kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সেরা সময় পার করছেন ইব্রাহিম

শাহজাহান কবির, চট্টগ্রাম থেকে   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেরা সময় পার করছেন ইব্রাহিম

সল্ট লেকের দর্শকরা ঠিকঠাক গুছিয়ে বসেছেন কি বসেননি; টিভির সামনে যাঁরা ছিলেন তাঁদের চোখটাও স্ক্রিনে স্থির হয়েছে কি হয়নি, ভারতের বক্সে হানা দিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ ইব্রাহিমের পেছনে পড়ে গেছেন তখন স্বাগতিক ডিফেন্ডার রাহুল ভিকে। পেছন থেকেই চার্জ করলেন তিনি, বক্সের ভেতরে পড়ে গেলেন ইব্রাহিম। খেলা শুরুর মুহূর্তের মধ্যে এমন ঘটনায় রেফারিও কি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গিয়েছিলেন? নইলে তো পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ।

পরের মিনিটেই বাঁ দিক দিয়ে সেই ইব্রাহিম। ড্রিবল করে বেরিয়ে গেছেন ভারতীয় লেফটব্যাককে। এবার পেছন থেকে ধাক্কা দিলেন ভিকে, এবারও রেফারি বাংলাদেশের পক্ষে বাঁশি বাজালেন না। এই দুটি ঘটনার একটিতেও সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে গেলে তো কলকাতা থেকে জয় নিয়েই ফেরে বাংলাদেশ। ড্র-ও কম পাওয়া নয়। যেমন পেনাল্টির সিদ্ধান্ত না পেলেও কম পাওয়া নয় এই ইব্রাহিমকে পাওয়া। কাতারের ম্যাচেও কখনো বাঁ উইংয়ে কখনো ডান উইং ধরে আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন তিনি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বক্সে। ভারতের বিপক্ষেও শুরুর ওই দুটি মুভ ছাড়াও পুরো ম্যাচেই ভারতের অভিজ্ঞ কিন্তু একটু বয়সী ডিফেন্স লাইনের বারবার পরীক্ষা নিয়েছেন এই বসুন্ধরা কিংস উইঙ্গার। প্রথমবারেই কিংসের লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিযানেও ইব্রাহিম ছিলেন ধারাবাহিক পারফরমারদের একজন।

ঢাকা মোহামেডানে ক্যারিয়ার শুরু, দেশের শীর্ষ লিগে মানিয়ে নিতেই নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে যোগ দেন চট্টগ্রাম আবাহনীতে। ২০১৬-র সেই মৌসুমে চট্টগ্রামের দলটি শিরোপার জন্য লড়ছে। একদিকে জাহিদ হোসেন, অন্য উইংয়ে রুবেল মিয়া। ইব্রাহিম সুযোগ পেয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলেন এই দুজনকে। গতি ও স্কিলে সাইফুল বারীর দলে পরে তিনিই ছিলেন নিয়মিত। পরের মৌসুমে বিগ বাজেটের সাইফ তাঁকে দলে নেয়। সাইফ থেকেই গত মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের জার্সি গায়ে জড়িয়ে পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম লিগ শিরোপার স্বাদ। লেফট ব্যাক নিয়ে সমস্যায় ভুগতে থাকা অস্কার ব্রুজন এই গতিময় উইঙ্গারকে ব্যাকে নামিয়ে এনেছিলেন। ইব্রাহিম সেখান থেকেই নিয়মিত আক্রমণে অংশ নিয়েছেন ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস, বখতিয়ার দুশোবেকভদের সঙ্গে। লেফট ব্যাক বা উইঙ্গার যে পজিশনেই খেলুন না কেন, একাদশে নিয়মিত খেলোয়াড়দের অন্যতম ছিলেন কক্সবাজারের চকরিয়ার এই ফুটবলার।

লেফট ব্যাক নিয়ে সমস্যায় ভুগতে থাকা অস্কার ব্রুজন এই গতিময় উইঙ্গারকে ব্যাকে নামিয়ে এনেছিলেন। ইব্রাহিম সেখান থেকেই নিয়মিত আক্রমণে অংশ নিয়েছেন ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস, বখতিয়ার দুশোবেকভদের সঙ্গে। লেফট ব্যাক বা উইঙ্গার যে পজিশনেই খেলুন না কেন, একাদশে নিয়মিত খেলোয়াড়দের অন্যতম ছিলেন কক্সবাজারের চকরিয়ার এই ফুটবলার।

জাতীয় দলে অভিষেক তাঁর গত বছর বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে। জেমি ডে’র অধীনে সামান্য সুযোগই অবশ্য পেয়েছিলেন সে আসরে। কিন্তু যখনই মাঠে নেমেছেন, আক্রমণে ধার বাড়িয়েছেন আলাদা করে। কিংসের হয়ে এরপর দারুণ একটা সফল মৌসুমের পর বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতিতে তাঁর প্রতি আলাদা মনোযোগ না দিয়ে পারেননি জেমি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাজিকিস্তানে প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথম মূল একাদশে জায়গা পান ইব্রাহিম। এরপর আফগানিস্তান ম্যাচেও তা ধরে রাখা সেই পারফরম্যান্স কাতার আর ভারতের বিপক্ষেও উইংয়ে প্রথম পছন্দ হয়ে গেছেন তিনি। শেষ ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে যা খেলেছেন তাতে তো দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র হিসেবেই এখন গণ্য হচ্ছেন দ্রুতগতির এই উইঙ্গার।

ইব্রাহিম নিজে যদিও এখনো জায়গাটা পাকা বলে ভাবতে রাজি নন, ‘এই পজিশনে আমার আরো প্রতিদ্বন্দ্বী আছে। অন্যরা ভালো করতে পারেনি বলেই কিন্তু আমি এখন নিয়মিত হয়েছি। আমিও খারাপ করলে আমাকে বসে যেতে হবে। তাই আমার নির্ভার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপেও তাই নিজেকে প্রমাণের চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন এই তরুণ, ‘এমন একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কে কেমন পারফরম করে তা অবশ্যই দেখা হবে। জাতীয় দল যেমন, ক্লাবের ক্ষেত্রেও। সামনে আমাদের এফসি কাপ আছে। এই টুর্নামেন্টে বিদেশি দলগুলোর বিপক্ষে আমরা কেমন করি অস্কার ব্রুজন তার ওপর কড়া নজর রাখবেন। আর সামনে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচগুলোর আগেও এই ফর্মটা ধরে রাখা আমার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।’

সল্ট লেকে শুরুতেই পেনাল্টিটা না পাওয়া নিয়ে এখনো হতাশা বাজছে সমর্থকদের বুকে। ইব্রাহিম নিজেও তো ভুলতে পারছেন না, ‘এটা পরিষ্কার পেনাল্টি ছিল।’ শেখ কামাল ক্লাব কাপেও নিশ্চয় এই দুরন্ত ইব্রাহিমকেই দেখা যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা