kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আবাহনীর সেই লি টাক এখন...

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবাহনীর সেই লি টাক এখন...

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : লি টাকের গালভর্তি বাদামি দাড়ি। মেসির মতো। ঢাকায় যত দিন খেলেছেন আবাহনীর মেসি হয়েই ছিলেন এই ইংলিশ ফুটবলার। সনি নর্দের পর পেশাদার লিগে এই আরেক ফুটবলার, যাঁর বিদায়ে সমর্থকদের হা-হুতাশ ছিল সবচেয়ে বেশি। সেই লি আবার বাংলাদেশে। চট্টগ্রামে এসেছেন তাঁর এখনকার দল তেরেঙ্গানু এফসির হয়ে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ মাতাতে।

আকাশি-নীল জার্সিতে চট্টগ্রামেও খেলেছেন লি। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ২০১৬ সালের লিগে বিজেএমসির বিপক্ষে ফ্রি কিক থেকে চোখ জুড়ানো এক গোলের পর সেই ম্যাচে লাল কার্ডও দেখেছিলেন। লি নন, সেই কার্ডের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন উল্টো রেফারি জালাল উদ্দিন। মৌসুমজুড়ে ইংলিশ মিডফিল্ডারের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সেই সেবার শিরোপা জিতে নিয়েছিল আবাহনী। খেলতেন ১০ নম্বর পজিশনে, পেশাদার লিগে এই পজিশনে এর চেয়ে ভালো পারফর্মার আর দেখা যায়নি। যেমন ছিলেন বল প্লেয়ার, তেমনি পরিশ্রম করতেন দলের আর সবার চেয়ে বেশি, প্রতিপক্ষে ডি বক্সের এ প্রান্ত ও প্রান্ত তাঁর চতুর মুভমেন্টই গোলের পথ খুলে যেত, সেট পিসেও কম যেতেন না। এমন পরিপূর্ণ একজন ফুটবলারকে হারিয়ে আবাহনীর আক্ষেপ এখনো যায়নি। সেই লি, আবাহনীর সম্মিলন এবার হতে হতেও হলো না। ভিন্নভাবে যদিও। মুখোমুখি হতেন তিনি পুরনো ক্লাবের। নাবিব নেওয়াজ, শহীদুল আলমদের হারানোর জন্য মাঠে নামতেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা ছাড়া লি চট্টগ্রামের এই আসরে প্রতিপক্ষ হিসেবেও সেই আবাহনীকে না পেয়ে সত্যি হতাশ, ‘যখন শুনেছি আমরা এই টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছি আর আবাহনীও আছে তাতে তখন সত্যি অনেক আনন্দ হয়েছিল। আমার পুরনো সতীর্থ, ক্লাবের স্টাফদের সঙ্গে আবার দেখা হবে, ভাবতেই খুব ভালো লাগছিল। বিপক্ষে খেলার ভাবনাটাও ছিল ভীষণ রোমাঞ্চকর। কিন্তু হলো না তো। এটা খুব লজ্জার বিষয়। ওরা শেষ মুহূর্তে কেন নাম প্রত্যাহার করে নিল!’ আবাহনী নাম প্রত্যাহারে টুর্নামেন্টের জৌলুস কমে গেছে খানিকটা। পুরোপুরি মোটেও নয়, বসুন্ধরা কিংস আছে যে। তেরেঙ্গানু এফসির লির দেখা গেল সেই কিংসকে নিয়েও ভালো ধারণা আছে, ‘মালয়েশিয়ায় গিয়েও আমি সব সময় অনুসরণ করেছি বাংলাদেশের ফুটবল। বসুন্ধরা কিংস নতুন এসেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলারসহ অনেক নামি দল গড়েছে তারা। শুধু তা-ই নয়, শিরোপা জেতার জন্য কোনো কিছুরই অভাব রাখেনি তারা। এসবই আমি শুনেছি।’ গত মৌসুম থেকে লিহীন আবাহনীই পড়ে গেছে কিংসের কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে। লি নিজে কি সেই চ্যালেঞ্জ মিস করেন? অনুভূতিটা পুরো প্রকাশ করতে চাইলেন না যেন ৩১ বছর বয়সী এই ফুটবলার, অথবা পেশাদারির খোলসে ঢুকে গেলেন, ‘আমি এখন যে ক্লাবের হয়ে খেলছি, সেখানেও ফুটবলটা যথেষ্ট উপভোগ করছি। আমরা হয়তো শীর্ষ দল নই, কিন্তু নিজেদের সামর্থ্যের তুলনায় অর্জন আমাদের কম নয়। গত বছর কাপ ফাইনাল খেলেছি আমরা।’ শেখ কামাল কাপে তেরেঙ্গানুর হয়ে কিংসের চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও তো কম রোমাঞ্চকর নয় তাঁর কাছে, ‘আমি সত্যি কিংসের বিপক্ষে খেলতেও মুখিয়ে আছি। মাঠে আসলেই ওরা কেমন এটা দেখার ইচ্ছা। আমি আমার দল নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।’  লি চলে যাওয়ার পরও আবাহনী লিগ জিতেছে, আর গত মৌসুমে কিংসের সঙ্গে ঘরে পেরে না উঠলেও মাতিয়েছে এফসি কাপ। লি ২০১৬-তে দলকে লিগ চ্যাম্পিয়ন করেই ঢাকা ছেড়েছিলেন, এফসি কাপে আর তাঁর খেলা হয়নি। এবারের এফসি কাপে আবাহনীর সাফল্যের খবরও তাঁর অজানা নয়, যেমন অজানা নয় সল্ট লেকে সাদ, নাবিবদের কীর্তি। কাল চট্টগ্রামের হোটেলে বসে জানালেন তাঁর দেশের মানুষ জেমি ডের সঙ্গে দু-একবার কথাও হয়েছে তাঁর। জানালেন, বাংলাদেশ সঠিক লোকটিকেই বেছে নিয়েছে। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় খেলে অভিজ্ঞ লির এ দেশের ফুটবল নিয়ে ধারণাটা স্পষ্ট, ‘থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায় হয়তো আরেকটু গতিময় ফুটবল হয়; কিন্তু ফুটবলারদের মানসিক শক্তির জায়গায় বাংলাদেশিরা অনেক এগিয়ে।’ জেমি ডের দল তা দেখাচ্ছে, শেখ কামাল ক্লাব কাপেও লিও হয়তো সেই চ্যালেঞ্জটার মুখোমুখি হবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা