kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কিংসের নতুন মিশন

শিরোপার জন্য ঝাঁপাবে সবাই

শাহজাহান কবির, চট্টগ্রাম থেকে    

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিরোপার জন্য ঝাঁপাবে সবাই

ভারত, মালয়েশিয়ার ক্লাবগুলো নতুন মৌসুমের জন্য দল গুছিয়েছে। বাংলাদেশেও এখন প্রাক-মৌসুম। এই সময়ে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। তবে কাল টুর্নামেন্ট-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সব দলের কোচ-খেলোয়াড়দের কণ্ঠ যেমন জোরালো শোনাল, তাতে একটা ছবি স্পষ্ট—দলের চেহারা যেমনই হোক, সবাই ঝাঁপাচ্ছে শিরোপার জন্য।

ঘরোয়া লিগ বা এএফসি আসরগুলোতেও এমন হয় না। কারো লক্ষ্য থাকে শুধু টুর্নামেন্টে টিকে থাকা, কেউ শিরোপা ছাড়া অন্য কিছু বুঝতে চায় না, কেউ চায় জায়ান্টদের ধরিয়ে দিয়ে নিজেদের জানান দিতে। কিন্তু শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের চরিত্র আলাদা। এখানে যারাই আসে, তারা ধুন্ধুমার এক লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়েই আসে যেন। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের কোচ আফিয়া মোহাম্মদ যেমন বলেই দিলেন, ‘শিরোপা ধরে রাখাটা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং আমাদের জন্য। এই কারণে না যে আমরা প্রস্তুত নই। বরং যে মানের দলগুলো এবার অংশ নিচ্ছে মনে হয় না কেউ ছেড়ে কথা বলবে। এখন দেখাই যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।’ বাংলাদেশ লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজোনও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছেন না এই টুর্নামেন্ট নিয়ে, ‘কেউ কেউ বলছেন এটি একটি প্রীতি টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে। কিন্তু আমি বলব, এই আসরে প্রতিটি দল নিজেদের জানান দিতে মুখিয়ে আছে। আমরাও শিরোপার জন্য সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়ব।’ মোহনবাগান পাঁচজন স্প্যানিশ খেলোয়াড় নিয়ে নামছে এই আসরে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ আর আই লিগেও এখন স্প্যানিয়ার্ডদের রাজত্ব। কিংসের স্প্যানিশ কোচ ব্রুজোনের দৃষ্টিতে ভারতীয় লিগের মান বাড়াচ্ছেন এই স্প্যানিয়ার্ডরা। ব্রুজোনের অধীনে আর কোস্টারিকান ডেনিয়েল কলিনড্রেসের নেতৃত্বে কিংস গত মৌসুমে কার্যকর ফুটবল খেলেছে মাঝে মাঝেই, তবে বেশির ভাগ সময়ই সুন্দর ফুটবলের ফুল ফুটিয়েছে তারা। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সবুজ কার্পেটের মতো মাঠটা দেখে ব্রুজোনের চোখেও দ্যুতি খেলে যাচ্ছে, ‘আমার বিশ্বাস অসাধারণ ফুটবল হবে এখানে। মোহনবাগানে স্প্যানিয়ার্ডদের পজিশনাল ফুটবলের ছাপ তো থাকবেই। আমরাও চেষ্টা করব নিজেদের পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটাতে।’ ভারতীয় জায়ান্টদের কোচ কিবু ভিকোনাও মানছেন এই টুর্নামেন্টে একক কোনো ফেভারিট নেই, ‘এটা পাঁচ ম্যাচের টুর্নামেন্ট। যে কারণে সবাই আশাবাদী কিছু একটা করে দেখানোর। আলাদা করে শিরোপার দাবিদার তাই বলা যাবে না কাউকে।’

স্বাগতিক হিসেবে চট্টগ্রাম আবাহনীর ওপর অবশ্য একটা চাপ থাকবে। প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নও তারা। মারুফুল হকের দলের সামনেও তাই শিরোপা ছাড়া ভিন্ন কিছু ভাবার সুযোগ নেই, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য অবশ্যই শিরোপা পুনরুদ্ধার। তবে গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করাটাই এই মুহূর্তে আমাদের প্রথম ভাবনা।’ প্রতিপক্ষ দলগুলোর প্রতিও পূর্ণ সমীহ দেশের অন্যতম সেরা এই কোচের। স্বাগতিক দলটি অবশ্য ভিন্ন ফর্মুলায় তৈরি। এককথায় বলতে গেলে এই টুর্নামেন্টের জন্যই গড়া হয়েছে দলটি। প্রিমিয়ার লিগে চট্টগ্রাম আবাহনী দুই মৌসুম শিরোপার জন্য লড়েছে। কিন্তু গত দুই মৌসুমে তারা দল গড়েছে মাঝারি মানের। সেই দল নিয়ে এমন মর্যাদাপূর্ণ একটা টুর্নামেন্টের শিরোপার জন্য লড়া কঠিন। তাই তারা খেলোয়াড় ধারে নিয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব থেকে। দুই দলেরই পৃষ্ঠপোষক এক হওয়ায় সেটা সম্ভব হয়েছে। সাইফ স্পোর্টিং ও জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া তাই এখন চট্টগ্রাম আবাহনীর অধিনায়ক। জাতীয় দলে খেলা সাইফের পাঁচ ফুটবলারই বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ক্যাম্প শেষ করে উড়ে এসেছেন চট্টগ্রামে। কোচ মারুফ নিজেও আগামী লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীতে থাকছেন এমন নয়, কিন্তু এই টুর্নামেন্টের জন্য দলটাকে গুছিয়েছেন তিনি। ইউরোপা লিগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তিন বিদেশিও যোগ করেছে তারা। ঘানার হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ খেলা প্রিন্স ট্যাগো এসেছেন। এ নিয়েই মারুফের শিরোপার প্রতিশ্রুতি। ‘বি’ গ্রুপের শুধু দুটি দলই অবশ্য কাল সংবাদ সম্মেলন করতে পেরেছে, কিংস ও তেরেঙ্গানু এফসি। আবাহনী টুর্নামেন্ট থেকে শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আয়োজকরা গোকুলাম কেরালার নাম দিয়েছে, যদিও কাল পর্যন্ত তারা এএফসির অনাপত্তিপত্রের অপেক্ষায়। অন্য দল সর্বশেষ আই লিগ চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সিটি এফসি গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রামে এসে পৌঁছতে পারেনি। রাতেই অবশ্য তাদের চলে আসার কথা। এ গ্রুপে চট্টগ্রাম আবাহনী, টিসি স্পোর্টস ও মোহনবাগানের সঙ্গে অন্য দলটি লাওসের ইয়াং এলিফ্যান্ট। আজ সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম আবাহনী ও টিসি স্পোর্টসের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে এই আসরের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা