kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রাম আবাহনীর একতরফা জয়

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম আবাহনীর একতরফা জয়

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নের লড়াইয়ে যে উত্তেজনা ছড়াবে ভাবা হয়েছিল, তা কোথায়! টিসি স্পোর্টসকে নিয়ে একরকম ছেলেখেলাই করেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের তৃতীয় আসর শুরু করেছে স্বাগতিকরা ৪-১ গোলের জয়ে। টিসিকে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে যতটা ম্রিয়মাণ দেখা গেছে, ততটাই উদ্দীপ্ত ছিল মারুফুল হকের দল শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনটা তাই শুধু চট্টগ্রামেরই।

চার বিদেশি নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন মারুফুল হক। ইউরোপা লিগে খেলা মন্টেনেগ্রোর স্ট্রাইকার লুকা রোতকোভিচ ও আইভরি কোস্টের চার্লস দিদিয়ের ছিলেন তাতে। তবে জোড়া গোল করে আসরের প্রথম এই ম্যাচ মাত করেছেন গত মৌসুমে আরামবাগে খেলা নাইজেরিয়ান ম্যাথু চিনেডু। সাইফ স্পোর্টিং থেকে ধারে আসা ডিফেন্ডার ইয়াসিন আরাফাতের অন্য গোলটি। ঘানার হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ খেলা প্রিন্স ট্যাগোকে শুরুতে বেঞ্চেই রেখেছিলেন মারুফ। অন্যদিকে টিসি স্পোর্টস খেলছিল পুরোপুরি নিজেদের খেলোয়াড় নিয়ে, অর্থাৎ সবাই মালদ্বীপের। এই দলটির বিপক্ষে ম্যাচের ১১ মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। আরিফুল ইসলামের কাটব্যাক ধরে চিনেডু বক্সের ওপর থেকে লক্ষ্য ভেদ করেছেন। আক্রমণটা গড়ে উঠেছিল অবশ্য ডান দিক থেকে, রহমতের ক্রস মাঝখানে ধরে আরিফকে বাড়িয়েছিলেন লুকা। আরিফ ছেড়েছেন ফাঁকায় থাকা চিনেডুকে। এগিয়ে যাওয়ার পরপরই ব্যবধান বাড়ানো ইয়াসিনের বিস্ময় জাগানো এক গোল। বাঁ দিক দিয়ে ওপরে উঠে ক্রসের মতো ফেলেছিলেন অনূর্ধ্ব-১৮ দলের অধিনায়ক। সেই বলই বাঁক খেয়ে টিসির গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে ঢুকে গেছে জালে। ম্যাচের বয়স ১২ মিনিট হতেই তাই ২-০ গোলে এগিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন টিসি পড়ে যায় তখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।

টিসি স্পোর্টসকে নিয়ে একরকম ছেলেখেলাই করেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের তৃতীয় আসর শুরু করেছে স্বাগতিকরা ৪-১ গোলের জয়ে।

বল পজেশনেও তারা আসলে খুব বেশি পাত্তা পাচ্ছিল না চট্টগ্রামের দলটির কাছে। জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া মারুফের একাদশেও একই পজিশনে খেলছিলেন আস্থা নিয়ে। দুই উইং ছিল তৎপর। মাঝখানে লুকা ও চিনেডু ব্যতিব্যস্ত রাখছিলেন টিসির ডিফেন্সকে। পাসিং ফুটবল খেলতে চাইছিল টিসিও। কিন্তু মিডফিল্ড পেরোলেও উজবেক ইকবাল জনের নেতৃত্বে থাকা চট্টগ্রামের ডিফেন্স তাদের কোনো সুযোগই দিচ্ছিল না। ৩০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে তাই চেষ্টা করেছিলেন মোহাম্মদ সামির। ক্রসবার ঘেঁষে সেই বল বেরিয়ে যায়। অন্য প্রান্তে স্বাগতিকরা তৃতীয় গোলটি পেতে পেতেও পায় না লুকার হেড পোস্টে লেগে বেরিয়ে এলে। রাব্বীর ক্রসে আরিফের শট প্রথম ফিরিয়ে দিয়েছিলেন গোলরক্ষক, সেই বলেই হেড নেন লুকা। তবে এর কিছুক্ষণ পরই কঠিন সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঠিকই স্কোর ৩-০ করে ফেলেছেন চিনেডু। মন্টেনেগ্রোর স্ট্রাইকার লুকাও শেষ পর্যন্ত গোলবঞ্চিত থাকেননি। ৭৮ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে কোনাকুনি শটে টিসির গোলরক্ষককে হারিয়ে দলের চতুর্থ গোলটি করেছেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ে কর্নার সান্ত্বনার গোলটি পেয়েছে টিসি।

ম্যাচ শুরুর আগ থেকেই সন্ধ্যার আকাশ রাঙিয়ে একটু পর পর আতশবাজি ফুটছিল গ্যালারি থেকে। চারদিকের গেট দিয়ে পিল পিল করে দর্শক ঢুকে সেই গ্যালারি প্রায় ভরিয়েও তুলেছিল। কিন্তু সাবেক দুই চ্যাম্পিয়নের মধ্যে যে ধুন্ধুমার লড়াই তারা আশা করেছিলেন, তা হলো কই। একতরফা খেলেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা