি। ডাক্তারি সনদেও ভুলভাল আবিষ্কার করে বুন্দেসলিগা কর্তৃপক্ষ তাঁর খেলার লাইসেন্সই নিয়ে নেয়। আইনি প্রক্রিয়া এবং পুনরায় ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ট্যাগোই সেই লড়াই জিতেছিলেন। বুন্দেসলিগায় খেলা এরপরই, এরপর বিশ্বকাপও তো খেললেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ওই আসর শেষে সার্বিয়া ও তুরস্কের হয়ে খেলেন, এরপর তিউনিসিয়ায়। ২০১৪-তে আসেন মালয়েশিয়ায়। বিস্ময়কর চট্টগ্রাম আবাহনীতে এসেছেন তিনি, অথচ গত চার বছর কিন্তু খেলার মধ্যেই ছিলেন না। মালয়েশিয়া খেলে বছর দেড়েক ক্লাবহীন থাকার পরও ২০১৬তে  অবসরের ভাবনা উড়িয়ে দেন। গত বছর তুরস্কের এক ক্লাবে যোগ দিয়েও মাঠে নামেননি। ফুটবলবিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চল বাংলাদেশে সেই ট্যাগোর মাঠে ফেরা হয় কি না, সেটাই এখন দেখার। জিয়ানকে ভারতে আসতে দেখেই কি উৎসাহী হয়েছিলেন? উত্তরটা এড়িয়েই গেলেন, ‘ওর সঙ্গে দেখা নেই অনেক দিন। তবে মাঝে মাঝে কথা হয়।’ ট্যাগো বা আর ঘানাইনরা হয়তো সুয়ারেসকে ক্ষমা করেননি, তবে জিয়ান নিশ্চয় নিজেকেই ক্ষমা করতে পারেন না শেষ মুহূর্তে ওই পেনাল্টি কিকটা ক্রসবারে লাগিয়ে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা